খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সমালোচনা: ভোটারদের জন্য কী ইঙ্গিত?

মরিয়ম সুলতানা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সমালোচনা: ভোটারদের জন্য কী ইঙ্গিত?

বাংলাদেশে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভোটের প্রচারণা শুরু হয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। সরাসরি নাম উল্লেখ করে কেউ কাউকে দোষারোপ না করলেও প্রথম দিনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারাই পরোক্ষভাবে অপর পক্ষের দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলেছেন।

অথচ, এর আগে দুই দলের নেতারা বলেছিলেন যে, তারা আর দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরবেন না।

তবে প্রচারণায় দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াত বাংলাদেশের পুরোনো রাজনৈতিক ধারা মেনেই নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে চাইছে। এজন্য তারা চিরচেনা বাকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

দল দুটির নেতারা অবশ্য তাদের বক্তব্যের পেছনে নানা যুক্তি দিচ্ছেন। বিএনপি’র মতে, তারা জামায়াতকে দোষারোপ করছে না, সত্য বলছে।

আর জামায়াতে ইসলামী বলছে, তারা যেটাই বলছে, তার পেছনে মূল কারণ আত্মরক্ষা।

প্রচারণার শুরুতে কী বলেছে বিএনপি-জামায়াত

বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে।

ওইদিন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রথমদিনেই তিনি সিলেটের একাধিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন এবং বক্তব্যে তিনি সরাসরি না হলেও জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। দলটির বিরুদ্ধে তিনি ‘মিথ্যাচার’ করা, মানুষকে ‘ঠকানো’ ও ‘শিরিক’ করার অভিযোগ এনেছেন।

এমনকি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কথাও টেনে আনেন তারেক রহমান।

মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে নারীদের ‘একটি দল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা মি. রহমান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।

তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

এছাড়াও, তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে… বেহেস্তের মালিক আল্লাহ…যেটার মালিক মানুষ না, সেটার (দেওয়ার) কথা যদি সে বলে, তাহলে এক তো শিরক হচ্ছে, সবকিছুর ওপরে আল্লাহ’র অধিকার। কাজেই তারা আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে বোঝেন এবার।”

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে মি. রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে “মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।”

সিলেট থেকে সড়কপথে হবিগঞ্জে আসার আগে মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেছেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ একাত্তরে দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। একাত্তরে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”

অথচ, চারদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন, দোষারোপের রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে। “দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না।”

অন্যদিকে, বিএনপি সিলেট থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও জামায়াতে ইসলামী শুরু করেছে ঢাকা থেকেই।

২২শে জানুয়ারি, প্রচারণার প্রথম দিন মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

প্রথমদিনের সমাবেশে তিনি “আমি কারো সমালোচনা করতে চাই না” বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।

“ভোট ডাকাতদের কারণে গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি এবং দেশের মানুষ নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান না” বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, “আর এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে সামনে আসে, পাঁচই অগাস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে।”

বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সমাবেশে বলেন, “আপনারা কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।”

এছাড়া, “চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে,” বলেন শফিকুর রহমান।

দেখা যাচ্ছে, ‘দোষারোপ’, ‘সমালোচনা’ না করার কথা বললেও একই পথে হাঁটছে বিএনপি-জামায়াত।

যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন নেতারা

পুরোনো রাজনীতির ধারাতেই প্রতিপক্ষের সমালোচনা ও ‘দোষারোপ’ করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমাদেরটা দোষারোপ নয়, (১৯৭১কে) মনে করিয়ে দেওয়া।”

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জামায়াত যা করেছে, তা প্রমাণিত সত্য। আমরা যা বলছি, তা হিস্ট্রি থেকে বলছি। জামায়াত বলছে মনগড়া কথা।”

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে যখন বিএনপি গঠিত হয়, তখন সেখানে মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল। জামায়াতকে স্বীকার করতে হবে, উই মেড আ মিস্টেক। তারা ডিনায়ালে থাকলে আমরা তাদেরকে বারবার মনে করিয়ে দিবো।”

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে বিএনপি’র যুক্ত থাকা নিয়ে জামায়াত যে অভিযোগ করছে, সে বিষয়ে বিএনপির ওই নেতার বক্তব্য হচ্ছে, এখানে বরং “জামায়াত নিজেই সন্ত্রাসী।”

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রেউদাহরণ দিতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “ওদের ট্র্যাক রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাবে ওরা কী করেছে। রগ কাটা…ছাত্রলীগের মাঝে ঢুকে কী করেছে তা সবাই জানে…ওরাই বড় চাঁদাবাজ।”

অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবিসিকে বলেন, “আমরা দোষারোপের রাজনীতি করছি না। আমাদের সম্পর্কে একটা দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তাদের কথায় মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। সে কারণে আমাদেরকে আমাদের অবস্থানটা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।”

মি. জুবায়ের এ-ও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর “মূল উদ্দেশ্য, সামনে আমরা কী করতে চাই, তা তুলে ধরা। কিন্তু কেউ আমাদের দোষারোপ করলে আত্মরক্ষার্থে…আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।”

গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়ার পর তখন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমান পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন।

শফিকুর রহমান তখন কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে সিলেটে আয়োজিত এক সমাবেশে বলেছিলেন, “একদল দখলদার বনতে গিয়ে তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে। একদল জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আরেক দল একই পথ ধরেছে, এমনকি নিজেদের মধ্যে মারামারিতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে।”

ধারণা করা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। ফলে এটি বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিলো তখন।

তবে শফিকুর রহমানের কথার জবাবে তখন পরদিনই তারেক রহমান এক ভার্চুয়াল বক্তৃতায় বলেছিলেন, “তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে, ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে; ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছিলো ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য”।

তারেক রহমান তখন আরও বলেছিলেন, “কেউ কেউ বলে থাকে পলাতক স্বৈরাচার (আওয়ামী লীগ) বিএনপির সম্পর্কে যেভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানীং লক্ষ্য করছি, কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দু’জন ব্যক্তি আমাদের সাথে সেইসময় সরকারে ছিল।”

দুই দলের এই শীর্ষ নেতার বাকযুদ্ধ নিয়ে তখন ‘বিএনপি ও জামায়াতের তিক্ততা বা কথার যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে কেন‘ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো বিবিসি বাংলা।

ওই প্রতিবেদনেও জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছিলেন, “বিএনপির দিক থেকে কিছু আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসছে যা অপ্রত্যাশিত।”

এ প্রসঙ্গে তখন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, “আমরা যা বলছি তা ইতিহাস ভিত্তিক ও সত্যি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।”

প্রচারণার ধরণ কী বার্তা দিচ্ছে

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরোনো ধারাতেই চলছে।এর প্রকাশ দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের নির্বাচনী প্রচারণায়।

“বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজমান, তাতে শুধুমাত্র অন্যকে হেয় করা বা দোষারোপ করা, প্রতিপক্ষকে হেনস্তার মুখোমুখি করার মতো ভাষা ব্যবহার করা হয়। কারণ দলগুলো মনে করে, অন্যকে নিচু করার মধ্য দিয়ে জয় নিশ্চিত হবে,” বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন।

বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলই বলেছে যে, তারা দোষারোপের রাজনীতি করবে না। বরং, তারা শুধু নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দু’টো দলই তাদের দেওয়া কথা রাখছে না। বরং, বাংলাদেশের সংস্কৃতির পুনঃউৎপাদন চলছে এবং নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এগুলোর প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মিজ নাসরীন।

তবে দোষারোপের রাজনীতি অনেকসময় আক্রমণাত্মক রাজনীতি হয়ে ওঠে; পরিবেশকে অনিরাপদ করে তোলে, এমনকি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে হত্যার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি” টার্মটিকেই “রাজনৈতিক” বলা হয় এবং তিনি মনে করেন, এই কথাটির কোনো গুরুত্ব গুরুত্ব নেই। কারণ “রাজনীতির খেলাটাই হলো শত্রু-মিত্র খেলা। এখানে আপনি আপনার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করতে পারলে আপনি দুর্বল হিসেবে প্রমাণিত হবেন।”

“যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ আহত-নিহত না হয়। যদি ভায়োলেন্স হয়, তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে,” যোগ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার যে রীতি, এটি ভোটের ময়দানে জনমত তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কারণ অনেকসময় ভোটাররা মিথ্যাকেও সত্য মনে করে।

সেইসাথে, এখন দলগুলো বিপরীত মেরুতে হাঁটলেও “নির্বাচন শেষে তারা এগুলো ভুলেও যেতে পারে, এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেও যেতে পারে। আজকে যারা পরস্পরের শত্রু, ভবিষ্যতে তারা কাছাকাছিও আসতে পারে। রাজনীতিতে শেষ কথা তো কিছু নাই,” বলেন মি. আহমেদ।

বিএনপি ও জামায়াত কোন পথে এগোতে চাইছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় পাঁচটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সে বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

প্রথম কর্মসূচি ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন,’ এতে কিউআর কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে মতামত ও প্রস্তাব পাঠাতে পারবেন।

দ্বিতীয় কর্মসূচি ‘লেটার টু তারেক রহমান’, যেখানে চিঠি, ই-মেইল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকদের ভাবনা নেওয়া হবে।

তৃতীয় ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিএনপির নীতি নিয়ে মতামত দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ হচ্ছে চতুর্থ কর্মসূচি। এর আওতায় তারেক রহমান সিলেটে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও যুব ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। সভায় ১২৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

পঞ্চম কর্মসূচি, বিএনপি বিভিন্ন খাতে তাদের নীতি ও ভিশন তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করবে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীরও এই ধরনের কোনো প্রচারণা কর্মসূচি আছে কিনা, জানতে চাইলে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি দলটি।

তবে দলটির নেতা মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী ভোটারদের জন্য – এলাকাভিত্তিক কাজ করতে চাইছে। বিশেষ করে নারী, যুবক, তরুণ এবং ছাত্রদের জন্য।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা