ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী
ফরিদপুরে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঁচা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করে পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কছিমউদ্দিন বেপারীর ডাঙ্গী গ্রামে বিধ্বস্ত সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তারা। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে কছিমউদ্দিনের ডাঙ্গীর পাশাপাশি মিনাজউদ্দিন মোল্যার ডাঙ্গী, আনছার মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মগরম মাতুব্বরের ডাঙ্গী, নিমাই শেখের পাড়া, দেলোনমল্লিকের ডাঙ্গী ও বাজু মোল্যার ডাঙ্গী সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও সড়কটি দিয়ে চরমাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর।
বর্তমানে সড়কটি বেহালদশায় পরিণত হয়ে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের৷ স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে না পারায় কখনও ভ্যানে ঠেলে; কখনও কাঠের তৈরি চৌকি কাঁধে ঝুলিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে আসতে হয় তাঁদের। মাঠ থেকে ফসল বাড়িতে আনতেও কষ্ট হয় তাঁদের৷ কখনও কখনও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে। এ সময়ে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়; আবার সামান্য বৃষ্টিতে কাঁদায় পরিণত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মমিনখার হাট-গোয়ালন্দ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগ সড়ক এটি। আঞ্চলিক সড়কটির ইয়াছিন ব্রিজ থেকে দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কটির দৈর্ঘ্য। সড়কটির শুরুতে প্রায় ২’শ মিটার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক সৌদিপ্রবাসী৷ সেটিও বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ অংশজুড়ে দুই পাশ ভেঙে রয়েছে। বর্তমানে যা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলছে ছোট যানবাহনগুলো।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জলিল শেখ বলেন- ‘রাস্তাডার এমন অবস্থা হইছে যে কওয়ার (বলার) মতো জায়গ্যাই নাই! এই জায়গাডা যে এম্বায় (এভাবে) নইলো (রইলো)- কেউ দেখলো না। কেউ কয় না যে- রাস্তাডা সাইরা (মেরামত) দেই। এহন এই রাস্তাডা জানি পাকা হইয়্যা যায়- সেজন্য এমপির কাছে আবেদন জানাই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন- ” দীর্ঘদিন সরকার আসছে-গেছে কিন্তু আমাদের রাস্তার কোনো উন্নয়ন করেনি। অনেকবার কাজও এসেছে কিন্তু অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। কারন, আমরা আওয়ামীলীগরে কখনও ভোট না দেওয়ায় কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।’
তবে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ অর্থায়নে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করে আসছেন স্থানীয় সৌদ প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালভার্ট ও একটি নান্দনিক মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রবাসী বলেন- “গত ১৭ বছর আমাদের বলা হয়েছে- এই এলাকার মানুষ আওয়ামালীগকে ভোট দেয় না, কিছুই করা যাবে না। যার কারনে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাস্তা মনে হয় এটিই।’
এ সময় তিনিসহ এলাকাবাসী ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কাছে সড়কটি অতিদ্রুত মেরামতসহ পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া মানববন্ধনে ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন জাহিদ ব্যাপারী, মোতালেব শেখ, মো. বাদশা মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আপনার মতামত লিখুন
Array