খুঁজুন
, ,

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সালথা উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন স্বাক্ষরিত প্যাডে এই কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।

​অনুমোদিত কমিটিতে মো. আতিকুর রহমান মোল্যাকে সভাপতি এবং মো. শফিকুল ইসলাম (সুফিকে) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

​কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন— ​সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. ইউসুফ মাতুব্বর,​সহ-সভাপতিগণ মো. নাসির হায়দার দরজী, মো. মাহফুজুল রহমান, মো. লাল মিয়া খান, মো. হাফিজুর রহমান, মো. জাহিদ ফকির ও মো. বকুল খান

​সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইউসুফ মোল্লা,​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান মন্ডল ও মো. লাভলু শেখ। ​সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজর আলী মাতুব্বর, মো. ছমির মোল্লা ও মো. এনায়েত মোল্লা,​সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গাউস হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকমো. রবিউল মাতুব্বর ও মো. রোকন মাতুব্বর।

​দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম সুমন, ​সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. শাকিল মোল্লা, ​প্রচার সম্পাদক মো. লিটন সরকার, ​প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাজিব খান,​শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. রকিবউদ্দিন মোল্যা (মঞ্জুর), ​স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম,​কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল শিকদার।

​এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মো. আসাদ মিয়া, মো. ইউনুস মোল্যা, মো. সেকেন মাতুব্বর, মো. জামাল শেখ, মো. ইলিয়াছ শেখ, মো. আব্দুল করিম, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. উজ্জ্বল মোল্যা ও মো. শাকিল মৃধাকে।

​সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

মানুষের আত্মা আজ পচে গেছে স্তূপে স্তূপে,

সভ্যতার মুখোশটা সে পরে নেয় রোজ খুব মাপে।

রক্তের স্রোত বয়ে যায় মানুষের ভেতরেই সুপ্ত,
মানুষ তো অমানুষ হলো, হৃদয়টা পুরোপুরি লুপ্ত।

শিক্ষার আলোয় আজ চারপাশ ঝলমল করে,

হিসাবের খাতা খোলে শিক্ষিত মানুষ স্বার্থের ঘরে।
ডিগ্রির পাহাড় জমে, সার্টিফিকেট ওড়ে বাতাসে,
কিন্তু মনটা যে পড়ে থাকে পশুপাখি কিংবা লাশের পাশে!

কত না বুলি আওড়ায়, কত নীতি, কত শত বাণী,

ভিতরটা হাহাকার, লোভের আগুনে পুড়ে ছাই জানি।
বইয়ের পাতায় শেখা বিদ্যা মুখে শুধু বুলি ফোটায়,
বিবেকটা মারা গেছে, স্বার্থের মোড়কে মন মোড়ায়।

তবে কি মানুষ তবে সভ্য হলো নাকি হলো অসভ্য?

এই পচা যুগে মানবতা আজ বড়ই নিঃস্ব ও লভ্য।
পোশাকে পরিপাটি, ঠোঁটে হাসি, মনে হিংসার বিষ,
এই আধুনিক পশুপাট্টা—আমাদের বর্তমান দিশা নিশি!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চারটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৪৮ জন। এতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

​তবে ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ৭০.৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ।

​প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার চারটি কলেজ থেকে এবার মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৪৪ জন। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​ফলাফলের চিত্রে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​অন্যদিকে উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের ফলাফলের চিত্র ছিল হতাশাজনক। এই কলেজ থেকে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৫৭ জন, পাসের হার ৩২.০৪ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

​এছাড়া আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে (পাসের হার ৩৯.৫২% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন)। হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজ থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৬ জন (পাসের হার ৩৪.০৪%), এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

​চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ হলেও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬.৮৬ শতাংশ কম। এমন ফলাফলে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং পারিবারিক তদারকির অভাবে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

​উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ ফাতেমা অনন্যা বলেন, “সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ায় আমাদের এই সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

​সার্বিক বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে।