খুঁজুন
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩

ওজন কমাতে সেরা ৫ খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমাতে সেরা ৫ খাবার

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষণীয় বিষয় হলো আপনি ক্যালরি কতটা নিচ্ছেন তা খেয়াল করা। বাড়তি ওজন কমাতে হলে শুধু খাদ্যতালিকা থেকে ফ্যাটজাতীয় খাবার বাদ দেওয়াই মূল কথা নয়।

স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যতালিকা তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যথাযথ ও নিয়ন্ত্রিত ডায়েটের মধ্যে রয়েছে কিনা। একইসঙ্গে দৈনিক কোন কোন খাদ্য উপাদান শরীরে প্রবেশ করছে এবং তা আপনার সঠিক ওজন ধরে রাখতে কতটুকু সহায়তা করছে, তা জানা জরুরি।

বাড়তি ক্যালরি পোড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আবার যেসব খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম, সেগুলো রক্তের শর্করা ও ইনসুলিনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্যকারী এসব উপাদান শরীর থেকে চর্বি দূর করে। একবার দেখে নিন, ওজন কমাতে ও ক্যালরি পোড়াতে কোন কোন খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন:

প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার
পরিপাক প্রক্রিয়া চলাকালে প্রোটিন এক ধরনের তাপ উৎপন্ন করে।

ফলে শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালরি ভেঙে যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ, কম ফ্যাট-উচ্চ ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ মটরশুটি এবং প্রয়োজনীয় চর্বি ও ফাইবারসমৃদ্ধ বাদামে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এগুলো শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট অপসারণ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। অনেকের অজানা তথ্য হলো—ডিমও ক্যালরি পোড়াতে সহায়ক।

শস্যদানা
প্রতিদিনের খাবারে শস্যদানা রাখা প্রয়োজন। ভিটামিন বি, ই, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবারসমৃদ্ধ শস্যদানা চর্বি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে। শস্যদানা হিসেবে ওটমিল, জোয়ার, বাজরা, রাগি ইত্যাদি উপকারী। ওটমিলে রয়েছে বিটা গ্লুকেন, যা চর্বি শুষে নেয়। ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না।

আপেল
আপেলে রয়েছে পেকটিন নামক এক ধরনের জেলজাতীয় উপাদান। পানি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ ফাইবারের সংমিশ্রণে এটি দীর্ঘসময় ক্ষুধা নিবারণে সহায়ক।

দারুচিনি
দারুচিনি চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। এটি রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে চায়ের কাপে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া অথবা হালকা গরম জলে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে খাওয়া উপকারী।

সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজি
উচ্চ ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ক্যালরি কমায়। এসব শাক-সবজির জুস শরীরকে শুদ্ধ করে (বডি ক্লিনজিং) এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে চর্বি কমায়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

ইসলামের মহান খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)

মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
ইসলামের মহান খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)

ইসলামের প্রথম খলিফা শুধু নন, জীবিত অবস্থায় জান্নাতের সুসংবাদ যাঁরা পেয়েছেন হজরত আবু বকর (রা.) সেই আশারাতুল মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্বশুর।

মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাল্যনাম আবদুল্লাহ, আবু বকর ডাকনাম।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সিদ্দিক বা সত্যবাদী এবং আতিক বা দানশীল খেতাব লাভ করেন। আবু বকরের বাবার নাম ওসমান, কিন্তু ইতিহাসে তিনি আবু কুহাফা নামেই সুপরিচিত।

মায়ের নাম উম্মুল খায়ের সালমা। আবু বকরের মা-বাবা উভয়েই বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রের ছিলেন।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে বাবা, স্ত্রী এমনকি ছেলের বিরোধিতার মুখে পড়েন আবু বকর (রা.)। তাঁর মা প্রথম দিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বাবা হিজরির অষ্টম বছরে ইসলামে দীক্ষিত হন।
আবু বকরের স্ত্রী কুতাইলা বিনতে আবদুল উজ্জা ইসলাম গ্রহণ করেননি। আবু বকর তাকে তালাক দেন। আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ বিশিষ্টজনদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ জোগান। তরুণ বয়সে আবু বকর (রা.) একজন বণিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি প্রতিবেশী সিরিয়া, ইয়েমেন ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্যবসার সুবাদে ভ্রমণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি সম্পদশালী হয়ে ওঠেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তিনি ছিলেন তাঁর গোত্রের একজন শীর্ষ নেতা। ইয়েমেন থেকে বাণিজ্য শেষে ফেরার পর তিনি মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইসলাম প্রচারের সংবাদ পান। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু বকরের (রা.) মেয়ে আয়েশার সঙ্গে রসুল (সা.)-এর বিয়ের ফলে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আবু বকর (রা.) একজন একনিষ্ঠ সহচর হিসেবে রসুল (সা.)-কে সহযোগিতা করেন। তাঁর জীবদ্দশায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নেন। হুদায়বিয়ার সন্ধিতে আবু বকর অংশ নেন এবং তিনি ছিলেন এ চুক্তির অন্যতম সাক্ষী।

