খুঁজুন
, ,

চিকিৎসক সংকটে অচল সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ জরুরি ও ইনডোর সেবা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
চিকিৎসক সংকটে অচল সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ জরুরি ও ইনডোর সেবা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম চিকিৎসক সংকটের কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজারসংলগ্ন এই সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটিতে ৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। ফলে আউটডোর কোনোভাবে চালু রাখা হলেও বন্ধ রয়েছে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের পাশাপাশি এখানে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো টেকনিশিয়ান ও নিরাপত্তা প্রহরী। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার খোয়াড় গ্রামের সানোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও এখন চিকিৎসক সংকট দেখিয়ে সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জরুরি বিভাগে এসে দেখি তালা ঝুলছে, কোনো চিকিৎসক নেই। অথচ বিকেল হলেই ওই চিকিৎসকদের অনেককে বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে টাকা নিয়ে রোগী দেখতে দেখা যায়।”

একই অভিযোগ করেন সালথার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবাকে হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফরিদপুর শহরে নিতে হয়েছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত খরচ—দুটোই বেড়েছে।”

আরেক ভুক্তভোগী সুজন মাতুব্বর বলেন, “ডাক্তারের অভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো যায় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও বাইরে যেতে হয়। তাহলে এই হাসপাতাল রেখে লাভ কী?”

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমাদের এখানে ৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩ জন রয়েছেন। এই স্বল্প জনবল দিয়ে জরুরি ও ইনডোর সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নেই সিকিউরিটি গার্ড ও টেকনিশিয়ান। তাই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকলেও জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক সংকট ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একাধিকবার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি।

এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে অতিশ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করবেন। সেখান থেকে ৮ জন চিকিৎসক সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসক যোগদান করা মাত্রই জরুরি বিভাগ পুনরায় চালু করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় সিকিউরিটি গার্ড আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়া যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

 

ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হলরুমে এ সভার আয়োজন করে ‘স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর’।

​কর্মসূচিতে কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং তুহিন বিন আলমগীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা গিয়াস।

​মূল প্রবন্ধে ডা. সাবরিনা গিয়াস বলেন, “উচ্চঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।” টিকার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানে উৎসাহিত করা জরুরি। আর্থিক কারণে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় দুটি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে তৃতীয় টিকাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজেন্দ্র কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ওবায়দুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর তারেক হোসাইন ও রাজবাড়ী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বড়। তাই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, এই ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হল সুপার, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাসুদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। মাসুদা বেগম ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে প্রায় ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।