খুঁজুন
, ,

বাড়িতে পানি ঢুকলে সবার আগে যে ৭টি কাজ করবেন? জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাড়িতে পানি ঢুকলে সবার আগে যে ৭টি কাজ করবেন? জেনে নিন

টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বাড়িঘর। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কে কী করবেন, আর কী করবেন না, তা বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ শুরুতেই নেওয়া কয়েকটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রাণহানি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ এবং আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করলে সবার আগে নিচের সাতটি কাজ করা উচিত।

১. নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

ঘরের আসবাব, টেলিভিশন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস বাঁচানোর চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে বা স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আগে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

২. নিরাপদ হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া। যদি নিরাপদভাবে মূল সুইচে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। তবে পানিতে দাঁড়িয়ে বা ভেজা অবস্থায় কখনোই সুইচ স্পর্শ করবেন না। একইভাবে গ্যাসের সংযোগও বন্ধ করে দিন। যদি সুইচ পানির নিচে চলে যায়, তাহলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তা নিন।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওষুধ নিরাপদ স্থানে রাখুন

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাসনদ, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, জমির দলিল, নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল ফোন, চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক জলরোধী ব্যাগে ভরে উঁচু স্থানে রাখুন। সম্ভব হলে এসব কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আগে থেকেই ক্লাউড বা ই-মেইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।

৪. বন্যার পানিকে নিরাপদ ভাববেন না

বন্যার পানিতে নর্দমার ময়লা, জীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ, ধারালো বস্তু কিংবা সাপসহ বিভিন্ন প্রাণী থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে পানিতে নামবেন না। নামতে হলে বুট বা শক্ত জুতা ব্যবহার করুন। শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখুন।

৫. নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় পানিবাহিত রোগ। তাই বোতলজাত বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি পান করুন। বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাবেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও পরিহার করুন। প্রয়োজনে ওআরএস, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই আলাদা করে রাখুন।

৬. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন

প্রতিটি পরিবারের একটি জরুরি ব্যাগ থাকা উচিত।

এই ব্যাগে রাখতে পারেন—

প্রয়োজনীয় ওষুধ

টর্চলাইট

অতিরিক্ত ব্যাটারি

মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক

শুকনো খাবার

বিশুদ্ধ পানি

প্রয়োজনীয় পোশাক

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র

নগদ টাকা

বাঁশি বা জরুরি সংকেত দেওয়ার উপকরণ

হঠাৎ বাড়ি ছাড়তে হলে এই ব্যাগই সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে।

৭. পানি নেমে গেলেও তাড়াহুড়া করে ঘরে ফিরবেন না

পানি কমে গেলেই ঘর নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘরে ঢোকার আগে দেয়াল, মেঝে, বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাসলাইন এবং ভবনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজন হলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘর পরিষ্কার করুন। কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ভিজে গেলে তা শুকানোর আগে চালু করবেন না।

মনে রাখুন

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই জরুরি পরিকল্পনা জানিয়ে রাখুন। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকি নেবেন না। দুর্যোগের সময় সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিডিসি ও আমেরিকান রেড ক্রস

ফরিদপুরে লুট হওয়া পুলিশের ২৭ রাউন্ড কার্তুজ-গ্রেনেড উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লুট হওয়া পুলিশের ২৭ রাউন্ড কার্তুজ-গ্রেনেড উদ্ধার

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে পুলিশের লুট হওয়া ২৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি টিয়ার গ্যাস শেল ও ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০।

​বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কানাইপুর এলাকার আখ সেন্টার মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কানাইপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ওই ভবনে তল্লাশি চালিয়ে তাজা কার্তুজ ও দেশীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা ও পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ।

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের আলিপুর এলাকার সোহাগ ভিলায় এ সাহিত্য আসরের আয়োজন করা হয়।

​গাঙচিল সাহিত্য আসরের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ারাদ হোসেন রিয়াদ (বন্ধু রিয়াদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা। সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মোল্লার আমন্ত্রণে আয়োজিত এই আসরে জেলার প্রায় ৪১ জন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী অংশ নেন।

​দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান পরিবেশন এবং সাহিত্য বিষয়ক নানা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মো. বাহারুল ইসলাম (বাহার), মো. ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান ফরিদ, শাহনাজ পারভিন, ডা. হাফিজুর রহমান হাফিজ, সালমা ইসলাম, পলাশ নন্দী, যুগল কুমার দাস মিলন, আফরোজ জাহান পপি, আবিদা সুলতানা, ডা. হাসিনা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুদ্দীন শেখ, সুস্মিতা দাস, ঋষিতা দাস, সুমা সাহা, সিথী সাহা, রেজা হক, মিরাজ-ই-কবির খোকন, ইফরাজ হোসেন সায়ান, ইকারাদ হোসেন, মো. আক্তার হোসেন রিয়াদ, মো. শাহজাহান সরদার, আবু জাফর, মো. আব্দুছ ছামাদ, অজয় দাস তালুকদার, পারভীন, বাবল সরকার, সজল সিকদার বিদ্যুৎ, ফরিদ আহমেদ, শালমান শরিফ, দেবাশীষ মৌলি ও রোকিয়া হকসহ স্থানীয় গুণীজনেরা।

​আয়োজকরা জানান, নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করাই ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’-এর মূল লক্ষ্য।

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ছয়টি পরিবহনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের বদরপুর-সালথা রাস্তার মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

​‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্ব মূলক প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত এ অভিযানে ৬টি পরিবহনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি যানবাহনগুলো থেকে ১১টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জিহাদ হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন ফরিদপুর জেলার আনসার সদস্যরা।

​পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষায় ও ক্ষতিকর শব্দদূষণ নিরসনে এ ধরনের অভিযান জেলা জুড়ে অব্যাহত থাকবে।