ফরিদপুরে নারী ও শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি সভা
ফরিদপুরে নারী ও শিশু যৌন পাচার থেকে ফিরে আসা সারভাইভারদের সুরক্ষা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০৪ মে) ফরিদপুর শহরের শাপলা মহিলা সংস্থার এসকেসিডিসি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘Enhancing Protection of Child Sex Trafficking Survivors in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ফ্রিডম ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এবং শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে এ সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মন্ডল এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে সংস্থার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্যামল প্রকাশ অধিকারী যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারী ও শিশুদের নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনি সহায়তার অভাব, সামাজিক অবহেলা, সরকারি সুবিধা পেতে জটিলতা এবং পাচার হওয়া শিশুদের বয়স জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো সারভাইভারদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী খান (বুলু) বলেন, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে যৌনকর্মে নিয়োজিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউশুদা হোসেন বলেন, সারভাইভারদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ‘হাব’ কেন্দ্র থেকেও তারা প্রয়োজনীয় সুবিধা পেতে পারেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালারা যদি সংস্থার কাজে বাধা দেয়, তবে তাদের তালিকা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুয়া নোটারি ও জাল কাগজপত্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার মনিটরিং অফিসার বিধান চন্দ্র রায়, ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার বাড়ৈ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার এম. এ. নাহার, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন, আইনজীবী ও নোটারি পাবলিক শম্পা চক্রবর্তী, ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তরুণ সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শাপলা মহিলা সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমল কান্তি ভট্টাচার্য্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অ্যাডভোকেসি সভা নারী ও শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সারভাইভারদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array