খুঁজুন
, ,

কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একটি ভূখণ্ডে যখন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রস্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করে, তখন দেশের সুষম উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ২০১৮ সালে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দিয়ে আইন পাস করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।

এর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থীর সামনে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আইনি স্বীকৃতি মিললেও প্রায় এক দশক পার হয়ে যাওয়ার পরও এই স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন আজও অধরাই থেকে গেছে। ফলে যে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে এই সিদ্ধান্তের সূচনা হয়েছিল, তা যেন আজ এক অদৃশ্য দেয়ালে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

কওমি সনদের এই খণ্ডিত স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর নিচের স্তরগুলোর কোনো স্বীকৃতি না থাকা। একজন শিক্ষার্থী যখন দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, তখন তিনি কেবল মাস্টার্স সমমানের একটি সনদ পান। কিন্তু এর পূর্ববর্তী ধাপগুলো অর্থাৎ ইবতিদাইয়্যাহ, মুতাওয়াসসিতাহ, সানাবিয়্যাহ ও ফজিলতকে যথাক্রমে প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি সমমান প্রদান করা হয়নি।

যেকোনো সাধারণ বা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের সনদের তথ্য এবং জিপিএ উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের নিচের স্তরগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় সমমান না থাকায় তারা চাইলেও সাধারণ চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে মাস্টার্স সনদ পকেটে নিয়েও হাজার হাজার মেধাবী তরুণ বেকারত্বের গ্লানি টানছেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি বাড়াতে পারছেন না। এটি কেবল ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার নয়, বরং জাতীয় মেধার অপচয়ও বটে।

অন্যদিকে, শুধু সনদ দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না, যদি না সেই সনদের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কওমি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দৃশ্যমান নেই। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিসিএস-এর সাধারণ ক্যাডারগুলোতে আবেদনের জন্য যে ধরনের সমন্বিত যোগ্যতা ও বয়সসীমার ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন, তা কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আজও পুরোপুরি স্পষ্ট বা প্রস্তুত করা হয়নি। এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা হয় কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই বৈষম্য দূর না হলে সমমান প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তবে কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কেবল সরকারের দিকে চেয়ে থাকলেই চলবে না, কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকেও যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে হবে। কওমি মাদ্রাসার নিজস্ব স্বকীয়তা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখেই তাদের পাঠ্যক্রমে আধুনিক ভাষা শিক্ষা বিশেষ করে ইংরেজি, আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সনদের কার্যকর ব্যবহারের জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে একটি বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন তৈরি করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীরা শুধু সনদের জোরে টিকতে পারবেন না।

সবশেষে বলা যায়, কওমি সনদের স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। একে অর্থবহ করতে হলে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআ’তিল কওমিয়া বাংলাদেশ-কে একসাথে বসে এই অচলাবস্থা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কওমি শিক্ষার্থীদের মেধা ও শ্রমকে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হলে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সরকার এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

লেখক: সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।