হজরত আবু বকর (রা.) ইসলামের সেবায় তাঁর অর্জিত অর্থ অকাতরে ব্যয় করেন। একবার রসুল (সা.) তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি তোমার পরিবারবর্গের ভরণপোষণের জন্য কী রেখেছ?’ তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে।’ মদিনার মসজিদ ও মহানবীর বাসগৃহ নির্মাণ এবং তাবুক অভিযান ও অন্যান্য ব্যাপারে তিনি একাই ব্যয়ের বৃহত্তর অংশ বহন করেন। ইসলাম তথা মহানবীর জন্য আবু বকর (রা.) তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠিত হননি। তাঁর সম্পর্কে মহানবী নিজেই বলেছেন, ‘আবু বকরের ধনসম্পদ ছাড়া অন্য কারও সম্পদ আমার এত উপকারে আসেনি।’ বিলালসহ যেসব গোলাম ইসলাম কবুল করে মনিবদের নির্যাতন ভোগ করছিলেন আবু বকর (রা.) তাঁদের অনেককে খরিদ করে মুক্ত করেন। ইসলাম প্রচারে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন এবং হজরত ওমরের কথায়, ইসলামের সেবায় কেউ তাঁকে অতিক্রম করতে পারেননি।

রসুল (সা.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। মুহাজির ও আনসাররা নিজেদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।

কিছু গোত্র পুরনো প্রথা অনুযায়ী গোত্রভিত্তিক নেতৃত্ব ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়। আনসাররা সাকিফা নামক স্থানে একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। এরপর আবু বকর, ওমর ও আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ সেখানে যান। সভার আলোচনায় একপর্যায়ে ওমর ইবনুল খাত্তাব আবু বকরের (রা.) প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহও একই পথ অনুসরণ করেন। এরপর বাকিরাও আবু বকরকে (রা.) নেতা হিসেবে মেনে নেন। আবু বকর (রা.) দুই বছরের কিছু বেশি সময় খলিফা থাকাকালে অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হন এবং তিনি তা সফলভাবে মোকাবিলা করেন। একাধিক ভণ্ড নবীর সমর্থকদের তিনি দমন করেন।

তাঁর আমলে ইসলামি খেলাফত শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই মহান খলিফা ৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি শয্যাশায়ী হন। আবু বকর (রা.) তাঁর উত্তরসূরি মনোনয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যাতে তাঁর মৃত্যুর পর মুসলিমদের মধ্যে সমস্যা দেখা না দেয়। অন্য সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগ দেন। ৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট আবু বকর (রা.) ইন্তেকাল করেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

যে কারণে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ে সতর্কতা জরুরি

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
যে কারণে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ে সতর্কতা জরুরি

ধন-সম্পদ মহান আল্লাহর নিয়ামত। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে সম্পদ অর্জন করতে হয়।

কিছু ইবাদত ফরজ হওয়ার সঙ্গেও সম্পদের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সম্পদ অর্জনই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়।

আবার সম্পদ অর্জন করা সব ক্ষেত্রে হারামও নয়। মহান আল্লাহর দেওয়া নিয়ম মেনে সম্পদ অর্জনে ইসলামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উদ্দেশে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার উত্তরাধিকারীদের মানুষের মুখাপেক্ষী বানিয়ে দারিদ্রাবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা সচ্ছলাবস্থায় রেখে যাওয়া অধিক উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ১২৯৫)
তবে এও মনে রাখতে হবে, ধন-সম্পদ সবার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়।
অনেকে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বলে বসে, আমরা এত ইবাদত করি, দোয়া করি আমাদের ধন-সম্পদ হয় না কেন! (নাউজুবিল্লাহ!)

এ কথার উত্তর মহান আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি মনে করে আমি তাদেরকে যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি, তা দ্বারা তাদের কল্যাণ সাধনে ত্বরা দেখাচ্ছি? না, বরং প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো অনুভূতিই নেই।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫৫-৫৬)

এই আয়াতের তাফসিরে এসেছে, কাফেররা দাবি করত তারাই সঠিক পথে আছে আর তারা প্রমাণ হিসেবে বলত, আল্লাহ তাআলা আমাদের ধনে-জনে সম্পন্নতা দান করেছেন। এর দ্বারা বোঝা যায় তিনি আমাদের প্রতি খুশি।

