খুঁজুন
, ,

দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

তেল ফুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে আসেন ফারুক মোল্লা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাড়ে এগারোটা নাগাদ জ্বালানি তেল পান তিনি।

ফারুক মোল্লা বলেন, চালক হিসেবে ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন সংকট তিনি দেখেননি।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

সড়কের ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে সকাল থেকে সেটি দুপুর পর্যন্ত সেখানে পেট্রোল অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে পাম্প থেকে ডিজেলে সরবরাহ করতে দেখা যায়।

আমদানি করা তেলের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। কিন্তু এখন শহরে গ্রামে তেলের জন্য যে হাহাকার এবং দীর্ঘ সারি তার অধিকাংশই অকটেন ও পেট্রোলের জন্য।

তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের।

ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

পেট্রোল-অকটেনের উৎপাদন কত

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে।

এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু

বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

মি. সরকার বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

“দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। “

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন

বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

“প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

“রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।”

“আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।”

সরকারের পদক্ষেপ কী

সরকার জানাচ্ছে, যে দেশে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। চাহিদা পূরণে আরো কেনা হচ্ছে।

মে মাস পর্যন্ত তেলের চাহিদা পূরণ করতে বেশি দামে তেল আমদানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ইরান যুদ্ধের কারণে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রবলেম হয়েছে দেখেই তো আমি বেশি দাম দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে তেল এনে স্টক করতেছি।”

মে মাস পর্যন্ত চলার মতো জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আরো জাহাজ আসবে, আরো তেল আসবে।”

সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ পড়লেও তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আর সেই সাপ্লাইকে ডিসরাপ্ট করতেছে কালোবাজারিরা।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ফুয়েল কার্ড, রাজশাহীতে গাড়ির জোড় ও বেজোড় নম্বর অনুযায়ী আলাদা দিনে তেল সরবরাহের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোটরসাইকেলের জন্য কিউআর কোড চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“আমদের তো প্রবলেম বাইক। আমরা ঢাকাতে কিউআরকোড করতেছি। আমরা প্রত্যেকটা বাইকারদের কাছে কিউআর কোড দিয়ে দেব। ওই কিউআর কোড ধরলে কী পরিমাণে তেল সে পাবার কথা পেয়ে যাবে। সারাদিনে অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে আর তেল পাবে না।”

মন্ত্রী জানান, দেশে অভিযান পরিচালনা করে তেল অবৈধ মজুত উদ্ধার করা হচ্ছে। সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে।

“আমাদের মজুদের কোনো অসুবিধা নাই। আমাদের তেলের সাপ্লাই হচ্ছে। এখন আমার সারা বছরের যে প্ল্যানিং থাকে কোন পাম্পে কোন তেল দেব প্রতিদিন, সেই তেল সাপ্লাই করছি। এখন ডিমান্ড হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সেই তেল যদি শেষ হয়ে যায় সেটা তো কিছু করার নাই আমার। আমার সাপ্লাই লাইন ও ঠিক আছে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে দৈনিক ১৬০ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।

“আমরা তেলের দাম এ মাসেও বাড়ালাম না। জনগণ যদি একটু সাশ্রয়ী হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যদি তেল না কেনে তাহলে পরে এসব ভিড় টিড় কিছুই থাকবে না এবং সাপ্লাইও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

ইরান যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের তেলের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমদানি নির্ভর জ্বালানির মধ্যে বাংলাদেশের বড় চাহিদা হচ্ছে ডিজেল ও এলএনজির। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটে ভবিষ্যতে ডিজেল ক্রুড অয়েল ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করাটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের।

জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেলের আমদানির ব্যবস্থাও সরকার করছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি মূল্যবান হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে ও ঘষামাজা করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে দুদকের করা মামলায় আদালতে হাজির হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (দলিল নং-৪০৬৭, তারিখ ১৫ মে ২০১৭) জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজন পরস্পরের যোগসাজশে দলিলের মূল কপির ষষ্ঠ পৃষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে এবং ঘষামাজা করে দলিলের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তন করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দলিলে থাকা স্ট্যাম্প নং-০৩১৭১৯৭-এর শেষ লাইনের পর “যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন” অংশটি অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। পরে পরিবর্তিত দলিলটি বালামভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক স্বাক্ষরও সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে দলিলের প্রকৃত গ্রহীতা ও অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে প্রায় ৯ শতাংশ জমির দখল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের মামলা নং-০২ (দুদক জি.আর-৬/২৬) হিসেবে রুজু করা হয়।

মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়া, তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান, নকলকারক মনোয়ার হোসেন, পাঠক মো. জাহিদ শেখ এবং দলিলের দাতা মো. জিন্নাহ শেখ।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে যদি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মামলাটি ফরিদপুরে সরকারি নথি জালিয়াতি ও ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

ফরিদপুরের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সালথার পেঁয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান, ন্যায্যমূল্য সংকট ও সংরক্ষণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্য পতন, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এর আগে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সালথার কয়েকজন কৃষক ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। সেই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কৃষকদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির একটি বড় অংশই পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২২ থেকে ২৩ টাকা দরে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনও আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে। তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে সালথার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষি উপকৃত হবেন।”

জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

জ্বর আসলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই অবস্থায় গোসল করা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। কেউ বলেন জ্বর থাকলে একদমই গোসল করা যাবে না, আবার কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বর কমে যাবে।

এই নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়না।

ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা

সাধারণত মনে করা হয় যে জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, হালকা গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করা অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য না করলেও রোগীকে অনেকটা সতেজ ও আরামদায়ক অনুভব করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে ঘাম পরিষ্কার হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কেন ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলবেন?

অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে। কিন্তু চিকিৎসকরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ডা. রায়নার মতে, খুব ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, যা পেশিতে তাপ তৈরি করে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা পানি অস্বস্তি এবং কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গরম পানিও ক্ষতিকর

ঠান্ডা পানির মতো অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি:

ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে।

মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।

কখন গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন?

জ্বর থাকলেও গোসল করা নিরাপদ হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি রোগী:

প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন।

মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়।

বিভ্রান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকেন।

নিজে নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন।

খুব বেশি জ্বরের সাথে গুরুতর অসুস্থতা থাকে। এমন অবস্থায় গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সুস্থ হতে আরও যা প্রয়োজন

মনে রাখতে হবে, জ্বর কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরে অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে চিকিৎসকরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন:

প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।

পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়া।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জ্বরের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, জ্বর মানেই গোসল বন্ধ নয়। নিয়ম মেনে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীর পরিষ্কার থাকবে এবং আপনি মানসিকভাবেও স্বস্তি বোধ করবেন, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি