খুঁজুন
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রকাশ্যে সরকারি ইট চুরি, ট্রাকসহ আটক ২

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রকাশ্যে সরকারি ইট চুরি, ট্রাকসহ আটক ২

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সরকারি ইট চুরির চেষ্টাকালে ট্রাকসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, হাসপাতালের ভেতরে উন্নয়ন কাজের জন্য স্তূপ করে রাখা সরকারি ইট একটি ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় একটি চক্র। এ সময় কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে দ্রুত ইট ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর নজরে এলে তারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে হাসপাতাল প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি আটকে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। প্রথমে অনেকে বিষয়টিকে সরকারি কাজ মনে করলেও পরে অনুমতি ছাড়া ইট নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইট বোঝাই ট্রাকটি জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে রফিক মোল্লা ও আজিজুল শিকদার নামে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক
(এসআই) নূর হোসেন বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ইট ভর্তি ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহ্‌মুদুল হাসান বলেন, “কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সরকারি ইট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেই এবং ট্রাকসহ তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে বিদেশি মদ-অস্ত্র উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদেশি মদ-অস্ত্র উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিদেশি মদ, এয়ারগান, বিপুল পরিমাণ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক রয়েছেন আরও তিনজন অভিযুক্ত।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ভাঙ্গা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে অস্ত্র ও মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার কাওলিবেড়া ইউনিয়নের চরমুগডোবা গ্রামে মাইনুল ইসলাম খান রিপনের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে ১১ বোতল বিদেশি মদ, একটি বিদেশি এয়ারগান, এয়ারগানের ৯০০ পিস গুলি, ২৬টি শটগানের কার্তুজ, ৫টি রামদা, ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল, নগদ ২ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৬টি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তার হন ভাঙ্গা উপজেলার বালিয়াহাটি গ্রামের মৃত সাদেক আলী খানের ছেলে রবিন খান (৪৩) এবং চরমুগডোবা গ্রামের মাইনুল ইসলাম রিপনের স্ত্রী রাশিদা আক্তার (৪০)।

তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মাইনুল ইসলাম খান রিপন (৫০), বেল্লাল (৪৫) ও নুর মোহাম্মদ (৪০)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই দীপন কুমার মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য মজুদের অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি মদ ও সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে মা-মেয়েকে হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে মা-মেয়েকে হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিক

ফরিদপুরের সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস।

পুলিশ জানায়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ মরদেহ গত ১৪ মে কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মো. আবুল বাশার মোল্লা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

গত ৪ মার্চ রাতে কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর অভিযুক্ত নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী নুরজামাল বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে একাধিকবার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন নুরজামাল। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রেখে স্বামী পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি নুরজামাল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড প্রদান করেছেন।