খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৬০ পরিবার বাড়িছাড়া, ৭০ বিঘা পাট কাটতে পারছেন না বিএনপি নেতাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৬০ পরিবার বাড়িছাড়া, ৭০ বিঘা পাট কাটতে পারছেন না বিএনপি নেতাকর্মী

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করা, হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ফসলি জমিতে যেতে বাধা, চাঁদা দাবি এবং হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং তার অনুসারীদের নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। সরকারের পট পরিবর্তনের পর কিছুদিন পালিয়ে থাকলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ফিরে এসে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, জয়পাশা গ্রামের নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, গবাদিপশু লুটপাট, জমিতে যেতে বাধা এবং মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব ঘটনার কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছেন না। এছাড়া মাছের ঘের থেকে মাছ লুট ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, ১৭ বছর বয়স থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি সরকারের আমলেও মান্নান মাতুব্বরের লোকজন তার বাড়ি থেকে গবাদিপশু লুট করেছে এবং তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস বাড়িছাড়া। মান্নান মাতুব্বর তার কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এখনও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, মান্নান মাতুব্বরের প্রভাবের কারণে তিনি নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, জয়পাশা গ্রামের তার ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করায় তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনের উপর মহলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ভুক্তভোগীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান মাতুব্বর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক দুই যুবককে মোটরসাইকেলসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব জানান, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে কিশোরী, তার অপর বোন ও ছোট ভাই অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটকরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের কারণে আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে
নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”

‘ভালোবাসার গল্প’

শরীফ খান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
‘ভালোবাসার গল্প’

আজও যখন বকুল ফুল নীরবে ঝরে পড়ে, মনে হয় সময় তার অদৃশ্য ডানায় ভর করে দুই যুগ পেছনে ফিরে যায়। বাতাসে ভেসে আসে বেলী ফুলের মৃদু সুবাস, আর পুকুরপাড়ের সেই পুরোনো হিজল গাছটি আজও নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে যেন জানে—সব গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয় না; কিছু গল্প অসমাপ্ত থাকাই তাদের নিয়তি।

যুগ যুগ আগে আমাদের ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল। কত স্বপ্ন, কত প্রতীক্ষা, কত অদেখা পথের আহ্বান ছিল সেই দিনগুলোতে। মনে হয়েছিল, জীবনের দীর্ঘ নদী আমরা পাশাপাশি হেঁটেই পার হব। কিন্তু সময়ের নিজস্ব এক নির্মম ব্যাকরণ আছে; সে সব প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণতার ঠিক আগে থামিয়ে দিতে জানে।

জীবন আমাদের ভিন্ন ভিন্ন তীরে পৌঁছে দিয়েছে। অথচ হৃদয়ের গভীরতম কক্ষে একটি প্রদীপ আজও জ্বলে আছে—নিভৃত, নির্মল, অবিচল। সেই আলোয় এখনো বেঁচে আছে আমাদের প্রথম ভালোবাসা; কোনো দাবি নেই, কোনো অভিমান নেই, শুধু নীরব অস্তিত্ব।

আজ তোমার ৪৩তম জন্মদিন। বহুদিন ধরে মনে ছিল, তোমাকে কিছু দেব। এমন কিছু, যার মূল্য অর্থে নয়, অনুভূতিতে; যা বহন করবে বহু বছরের মমতা, নীরব অপেক্ষা আর অক্ষয় শুভকামনা। তাই তোমার জন্য আমার এই হালকা বেগুনি শাড়ি।

এই কোমল বেগুনি রঙে মিশে আছে গোধূলির নিস্তব্ধতা, শ্রাবণের ভেজা আকাশের মায়া, আর সেই অনুভূতিগুলোর মিষ্টি আলো, যাদের ভাষা নেই, অথচ গভীরতা আছে। এই রঙ যেন বলে—ভালোবাসা সবসময় কাছে পাওয়ার নাম নয়; কখনও কখনও দূরে থেকেও কারও জীবনের জন্য নিঃশব্দে আলো হয়ে থাকার নামই ভালোবাসা।

