খুঁজুন
, ,

প্রতিদিন যেসব দোয়া বেশি বেশি পড়া উচিত

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন যেসব দোয়া বেশি বেশি পড়া উচিত

মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর নেয়ামত। ঘুম থেকে ওঠা, ঘরের বাইরে বের হওয়া, পথে চলা, কোনো জায়গায় বসা কিংবা আবার উঠে দাঁড়ানো-সবই আল্লাহর দেওয়া সুযোগ ও এক একটি নেয়ামত।একজন মুমিনের সৌন্দর্য হলো, জীবনের সাধারণ কাজগুলোতেও সে তার রবকে স্মরণ করে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন অবস্থার জন্য এমন অনেক দোয়া শিখিয়েছেন, যেগুলো আমল করা সহজ, কিন্তু ফজিলত ও তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর।তাই হাঁটতে-বসতে এবং দৈনন্দিন চলাফেরার সময় কিছু ছোট ছোট মাসনুন দোয়া ও জিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

১. ঘর থেকে বের হওয়ার সময়
বাইরে যাওয়ার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করে পড়ুন,
بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

 

অর্থ : আল্লাহর নামে বের হচ্ছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দোয়া পড়ে, তাকে বলা হয়-তুমি হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে এবং তুমি সুরক্ষিত হয়েছ।
শয়তানও তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯৫)

২. পথে চলার সময় আল্লাহর জিকির
হাঁটার সময় নির্দিষ্ট কোনো একটি দোয়া পড়তেই হবে-এমন নয়। তবে সুযোগমতো বেশি বেশি জিকির করা অত্যন্ত উত্তম। পড়তে পারেন,
سُبْحَانَ اللَّهِ
উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।
الْحَمْدُ لِلَّهِ
উচ্চারণ : আলহামদুলিল্লাহ।
অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার।
অর্থ : আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
তাই হাঁটার সময় অযথা কথাবার্তা বা অনর্থক চিন্তায় সময় নষ্ট না করে জিকিরে জিহ্বা সিক্ত রাখা যেতে পারে।

৩. কোনো বাহনে উঠলে
হাঁটার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় অনেকেই গাড়ি, বাস, রিকশা বা অন্য কোনো বাহনে ওঠেন। তখন কোরআনে বর্ণিত এই দোয়া পড়া যায়,
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ۝ وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন।
অর্থ : পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এটিকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন; অথচ আমরা নিজেরা এটিকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যাব। (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ১৩–১৪)

৪. মসজিদের দিকে হাঁটার সময়
মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফেরানো এবং নামাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে যাওয়ার পথে দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন।

اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمَالِي نُورًا، وَفَوْقِي نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআল ফি কালবি নুরান, ওয়া ফি বাসরি নুরান, ওয়া ফি সামই নুরান, ওয়া আন ইয়ামিনি নুরান, ওয়া আন শিমালি নুরান, ওয়া ফাওকি নুরান, ওয়া তাহতি নুরান, ওয়া আমামি নুরান, ওয়া খালফি নুরান, ওয়াজআল লি নুরান।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন, আমার ডানে নূর দিন, আমার বাঁয়ে নূর দিন, আমার ওপরে নূর দিন, আমার নিচে নূর দিন, আমার সামনে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন এবং আমার জন্য নূর দান করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩১৬)

৫. কোনো জায়গায় বসলে
কোনো মজলিসে বসে অযথা বা গুনাহের কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়ে আল্লাহর স্মরণ করা উচিত। মজলিস শেষে রাসুলুল্লাহ ﷺ যে দোয়াটি শিখিয়েছেন, সেটি নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করা যায়।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

উচ্চারণ : সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছেই তওবা করি। এই দোয়াটি কাফফারাতুল মাজলিস নামে পরিচিত। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৩৩)

৬. বাজারে প্রবেশের সময়
প্রয়োজনে বাজারে প্রবেশের সময়ও একটি বিশেষ জিকির পড়া যায়।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহই ওয়া ইউমিতু, ওয়া হুয়া হাইয়্যুল লা ইয়ামুতু, বিইয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সব প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। সব কল্যাণ তাঁর হাতে এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৮)

তবে এ হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে; তাই এটিকে সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নিশ্চিত সুন্নত হিসেবে প্রচার না করে দুর্বল সূত্রে বর্ণিত আমল হিসেবে উল্লেখ করা অধিক সতর্কতার বিষয়।

৭. কোনো বিপদ বা ভয় দেখলে
পথে চলতে গিয়ে কোনো বিপদ, ভয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত।
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ : হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।
অর্থ : আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক্ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৩)

৮. সব সময় পড়ার একটি শ্রেষ্ঠ দোয়া
হাঁটতে-বসতে, অবসর সময়ে কিংবা দিনের যেকোনো মুহূর্তে এই দোয়াটি পড়া যায়-
رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ : রব্বিগফির লি।
অর্থ : হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।
আর বেশি বেশি বলা যায়,
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তাওবা করছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন। তাই মুমিনের জিহ্বা যেন অবিরত আল্লাহর স্মরণে সিক্ত থাকে।
হাঁটা-বসা আমাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু এই হাঁটাচলার সময় যখন আমরা আল্লাহকে স্মরণ করবো তখন সেটা আরো বরকতময় হয়ে উঠবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১)

