খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে খানাখন্দে বিপর্যস্ত ৬ কিমি সড়ক, চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

মেহেদী সোহেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খানাখন্দে বিপর্যস্ত ৬ কিমি সড়ক, চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসের হাট থেকে চরনশিপুর, ভাসানচর ও অম্বিকাপুর হয়ে শহরের আলীপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও ভাঙা কিনারার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা জানান, কয়েক মাস আগে লক্ষীদাসের হাট থেকে ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে কাচারিটেক বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ সংস্কার করা হলেও ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী পরস উল্লাহপাড়া হয়ে শাজাহান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার অংশ সংস্কারের বাইরে রাখা হয়। বর্তমানে ওই অংশে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

একই অবস্থা অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কেও। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সেগুলো চোখে পড়ে না। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন, এতে সময় ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বাড়ছে।

ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরিফা সুলতানা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

অটোরিকশা চালক রিপন শেখ জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি মাকে এই সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে না পারায় রোগীদের অটোরিকশায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে শিবরামপুর মহাসড়ক হয়ে ফরিদপুর শহরে নিতে হয়। এতে রোগীর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি সময় ও ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে সড়কটির সংস্কার হলেও রহস্যজনকভাবে প্রায় ৩০০ মিটার অংশ বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া সংস্কারকাজের মানও সন্তোষজনক ছিল না। ফলে মাত্র দুই বছরের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, আগেরবার কেন ৩০০ মিটার অংশ বাদ পড়েছিল তা জানা নেই। তবে চলতি অর্থবছরে ওই অংশসহ পুরো সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বছরের শেষদিকে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সড়কটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।