খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

প্রিয়জনের মৃত্যুশোক কি ভুলতে পারে মানুষ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জনের মৃত্যুশোক কি ভুলতে পারে মানুষ?

প্রিয়জন হারানোর কষ্ট জীবনের সবচেয়ে গভীর মানসিক আঘাতগুলোর একটি। কেউ কেউ বলেন—“সময় সব ঠিক করে দেয়”, আবার কেউ মনে করেন—এই কষ্ট কখনও পুরোপুরি যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান আসলে কী বলে? মানুষ কি সত্যিই মৃত্যুশোক ভুলে যেতে পারে, নাকি সেটার সঙ্গে বাঁচতে শেখে?

মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, শোক কোনও “মুছে ফেলা” অনুভূতি নয়—বরং এটি মস্তিষ্কের একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন প্রক্রিয়া।

শোক কীভাবে মস্তিষ্কে কাজ করে?

মানুষ যখন কাউকে হারায়, তখন মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ এবং স্মৃতি সংরক্ষণকারী অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। হারানো ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি, অভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিন মস্তিষ্কে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

এই কারণে শোক শুধু মানসিক অনুভূতি নয়, বরং স্নায়বিক ও জৈবিক প্রতিক্রিয়ারও অংশ।

“ভোলা” নয়, “অভ্যস্ত হওয়া”

গবেষকদের মতে, মস্তিষ্ক প্রিয়জনের অনুপস্থিতিকে পুরোপুরি মুছে ফেলে না। বরং সময়ের সঙ্গে সেই অনুপস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।

শুরুর দিকে যে স্মৃতি তীব্র মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করে, সময়ের সঙ্গে তার তীব্রতা কমে আসে। তবে স্মৃতি থেকে যায়—শুধু তার প্রতি আবেগের প্রতিক্রিয়া বদলে যায়।

সময় কি সত্যিই শোক কমায়?

সময় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে এটি একা নয়। সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ (নিউরাল নেটওয়ার্ক) ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় আবেগীয় অভিযোজন।

ফলে মানুষ ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসে, কিন্তু শোক পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না।

শোকের ধাপগুলো কী?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মৃত্যুশোক সাধারণত কয়েকটি মানসিক ধাপের মধ্য দিয়ে যায়—অস্বীকার, রাগ, গভীর দুঃখ এবং ধীরে ধীরে গ্রহণ।

তবে এই ধাপগুলো সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে না। কেউ দ্রুত এগোতে পারেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থেকে যেতে পারেন।

সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক সহায়তা শোক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবার, বন্ধু এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা মানুষকে ধীরে ধীরে ভারসাম্যে ফিরতে সাহায্য করে।

অনেক ক্ষেত্রে অনুভূতি প্রকাশ করা বা স্মৃতি নিয়ে কথা বলাও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হয়।

শোক কি কখনও পুরোপুরি শেষ হয়?

বিজ্ঞান বলছে, অনেক ক্ষেত্রে শোক “শেষ” হয় না—বরং তার রূপ বদলায়। তীব্র যন্ত্রণা ধীরে ধীরে স্মৃতি ও ভালোবাসার মিশ্র অনুভূতিতে পরিণত হয়।

অর্থাৎ মানুষ প্রিয়জনকে ভুলে যায় না, বরং সেই স্মৃতিকে নিয়েই বাঁচতে শেখে।

শেষ কথা

প্রিয়জনের মৃত্যুশোক কোনও সাধারণ অনুভূতি নয়। এটি মস্তিষ্কের গভীর স্তরে প্রোথিত একটি অভিজ্ঞতা, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে মুছে যায় না।

বিজ্ঞান তাই একটি সহজ কিন্তু গভীর সত্যই বলে—মানুষ শোক ভুলে না, বরং শোকের সঙ্গে বাঁচতে শেখে।

আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কংগ্রেসে কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি চর্চা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভুবেন বাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গোখরা সাপের ছোবলে আহত হয়ে সাপসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রিপন শিকদার (৩৫) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নিজ দোকানে একটি বয়ামে হাত দেওয়ার সময় ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর গোখরা সাপ তাকে ছোবল দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই রিপন শিকদার আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তিনি ছোবল দেওয়া সাপটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

রিপন উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দোকানদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রিপনকে দ্রুত সাপের বিষনাশক (এন্টিভেনম) প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এফতেখার জানান, সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোকান বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফরিদপুরের মধুমতি চরে চুরি গেল শ্যালো মেশিন, পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতি চরে চুরি গেল শ্যালো মেশিন, পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা শ্যালো মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এক কৃষক। সেচের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তার পাটক্ষেত এখন শুকিয়ে ফেটে চৌচির, সামনে দেখা দিয়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রামের মধুমতি নদীর চরের ফসলের মাঠ থেকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক জহুর শেখ জানান, প্রায় ১০ একর জমি বর্গা নিয়ে তিনি পাট চাষ করেছেন।দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে জমিতে সেচের তীব্র সংকট দেখা দিলে তিনি একটি এনজিও থেকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শ্যালো মেশিনটি কিনে মাঠে স্থাপন করেন। মেশিন বসানোসহ আনুষঙ্গিক খরচে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহুর শেখ বলেন, “প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি আমার মেশিন নেই। সব শেষ হয়ে গেল। পানির অভাবে পাটক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এত কষ্ট করে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেল।”

তিনি আরও জানান, শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করেই পাটের সেচ দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে ওই জমিতে ধান চাষের পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

জহুর শেখের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে তাকে। আয়ের কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় কিস্তি পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর চরাঞ্চলে প্রায়ই কৃষি যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তা জোরদার না হওয়ায় কৃষকরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে এমন চুরির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত মেশিন উদ্ধার ও চোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।