খুঁজুন
, ,

কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলাম কী বলে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলাম কী বলে

বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে বা পরিবারের অমতে ছেলেমেয়েরা এই পথ বেছে নেয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে এই ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানা জরুরি, যা না জানলে জীবনভর পাপের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।

স্বাক্ষরই কি বিয়ে?

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা একটি ওকালতনামা প্রস্তুত করে নিয়ে যায় এবং সেখানে উকিল শুধু স্বাক্ষর করে দেন। তারা মনে করে এতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর অমোঘ বিধান হলো, বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইজাব ও কবুল’ (প্রস্তাব ও গ্রহণ) মুখে উচ্চারণ করা শর্ত, কেবল কাগজে লেখা বা স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়। যদি স্বামী-স্ত্রীর মুখে কথা বলার সামর্থ্য থাকে, তবে মুখে উচ্চারণ ব্যতীত কেবল স্বাক্ষর করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না।

তিনি বলেন, এখানে ইসলামি আইনের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। তালাকের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি মুখে উচ্চারণ না-ও করে, কেবল তালাকনামায় স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেয়, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ের জন্য অবশ্যই মুখে ইজাব-কবুল উচ্চারণ করতে হবে, অন্যথায় তা বৈধ হবে না।

কখন কোর্ট ম্যারেজ বৈধ হতে পারে?

ইসলামি এই স্কলারের মতে, কোর্ট ম্যারেজ বলতেই যে তা অবৈধ, বিষয়টি এমন নয়। যদি অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে উকিল বা কাজি সাহেব ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে পড়িয়ে দেন এবং ছেলে ও মেয়ে উভয়ে মুখে তা কবুল করে নেয়, তবেই সেই বিয়ে বিশুদ্ধ হবে। তবে কেবল হলফনামায় স্বাক্ষর করে ঘরে ফিরে আসাকে ইসলাম বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

পারিবারিক ও সামাজিক বিয়ের গুরুত্ব

ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হিসেবে গণ্য করে এবং একে যতটা সম্ভব উৎসবমুখর ও সামাজিক করার উৎসাহ দেয়। এজন্যই ইসলামে আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত করা এবং ‘ওলিমা’ বা বিয়ের ভোজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের প্রতি নসিহত

তারুণ্যের জোয়ারে ভেসে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিভাবকের সন্তুষ্টি ও উপস্থিতিতে এবং ইসলামি শরিয়াহর সীমারেখা মেনে ঘটা করে বিয়ে করাই ইসলামের সৌন্দর্য এবং এটিই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পছন্দ। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে শরিয়াহ ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া প্রত্যেক মুসলিম তরুণ-তরুণীর কর্তব্য।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব কথা জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২৩ জনে। এই সময়ে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই দুটি হাসপাতালে মোট ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি রয়েছেন।

​অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দুই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন রোগী। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট ৫ হাজার ৪৯৭ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক হাম আক্রান্তের তালিকায় আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদরে ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন নথিভুক্ত রয়েছেন।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আসা সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ২৩ জন ফরিদপুর জেলার এবং বাকি ৭ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।

ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​এছাড়া লাশ গুম করার অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ভোগ করতে হবে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতে আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ থাকেন।

​নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

​তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান।

​মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন বাথরুমের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে ছাদ ধসে মো. শাওন (১৭) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের বাখুন্ডা গ্রামের মঙ্গলকোট বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাওন ওই গ্রামের রুহুল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখুন্ডা গ্রামের কাওছার মিয়ার বাড়িতে দুই দিন আগে বাথরুমের একটি নতুন ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়। বুধবার সকালে শাওন ট্যাংকির ভেতরে ঢুকে সেন্টারিং ও বাঁশ খোলার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের পাকা ছাদ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।

​পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।