ফলে আগামীতেও তিনি আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখবেন। তিনি নারাজ হলে এমন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আমাদের দিতেন না। এটা প্রমাণ করে আমরাই সত্যের ওপর আছি। এ আয়াতে তাদের সে দাবির জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, দুনিয়ায় অর্থ-সম্পদের প্রাপ্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে না। কেননা তিনি কাফের ও নাফরমানকেও রিজিক দান করেন।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূল মাপকাঠি হলো তাকওয়া। যাকে মহান আল্লাহ তাকওয়ার সম্পদ দিয়েছেন, সেই শ্রেষ্ঠ ধনী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকি।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

এর পাশাপাশি যারা আল্লাহর হুকুম মেনে হালালভাবে সম্পদ অর্জন করে এবং তা আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যয় করে, তাহলে তা মুমিনের আমলের পাল্লা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মহান আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জন করতে হবে। সঠিকভাবে সম্পদের জাকাত আদায় করতে হবে। নইলে এই সম্পদই কঠিন বিপদের কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মতো, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে এক শ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬১)

তাই সম্পদ অর্জন ও তা খরচে খুব সতর্ক হতে হবে। একটু অসতর্কতা ও অবহেলার কারণে এই নিয়ামতই কখনো কখনো বিপদে পরিণত হতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সঞ্চিত সম্পদ, যেগুলোর জাকাত আদায় করা হয়নি, কিয়ামতের দিন এগুলো টাকওয়ালা হিংস্র সাপে পরিণত হবে। সম্পদের মালিক তা থেকে পালাতে থাকবে। কিন্তু সাপ তার পেছনে লেগে থাকবে। আর বলবে, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! সাপ তার পিছু ধাওয়া করতেই থাকবে। পরিশেষে সে বাধ্য হয়ে তার হাত প্রসারিত করে দেবে। ফলে সাপ তার মুখ গিলে নেবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৯৫৭)

প্রশ্ন জাগতে পারে, উল্লিখিত হাদিসে সঞ্চিত সম্পদকে সাপের সঙ্গে তুলনা করা হলো কেন? স্বপ্নযোগে সাপ দেখলেও কোনো কোনো স্কলাররা এর ব্যাখ্যা সম্পদ অর্জন করেন কেন? এর উত্তর হলো, সাপ যেমন আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি প্রাণী। কিন্তু তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন ও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়।

বিশ্বে সাপের বিষের রয়েছে বড় বাজার। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল ও নানা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই বিষ বা ভেনম। সাপের মাংস ও চামড়াও বড় আয়ের উৎস। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বে বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ড সাপের বিষের চাহিদা রয়েছে। যেখানে এক গ্রাম বিষের দাম সাপভেদে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার আমেরিকান ডলার।

সাপের বিষ ওষুধশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। ক্যান্সারসহ বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক তৈরি করতেও এর প্রয়োজন। গবেষণার কাজেও হয় ব্যবহার।

কাজেই মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করতেও সাপের বিষ প্রয়োজন হয়। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে।

এর কারণ হলো, সাপ কিংবা তার বিষ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি আছে। যারা তা অনুসরণ করে তারা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। কিন্তু এর বিপরীত ঘটলেই বিপত্তি ঘটতে পারে। হতে পারে মৃত্যু। তদ্রূপ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রেও হালাল পন্থায় তা অর্জন করতে হয়। প্রতিবছর সঠিকভাবে তার জাকাত আদায় করতে হয়। যদি কেউ এই নিয়মগুলো না মেনে সম্পদ অর্জন ও সঞ্চয় করতে যায়, তাহলে এই সম্পদই তার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

তাই আমাদের উচিত, মহান আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা মেনে সম্পদ অর্জন করা, সঠিকভাবে জাকাত দেওয়া ও বেশি বেশি দান-সদকা করা। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত সময়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত সময়

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পার্থক্য দিন দিন কমে আসছে। অফিস শেষে বাসায় ফিরলেও কাজের চাপ যেন পিছু ছাড়ে না।

ফোন, ইমেইল কিংবা অনলাইন যোগাযোগের কারণে কর্মজীবীরা প্রায় সারাক্ষণই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন।
একসময় ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম এবং ৮ ঘণ্টা নিজের জন্য-এই ধারণা ছিল স্বাভাবিক জীবনযাপনের মানদণ্ড।

তবে বাস্তবতা এখন ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রেই কাজের সময় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে ব্যক্তিগত সময় ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভারসাম্যহীনতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর। দীর্ঘ সময় কাজের কারণে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপ বাড়ছে, যা একসময় বার্নআউটের দিকে ঠেলে দেয়।

এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এতে অনেকেই এক ধরনের একাকীত্বে ভুগছেন।

তবে কিছু সচেতনতা এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করতে পারে। কাজের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এবং সেই সময়ের বাইরে নিজেকে কাজ থেকে দূরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

একইসঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারেও সংযম আনা প্রয়োজন। সবসময় অনলাইনে না থেকে দিনের নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে বিরতি নেওয়া মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

এছাড়া প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো-এগুলো জীবনকে ভারসাম্যে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।