তাই আমাদের চলাফেরা যেন শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার মাধ্যম না হয়; বরং প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আল্লাহর স্মরণে সমৃদ্ধ হয়। হাঁটতে হাঁটতে জিকির, বসতে বসতে তাসবিহ, সুযোগ পেলেই ইস্তিগফার এবং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা-এভাবেই একজন মুমিন তার সাধারণ দিনকে বরকতময় জীবনে পরিণত করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জিহ্বাকে তাঁর জিকিরে সিক্ত রাখুন, প্রতিটি পদক্ষেপকে নেক আমলে পরিণত করুন এবং আমাদের জীবনকে কোরআন-সুন্নাহর আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।

কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনও জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

তবে ঘুমের ঘাটতি যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই ঘুমের সময়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কর্মক্ষমতা কমতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন বাড়ার আশঙ্কা

দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে-এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মধ্যে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে।

তবে গবেষণাগুলো মূলত সম্পর্ক বা association দেখায়; অতিরিক্ত ঘুমই যে সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘ ঘুমের পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাধি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই সোহেলের জন্য অবশেষে নতুন ঘরের কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আটঘর গ্রামে নতুন ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এর আগে সোহেলের দুর্দশার চিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। সরেজমিনে সোহেলের পরিবারের অবস্থা দেখে ইউএনও তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সোহেলের পরিবারে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া।

খুশি হয়ে সোহেল বলেন, “গোয়ালঘরের মতো ছোট্ট একটি ঘরে পরিবার নিয়ে কত কষ্টে দিন কাটিয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। নিজের কোনো জমি-ঘর নেই বলে সবসময় একটা ভয় কাজ করত। এখন ইউএনও স্যার আমাদের জন্য ঘর করে দিচ্ছেন। নতুন ঘর পাওয়ার আশা কখনো করিনি। আমি ও আমার পরিবার খুব খুশি। এই সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।”

সোহেলের স্ত্রী বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে এই ঘরে অনেক কষ্টে থেকেছি। বৃষ্টি হলে, রাতে ঘুমানোর সময়ও চিন্তা হতো। সন্তানদের নিয়ে খুব অসহায় লাগত। নতুন ঘর হবে শুনে মনে হচ্ছে আমাদেরও একটি নিরাপদ ঠিকানা হবে। ইউএনও স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সোহেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে ছিল। এমন একটি পরিবারের পাশে প্রশাসন দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু ঘর নয়, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য দোকানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”

ইউএনও দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সোহেলের পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে আমরা তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থাও করা হবে। পরিবারটি যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় সোহেলের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানের পথ তৈরি হয়েছে। অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষ থেকে এবার একটি নিরাপদ ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই এমন প্রশ্ন উঠছে রোগী ও স্বজনদের মনে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গুরুতর অসুস্থ ও জরুরি রোগীরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। রোগী নামানো বা ওঠানোর পরও অনেক চালক দীর্ঘসময় হাসপাতাল চত্বরেই অবস্থান করছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী কিংবা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা সেখানে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জরুরি বিভাগের সামনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সময় সামনে থাকা রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন স্বজনরা।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে কখনো কখনো রোগীকে স্ট্রেচারে করে কিংবা কোলে তুলে হাসপাতালের ভেতরে নিতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কয়েক মিনিটের দেরিও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রবেশপথে যানবাহনের এমন অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, “বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেব, সেটাও পারছি না। দিন-রাত গাড়ির হর্ন বাজে, চালকেরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করেন। এতে মাথা ধরে যায়, বুক আরও ধড়ফড় করে। হাসপাতাল নাকি বাসস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই এখানে।”

শুধু যানবাহনের জট নয়, হাসপাতাল চত্বরে অপ্রয়োজনীয় হর্ন, চালকদের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও যাত্রী ডাকার কারণে চিকিৎসার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এই শব্দদূষণ বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ভেতরে সারাক্ষণ যানবাহনের শব্দ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্বজনরা।

এক রোগীর স্বজন কাকলি চৌধুরী বলেন, “আমাদের রোগীকে নিয়ে যখন হাসপাতালে আসি, তখন প্রথমেই গাড়ির জটের মুখে পড়তে হয়। রোগী যদি গুরুতর হয়, তখন কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ হাসপাতালের গেট থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত যেতে যদি গাড়ির ভিড় সামলাতে হয়, তাহলে এর থেকে আর কষ্টদায়ক কী হতে পারে।”

অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদেরও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, “রোগী নিয়ে আসার পর অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আর বের হতে চান না। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী বা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগের সামনে কোনো যানবাহন দাঁড়াতে না দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় রিকশা ও ইজিবাইকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট আর হর্ন-হাকডাক নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়বে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।”

তবে তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

রোগী ও স্বজনরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।