সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের সালথার নবকাম পল্লী কলেজ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নবকাম পল্লী কলেজ সরকারি করার উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। কলেজটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সালথা উপজেলার নবকাম পল্লী কলেজ সরকারি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কলেজটি সরকারি করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ডিও পত্র অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কলেজটি সরকারি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
১৯৯৪ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মিঞা লুৎফার রহমান গ্রামীণ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে নবকাম পল্লী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটির নামকরণও ব্যতিক্রমধর্মী। ‘নবকাম’ শব্দটি এসেছে চারটি উপজেলার নামের আদ্যক্ষর থেকে—’ন’ নগরকান্দা, ‘ব’ বোয়ালমারী, ‘কা’ কাশিয়ানী এবং ‘ম’ মুকসুদপুর। চার উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় শুরু থেকেই এটি একটি আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার মান, ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের জন্য কলেজটি সালথা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১০ বার নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করে। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফজলুল হক খন্দকার।
বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি, বিএ ও বিএসএস, বিএম (ভোকেশনাল), আটটি বিষয়ে অনার্স এবং ব্যবস্থাপনা ও সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী, ৬১ জন শিক্ষক এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কলেজটি সরকারি করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা আসা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। কলেজটি সরকারি হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটবে, শিক্ষক নিয়োগ সহজ হবে এবং গ্রামীণ জনপদের হাজারো শিক্ষার্থী আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নবকাম পল্লী কলেজকে সরকারি করার দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশনার মাধ্যমে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তবে সরকারি হওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই এখন সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন
Array