খুঁজুন
, ,

কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান কত শতাংশ মানুষ? জানাল সমীক্ষা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান কত শতাংশ মানুষ? জানাল সমীক্ষা

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—দিনের বড় একটা সময় আমাদের কাটে অফিসের চার দেয়ালের ভেতরে। দীর্ঘক্ষণ একসঙ্গে কাজ করা, একই লক্ষ্য আর একই ধরণের মানসিক চাপ ভাগ করে নিতে গিয়ে অনেক সময় সহকর্মীর প্রতি তৈরি হয় এক অন্যরকম ভালো লাগা।

ফোর্বস অ্যাডভাইজারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

কেন এই ভালো লাগা?

অফিসে প্রেমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ বা কমফর্টেবিলিটি। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের মতে, পরিচিত পরিবেশে পছন্দের মানুষের সঙ্গে কাজ করাটা অনেক বেশি সহজ। এছাড়া ৬১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অফিসের বাইরে নতুন করে কারো সাথে পরিচয় হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের থাকে না। প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষের কাছে কর্মক্ষেত্রের একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াটা সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সাফল্য ও জটিলতার গল্প

অনেকেই মনে করেন অফিসের প্রেম মানেই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ডেটিং অ্যাপের চেয়েও কর্মক্ষেত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো বেশি টেকসই হতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ অফিস রোমান্স শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই সম্পর্কের কারণে মানুষ তাদের বর্তমান সঙ্গীর সাথে প্রতারণা বা ‘চিটিং’ করেছেন। এমনকি সম্পর্কের টানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ তাদের চাকরি পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন।

পেশাদারিত্বে কি টান পড়ে?

অফিসে প্রেমের প্রভাব শুধু মনের ওপর নয়, ক্যারিয়ারের ওপরও পড়ে।

কর্মক্ষমতা: প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রভাব তাদের কাজের ওপর পড়ে।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভারসাম্য: ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সহকর্মীর সাথে প্রেমে জড়ালে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সহকর্মীদের আচরণ: ৫২ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অফিসের অন্য সহকর্মীরা এই যুগলকে ভিন্ন চোখে দেখা শুরু করেন। প্রায় ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি অফিসে গসিপ বা পরচর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

বিচ্ছেদ ও অফিসের পরিবেশ

অফিস রোমান্স যেমন আনন্দদায়ক হতে পারে, তেমনি বিচ্ছেদের ভয়ও থাকে প্রবল। সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ সম্পর্কের তুলনায় অফিস রোমান্সে বিচ্ছেদের ভয় ১৭ শতাংশ বেশি থাকে। তাই প্রায় ৩০ শতাংশ দম্পতি আগে থেকেই একটি ‘ব্রেকআপ প্ল্যান’ করে রাখেন যাতে বিচ্ছেদ হলেও কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।

সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

অফিস রোমান্স নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন বদলাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের কথা এইচআর বিভাগকে অবগত করেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সহকর্মীর সাথে প্রেম করা অপেশাদার আচরণ। তবে কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন রোমান্স সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নীতিমালা বা পলিসি তৈরি করছে।

ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা আর প্রিয় দলের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন সড়ক।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল এবং একাধিক প্রাইভেট কার অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের অধিকাংশের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ আবার প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পতাকা বহন করেছেন। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আয়োজকদের দাবি, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। তারা বলেন, গত বিশ্বকাপের মতো এবারও আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জিতবে বলে তারা আশাবাদী।

সমর্থকদের অনেকেই জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখতে চান তারা। তাদের ভাষায়, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই দলের মধ্যে, আর এমন একটি ফাইনাল বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

শোভাযাত্রা ঘিরে শহরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমন আয়োজন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে বিভিন্ন বয়সী প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালিমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোন ভাবেই এ পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।

কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেলে আহত ব্যবসায়ী রনি শেখের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে মধুখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোড়কদী গ্রামের বাসিন্দা রনি শেখ (৩০) স্থানীয় কোড়কদী বাজারে বিকাশ, নগদ, ফ্লেক্সিলোড ও কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোড়কদী এলাকার ভেজাল মণ্ডল ও গোসাই চন্দ্র সরকারের বাড়ির মাঝামাঝি সরকারি পাকা সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা প্রথমে রনির কাছে থাকা টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ডান ও বাম হাতের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

একপর্যায়ে রনি শেখ মাটিতে লুটিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আকাশ বিশ্বাস (২৫), পিতা- মৃত নিপেন্দ্র বিশ্বাস, সাং- কোড়কদী মাঝিপাড়া এবং জিহাদ শেখ (২৭), পিতা- আক্কাচ শেখ, সাং- কোড়কদী বাবুপাড়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর ওই সড়ক দিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস আহত রনি শেখকে রাস্তার পাশে ঘাসের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রনি শেখকে উদ্ধার করে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে রনি শেখ তার ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান বাদী।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”