কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান কত শতাংশ মানুষ? জানাল সমীক্ষা
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—দিনের বড় একটা সময় আমাদের কাটে অফিসের চার দেয়ালের ভেতরে। দীর্ঘক্ষণ একসঙ্গে কাজ করা, একই লক্ষ্য আর একই ধরণের মানসিক চাপ ভাগ করে নিতে গিয়ে অনেক সময় সহকর্মীর প্রতি তৈরি হয় এক অন্যরকম ভালো লাগা।
ফোর্বস অ্যাডভাইজারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
কেন এই ভালো লাগা?
অফিসে প্রেমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ বা কমফর্টেবিলিটি। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের মতে, পরিচিত পরিবেশে পছন্দের মানুষের সঙ্গে কাজ করাটা অনেক বেশি সহজ। এছাড়া ৬১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অফিসের বাইরে নতুন করে কারো সাথে পরিচয় হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের থাকে না। প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষের কাছে কর্মক্ষেত্রের একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াটা সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
সাফল্য ও জটিলতার গল্প
অনেকেই মনে করেন অফিসের প্রেম মানেই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ডেটিং অ্যাপের চেয়েও কর্মক্ষেত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো বেশি টেকসই হতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ অফিস রোমান্স শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই সম্পর্কের কারণে মানুষ তাদের বর্তমান সঙ্গীর সাথে প্রতারণা বা ‘চিটিং’ করেছেন। এমনকি সম্পর্কের টানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ তাদের চাকরি পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন।
পেশাদারিত্বে কি টান পড়ে?
অফিসে প্রেমের প্রভাব শুধু মনের ওপর নয়, ক্যারিয়ারের ওপরও পড়ে।
কর্মক্ষমতা: প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রভাব তাদের কাজের ওপর পড়ে।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভারসাম্য: ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সহকর্মীর সাথে প্রেমে জড়ালে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সহকর্মীদের আচরণ: ৫২ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অফিসের অন্য সহকর্মীরা এই যুগলকে ভিন্ন চোখে দেখা শুরু করেন। প্রায় ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি অফিসে গসিপ বা পরচর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বিচ্ছেদ ও অফিসের পরিবেশ
অফিস রোমান্স যেমন আনন্দদায়ক হতে পারে, তেমনি বিচ্ছেদের ভয়ও থাকে প্রবল। সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ সম্পর্কের তুলনায় অফিস রোমান্সে বিচ্ছেদের ভয় ১৭ শতাংশ বেশি থাকে। তাই প্রায় ৩০ শতাংশ দম্পতি আগে থেকেই একটি ‘ব্রেকআপ প্ল্যান’ করে রাখেন যাতে বিচ্ছেদ হলেও কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।
সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
অফিস রোমান্স নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন বদলাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের কথা এইচআর বিভাগকে অবগত করেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সহকর্মীর সাথে প্রেম করা অপেশাদার আচরণ। তবে কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন রোমান্স সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নীতিমালা বা পলিসি তৈরি করছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array