খুঁজুন
, ,

কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একটি ভূখণ্ডে যখন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রস্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করে, তখন দেশের সুষম উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ২০১৮ সালে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দিয়ে আইন পাস করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।

এর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থীর সামনে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আইনি স্বীকৃতি মিললেও প্রায় এক দশক পার হয়ে যাওয়ার পরও এই স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন আজও অধরাই থেকে গেছে। ফলে যে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে এই সিদ্ধান্তের সূচনা হয়েছিল, তা যেন আজ এক অদৃশ্য দেয়ালে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

কওমি সনদের এই খণ্ডিত স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর নিচের স্তরগুলোর কোনো স্বীকৃতি না থাকা। একজন শিক্ষার্থী যখন দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, তখন তিনি কেবল মাস্টার্স সমমানের একটি সনদ পান। কিন্তু এর পূর্ববর্তী ধাপগুলো অর্থাৎ ইবতিদাইয়্যাহ, মুতাওয়াসসিতাহ, সানাবিয়্যাহ ও ফজিলতকে যথাক্রমে প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি সমমান প্রদান করা হয়নি।

যেকোনো সাধারণ বা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের সনদের তথ্য এবং জিপিএ উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের নিচের স্তরগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় সমমান না থাকায় তারা চাইলেও সাধারণ চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে মাস্টার্স সনদ পকেটে নিয়েও হাজার হাজার মেধাবী তরুণ বেকারত্বের গ্লানি টানছেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি বাড়াতে পারছেন না। এটি কেবল ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার নয়, বরং জাতীয় মেধার অপচয়ও বটে।

অন্যদিকে, শুধু সনদ দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না, যদি না সেই সনদের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কওমি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দৃশ্যমান নেই। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিসিএস-এর সাধারণ ক্যাডারগুলোতে আবেদনের জন্য যে ধরনের সমন্বিত যোগ্যতা ও বয়সসীমার ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন, তা কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আজও পুরোপুরি স্পষ্ট বা প্রস্তুত করা হয়নি। এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা হয় কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই বৈষম্য দূর না হলে সমমান প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তবে কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কেবল সরকারের দিকে চেয়ে থাকলেই চলবে না, কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকেও যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে হবে। কওমি মাদ্রাসার নিজস্ব স্বকীয়তা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখেই তাদের পাঠ্যক্রমে আধুনিক ভাষা শিক্ষা বিশেষ করে ইংরেজি, আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সনদের কার্যকর ব্যবহারের জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে একটি বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন তৈরি করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীরা শুধু সনদের জোরে টিকতে পারবেন না।

সবশেষে বলা যায়, কওমি সনদের স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। একে অর্থবহ করতে হলে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআ’তিল কওমিয়া বাংলাদেশ-কে একসাথে বসে এই অচলাবস্থা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কওমি শিক্ষার্থীদের মেধা ও শ্রমকে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হলে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সরকার এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

লেখক: সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”