খুঁজুন
, ,

বিয়ে করার আগে অর্থ সংক্রান্ত যে ৫ শিক্ষা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
বিয়ে করার আগে অর্থ সংক্রান্ত যে ৫ শিক্ষা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন?

একটি বিয়ের পরিকল্পনা করা প্রচণ্ড ক্লান্তিকর হতে পারে, যেখানে অতিথিদের তালিকা তৈরি, খাবারের মেনু নির্বাচন এবং নিখুঁত পোশাক বেছে নিতেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে যায়। কিন্তু এই উত্তেজনার আড়ালে অধিকাংশ দম্পতিই একটি বিশাল এবং অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে এড়িয়ে যান, তা হলো ‘অর্থ’।

টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলাটা হয়তো খুব একটা রোমান্টিক শোনায় না, কিন্তু দাম্পত্যের ‘সুখী সমাপ্তি’ যদি হানিমুনের রেশ কাটার পরেও বজায় রাখতে চান, তবে বিয়ের আগেই সঙ্গীর সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই মূলত আপনাদের ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

সম্পর্ক মনোবিজ্ঞান এবং সম্পদ তৈরির মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এখানে ৫টি মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হলো যা বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে আপনাদের অবশ্যই আয়ত্ত করা উচিত:

১. পরিবারের ‘মানি স্ক্রিপ্ট’ বা আর্থিক মানসিকতা বোঝা

মানুষ ছোটবেলায় তার পরিবারে অর্থের ব্যবহার যেভাবে দেখে বড় হয়, তার অবচেতন মনে একটি ‘মানি স্ক্রিপ্ট’ তৈরি হয়। আপনাদের বাবা-মায়েরা কি অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন, নাকি অর্থকে নিরাপত্তার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন? এই পুরনো অভ্যাসগুলোই ঠিক করে দেয় আপনার সঙ্গী কেন খরচ করতে ভয় পান বা কেন অকারণে কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন। বিয়ের আগে নিজেদের এই ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করুন।

২. ক্ষুদ্র বিষয়ে নজর না দিয়ে বড় বিষয়ে গুরুত্ব দিন

প্রতিদিনের ছোটখাটো খরচ যেমন: এক কাপ দামি কফি বা শখের কেনাকাটা নিয়ে ঝগড়া করে সময় নষ্ট করবেন না। বরং বড় লক্ষ্যগুলোতে নজর দিন। আপনারা কি ঋণের বিষয়ে একমত? অবসরের পরিকল্পনা বা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী? এই বড় স্তম্ভগুলো ঠিক থাকলে ছোটখাটো খরচ নিয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না।

৩. লোক দেখানো বিলাসিতা নয়, গুরুত্ব দিন আর্থিক নিরাপত্তায়

ইনস্টাগ্রামে লাইক পাওয়ার জন্য বা অন্যকে দেখানোর জন্য সম্পদ কেনা আর প্রকৃত ধনী হওয়া; এই দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সুখী দম্পতিরা অনেক সময় ‘কোয়াইট লাক্সারি’ বা শান্ত বিলাসিতায় বিশ্বাসী হন। তারা লোক দেখানোর চেয়ে পর্দার আড়ালে একটি শক্তিশালী আর্থিক নিরাপত্তার জাল তৈরি করতে বেশি আগ্রহী হন। প্রকৃত বিলাসিতা হলো যেকোনো জরুরি মুহূর্তে আর্থিক সংকটে না পড়া।

৪. ‘তোমার, আমার এবং আমাদের’ কৌশল

সব টাকা একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। আধুনিক অনেক দম্পতি একটি সংকর পদ্ধতি (Hybrid system) বেছে নেন। বাড়ি ভাড়া, বাজার বা ইউটিলিটি বিলের মতো যৌথ খরচের জন্য একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং ব্যক্তিগত শখের বা খরচের জন্য থাকবে আলাদা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। এতে যেমন দলীয় সংহতি বজায় থাকে, তেমনি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হয় না।

৫. আর্থিক বিশ্বস্ততা এবং ঋণের বিষয়ে স্বচ্ছতা

লুকানো ঋণ অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। বিয়ের অর্থ হলো আপনার সঙ্গীর আর্থিক দায়ভার এখন আপনার ওপরও বর্তাবে, বিশেষ করে যখন আপনারা যৌথভাবে বাড়ি বা গাড়ির ঋণের জন্য আবেদন করবেন। তাই এখনই সব ঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বা স্টুডেন্ট লোন নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। শুরুতে এটি অস্বস্তিকর মনে হলেও, একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো বড় ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে কেবল মনের মিল নয়, বরং আর্থিক স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের সালথায় বাড়ির পাশের জলাশয়ের পানিতে ডুবে নাদিয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মধ্যবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নাদিয়া মধ্যবালিয়া গ্রামের মো. মিন্টু বেপারী ও মোসা. সাজেদা বেগমের মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, সকালে নাদিয়ার মা বাড়ির উঠানে মেয়েকে রেখে পাশে বাঁশের কঞ্চি কাটছিলেন। একপর্যায়ে নাদিয়া সেখান থেকে সরে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি নিচু জলাশয়ের পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুরে এক নারী ও তার স্বামীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী.

​আদালত সূত্রে জানা যায়, অদ্য ০৭/১০/২০২৬ তারিখে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী মাসুদ বেপারী বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী/আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের বিশদ জেরা করেন।

​জেরার একপর্যায়ে বাদী রিনা আক্তার ও ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীর প্রদত্ত জবাবে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য তথ্যের প্রমাণ মেলে। তাদের জবানবন্দি ও জেরার জবাব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ বিচারক শামীমা পারভীন নিশ্চিত হন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

​আদালত সূত্র আরও নিশ্চিত করে, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবাদীকে অন্যায্য হয়রানি এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে বিচারক শামীমা পারভীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানে বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

​রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষে অবস্থানরত দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান,মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

ফরিদপুরে পাঁচ বছর পর কিশোর ওমর হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পাঁচ বছর পর কিশোর ওমর হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ১

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যার পাঁচ বছর পর রহস্য উন্মোচন করেছে ফরিদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল ইসলাম।

​গ্রেফতার নজরুল ইসলাম রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

​পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

​দীর্ঘ তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত নজরুলকে গ্রেফতার করে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল স্বীকার করেছেন, দুই আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তিও করা হয়।

​তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওমরকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন স্বজনরা ওমরের খোঁজে নামলে আসামিরা আতঙ্কিত হয়ে ওই রাতেই তাকে হত্যা করে মরদেহ পাশের একটি ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে যায়।

​এ হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নজরুল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

​সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।