আমার প্রিয় ফুল বকুল, বেলী, হিজল। বকুল ফুল আমাকে শিখিয়েছে—ঝরে পড়েও সুবাস বিলিয়ে যেতে হয়। বেলী ফুল শিখিয়েছে—নির্মল অনুভূতির কোনো ক্যালেন্ডার নেই; সময় তার সৌন্দর্য কেড়ে নিতে পারে না। আর হিজল গাছ প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়—জল, ঝড়, ঋতু কিংবা সময়—সবকিছুর পরও কিছু শিকড় মাটির গভীরে অটুট থেকে যায়।

আমাদের ভালোবাসা হয়তো পূর্ণতার গল্প হয়ে ওঠেনি। একই ছাদের নিচে জীবন কাটানোর স্বপ্ন বাস্তবের পৃষ্ঠায় লেখা হয়নি। কিন্তু তাই বলে সেই অনুভূতিগুলো কখনো মিথ্যে হয়ে যায়নি। বরং সময় তাদের অহংকার ধুয়ে দিয়েছে, ব্যথাকে পরিণত করেছে প্রার্থনায়, আর ভালোবাসাকে রূপ দিয়েছে এক নিঃস্বার্থ আশীর্বাদে।

আজ তোমার জন্মদিনে আমার একটাই প্রার্থনা—তুমি ভালো থেকো। তোমার প্রতিটি সকাল বকুলের সুবাসে ভরে উঠুক। প্রতিটি বিকেল হোক বেলী ফুলের কোমল প্রশান্তিতে আলোকিত। প্রতিটি পথচলায় হিজল গাছের মতো দৃঢ়তা তোমার সঙ্গী হোক। জীবনের প্রতিটি ঋতু তোমাকে দিক শান্তি, প্রাপ্তি আর অনন্ত আলো।

কোনো একদিন যখন এই হালকা বেগুনি শাড়িটি পরবে, হয়তো এক মুহূর্তের জন্য তোমার মনে ভেসে উঠবে বহু বছর আগের একটি বিকেল। হয়তো মনে পড়বে—একটি ভালোবাসার গল্প, যার কোনো সমাপ্তি লেখা হয়নি, তবু যা কখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ কিছু সম্পর্ক মিলনের মধ্য দিয়ে নয়, স্মৃতির মধ্য দিয়েই অনন্ত হয়ে থাকে।

এতো বছর পরেও তোমার জন্য আমার ভালোবাসা কোনো প্রাপ্তির ইতিহাস নয়, কোনো অপূর্ণতার অভিযোগও নয়। এটি এক নীরব প্রার্থনা, এক অনন্ত শুভকামনা—যেখানে তুমি সবসময় সুখী থাকবে, সুস্থ থাকবে, হাসিমুখে বাঁচবে।

হয়তো এটাই ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মল রূপ—যেখানে অধিকার নেই, আছে শুধু আশীর্বাদ; যেখানে প্রাপ্তি নেই, আছে শুধু অন্তহীন মঙ্গলকামনা।

আর সেই মঙ্গলকামনার ভেতরেই আমার ভালোবাসা আজও নিঃশব্দে বেঁচে আছে।

ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কুজুরদিয়া গ্রামের দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ভাইরাসজনিত অসুস্থতার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির বাবা মো. আলিম শেখ জানান, তার একমাত্র ছেলে আয়তুল্লাহ (১ বছর ৬ মাস) গত ২০ থেকে ২১ দিন আগে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়ার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে গত ২৯ জুলাই আবারও তার নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়।

এলাকাবাসী জানান, ওই রাতে শিশুটির মা জুই আক্তার তাকে বুকের দুধ পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শিশুটির হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভাইরাসজনিত কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি অপমৃত্যু হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”