খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে নারী ও শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি সভা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী ও শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি সভা

ফরিদপুরে নারী ও শিশু যৌন পাচার থেকে ফিরে আসা সারভাইভারদের সুরক্ষা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (০৪ মে) ফরিদপুর শহরের শাপলা মহিলা সংস্থার এসকেসিডিসি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘Enhancing Protection of Child Sex Trafficking Survivors in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ফ্রিডম ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এবং শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে এ সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মন্ডল এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে সংস্থার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্যামল প্রকাশ অধিকারী যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারী ও শিশুদের নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনি সহায়তার অভাব, সামাজিক অবহেলা, সরকারি সুবিধা পেতে জটিলতা এবং পাচার হওয়া শিশুদের বয়স জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো সারভাইভারদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী খান (বুলু) বলেন, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে যৌনকর্মে নিয়োজিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউশুদা হোসেন বলেন, সারভাইভারদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ‘হাব’ কেন্দ্র থেকেও তারা প্রয়োজনীয় সুবিধা পেতে পারেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালারা যদি সংস্থার কাজে বাধা দেয়, তবে তাদের তালিকা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুয়া নোটারি ও জাল কাগজপত্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার মনিটরিং অফিসার বিধান চন্দ্র রায়, ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার বাড়ৈ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার এম. এ. নাহার, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন, আইনজীবী ও নোটারি পাবলিক শম্পা চক্রবর্তী, ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তরুণ সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শাপলা মহিলা সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমল কান্তি ভট্টাচার্য্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অ্যাডভোকেসি সভা নারী ও শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সারভাইভারদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

ফরিদপুরে গণপিটুনিতে নিহত ট্রাকচালকের এতিম শিশুর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গণপিটুনিতে নিহত ট্রাকচালকের এতিম শিশুর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুরে ফেসবুকে লাইভ করে মব সৃষ্টি করে গণপিটুনিতে নিহত ট্রাক চালক হান্নান শেখের এতিম শিশুকন্যা মুসলিমার (২ বছর) পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান উপজেলার সাতৈর গ্রামের এতিম শিশু মুসলিমার বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এসেছেন উল্লেখ করে ওই শিশুর লালন পালনে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিশুর দাদা-দাদির হাতে খেলনা, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন।

নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখের বাবা সাইদ শেখ বলেন, আমার ছেলেকে ফেসবুকে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার পর বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

এ ব্যাপারে সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই শিশুকে নিয়মিত সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয় নিহত ট্রাকচালকে এতিম শিশুর খোঁজ খবর নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো। সেই আলোকে তিনি নিহতের বাড়িতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিশুটির লালন পালনের দ্বায়িত্ব ও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিশুর দাদা-দাদির হাতে খেলনা, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় বোয়ালমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানষ বসু ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার (০১ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় একাধিক পথচারী আহত হওয়ায় গণপিটুনিতে হান্নান (৪৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখ বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা সাইদ শেখের ছেলে।

সালথায় মাদক সেবনের অভিযোগে ৪ যুবককে কারাদণ্ড

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক সেবনের অভিযোগে ৪ যুবককে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সালথায় প্রকশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ৪ যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (০৫ মে) দুপুরে আটক মাদক সেবীদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা মাদক সেবীরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম (৪০), কামাল সরদার (৪০), মো. বাবলু মাতুব্বর (৩৫) ও হোসেন ফকির (৩৭)। তারা সালথা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাউলিকান্দা এলাকায় মাদক সেবন করছিলেন ওই ৪ যুবক। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের একটি টিম ও ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। পরে আটক মাদক সেবীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, মাদক সেবনকালে ৪ মাদক সেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে সাজা দেওয়া হয়। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নেল কাটারের এই বোতামের আসল রহস্য জানেন কি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
নেল কাটারের এই বোতামের আসল রহস্য জানেন কি?

নখ কাটার জন্য আমরা কমবেশি সবাই নিয়মিত নেল কাটার ব্যবহার করি। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ যন্ত্র মনে হলেও এর নকশার পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য।

অনেক সময় শিশুরা নেল কটার নিয়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ত্বক কেটে ফেলে, যা বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তবে আপনি কি জানেন, অধিকাংশ নেল কটারেই এমন কিছু সুরক্ষা ফিচার বা ‘সেফটি মোড’ থাকে যা আমাদের অনেকেরই অজানা?

বোতামের আসল রহস্য

অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, নেল কাটারের উপরের লিভারের গোড়ার দিকে একটি ছোট বোতাম বা ট্যাবের মতো অংশ থাকে। এটি আসলে একটি সেফটি লক।

যখন নেল কটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে না, তখন এর লিভারটি নিচে নামিয়ে ওই নির্দিষ্ট বোতাম বা ট্যাবটি চাপ দিলে কাটার ব্লেডগুলো পুরোপুরি লক হয়ে যায়। এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্লেডগুলোকে আটকে রাখা, যাতে দুর্ঘটনাক্রমে শরীরের কোথাও আঁচড় না লাগে বা কোনো ক্ষতি না হয়।

হারিয়ে যাওয়া রোধে বিশেষ ছিদ্র

নেল কটারের পেছনের দিকে থাকা ছোট ছিদ্রটিকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করে এড়িয়ে যান। অথচ এই ছিদ্রটি বেশ কাজের। যারা ছোটখাটো জিনিস হারিয়ে ফেলার সমস্যায় ভোগেন, তারা এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে কোনো সুতো বা ডোরি ঢুকিয়ে এটি দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া এটি চাবির রিং বা ‘কী-চেইন’ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ছিদ্রটি অনেকটা আংটির মতো কাজ করে, ফলে চাবির সাথে যুক্ত করে আপনি অনায়াসেই এটি সবখানে বহন করতে পারেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত খুঁজে পেতে পারেন।

আমাদের অতি পরিচিত এই সাধারণ যন্ত্রটির সঠিক ব্যবহার জানলে যেমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, তেমনি এটি গুছিয়ে রাখাও অনেক সহজ হয়। তাই পরবর্তী সময়ে নখ কাটার পর এর সেফটি ফিচারগুলো ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