খুঁজুন
, ,

অনলাইন ব্যবসায় বিক্রি বাড়ানোর ৯টি কার্যকর সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন ব্যবসায় বিক্রি বাড়ানোর ৯টি কার্যকর সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল

বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা শুরু করা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব অল্প খরচেই নিজের পণ্য বা সার্ভিস মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। তবে ব্যবসা শুরু করা যতটা সহজ, নিয়মিত বিক্রি পাওয়া ততটা সহজ নয়।

অনেক ব্যবসায়ী ভালো পণ্য রাখেন, নিয়মিত পোস্ট করেন, তারপরও কাঙ্ক্ষিত অর্ডার পান না। এর অন্যতম কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করা। শুধু পণ্যের ছবি পোস্ট করলেই বিক্রি বাড়ে না। সঠিক অডিয়েন্স বেছে নেওয়া, ভালো কনটেন্ট তৈরি করা, দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচারণা চালানো—সবকিছু মিলিয়েই ভালো ফল আসে।

অনলাইন ব্যবসায় বিক্রি বাড়াতে নিচের ৯টি কৌশল কাজে লাগতে পারে।

১. আপনার সঠিক অডিয়েন্স চিহ্নিত করুন:

ব্যবসার শুরুতেই বুঝতে হবে আপনার পণ্য বা সার্ভিস কার জন্য। সবাইকে টার্গেট করে পোস্ট করলে অনেক সময় ভালো ফল পাওয়া যায় না।

ধরা যাক, আপনি মেয়েদের পোশাক বিক্রি করেন। তাহলে আপনার প্রধান অডিয়েন্স হতে পারেন নির্দিষ্ট বয়সের নারী ক্রেতারা। আবার শিশুদের পণ্য বিক্রি করলে আপনার অডিয়েন্স হতে পারেন বাবা-মায়েরা।

অডিয়েন্সের বয়স, পছন্দ, প্রয়োজন এবং কেনাকাটার অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা থাকলে তাদের জন্য সঠিক কনটেন্ট তৈরি করা সহজ হয়।

২. পণ্যের পরিষ্কার ছবি ব্যবহার করুন:

অনলাইন ব্যবসায় একজন ক্রেতা সরাসরি পণ্য হাতে নিয়ে দেখতে পারেন না। তাই ছবি এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

পণ্যের ছবি যত পরিষ্কার হবে, ক্রেতার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া তত সহজ হবে। সম্ভব হলে একই পণ্যের কয়েকটি ছবি দিন। সামনে, পেছনে এবং প্রয়োজনীয় অংশগুলো আলাদাভাবে দেখাতে পারেন।

ছবিতে অতিরিক্ত এডিট ব্যবহার না করাই ভালো। বাস্তব পণ্যের সঙ্গে ছবির বড় পার্থক্য থাকলে ক্রেতার বিশ্বাস কমে যেতে পারে।

৩. শুধু পণ্য বিক্রির পোস্ট দেবেন না:

একটি ব্যবসায়িক পেজে প্রতিদিন শুধু “এখনই কিনুন” বা “অর্ডার করুন” ধরনের পোস্ট থাকলে অডিয়েন্স বিরক্ত হতে পারেন।

পণ্যের পোস্টের পাশাপাশি দরকারি কনটেন্ট প্রকাশ করুন। আপনি যদি স্কিন কেয়ার পণ্য বিক্রি করেন, তাহলে ত্বকের যত্ন নিয়ে সাধারণ টিপস দিতে পারেন। পোশাকের ব্যবসা হলে কোন অনুষ্ঠানে কী ধরনের পোশাক ভালো মানাবে, সেটি নিয়ে পোস্ট করা যায়।

এভাবে আপনার পেজ শুধু বিক্রির জায়গা না হয়ে দরকারি তথ্য পাওয়ার জায়গা হিসেবেও পরিচিত হতে পারে।

৪. ছোট ভিডিও তৈরি করুন:

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট ভিডিও খুব সহজেই মানুষের নজর কাড়তে পারে। তাই ব্যবসার পণ্য নিয়ে নিয়মিত ছোট ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করুন।

ভিডিওতে পণ্যটি হাতে নিয়ে দেখানো, ব্যবহার করার পদ্ধতি বোঝানো কিংবা পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা যেতে পারে।

খুব দামি ক্যামেরা না থাকলেও সমস্যা নেই। ভালো আলো এবং পরিষ্কার ভিডিও থাকলে মোবাইল দিয়েও সুন্দর কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব।

৫. দাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কারভাবে দিন:

অনেক ব্যবসায়িক পেজে পণ্যের দাম জানতে ইনবক্স করতে বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি দরকার হতে পারে, তবে সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরাসরি দাম উল্লেখ করলে ক্রেতার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

পোস্টে পণ্যের দাম, সাইজ, রঙ, ডেলিভারি চার্জ এবং অর্ডারের নিয়ম পরিষ্কারভাবে লিখুন।

ক্রেতাকে বারবার একই তথ্য জানতে হলে তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই একটি পোস্টেই যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করুন।

৬. অডিয়েন্সের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিন

অনলাইন ব্যবসায় দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন সম্ভাব্য ক্রেতা একই সময়ে কয়েকটি পেজে পণ্য খুঁজতে পারেন। আপনি যদি অনেক দেরি করে উত্তর দেন, তিনি অন্য জায়গা থেকে পণ্য কিনে ফেলতে পারেন। তাই ইনবক্স এবং কমেন্ট নিয়মিত দেখুন।

একই ধরনের প্রশ্ন বারবার এলে আগে থেকেই কয়েকটি সহজ উত্তর তৈরি করে রাখতে পারেন। এতে দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া সহজ হবে। তবে শুধু দ্রুত উত্তর দিলেই হবে না, ভাষা ভদ্র এবং সহজ রাখাও জরুরি।

৭. ক্রেতার রিভিউ প্রকাশ করুন:

নতুন কোনো পেজ থেকে পণ্য কেনার আগে অনেক মানুষ অন্য ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা দেখতে চান। তাই সত্যিকারের ভালো রিভিউ আপনার ব্যবসার প্রতি বিশ্বাস বাড়াতে পারে।

কোনো ক্রেতা পণ্য পাওয়ার পর ভালো মন্তব্য করলে তার অনুমতি নিয়ে সেই রিভিউ পেজে প্রকাশ করতে পারেন।

ছবি বা ভিডিওসহ বাস্তব রিভিউ থাকলে সেটি আরও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। তবে ভুয়া রিভিউ তৈরি না করাই ভালো। দীর্ঘমেয়াদে একটি ব্যবসার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ক্রেতার বিশ্বাস।

৮. সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন টুল ব্যবহার করুন:

সব ব্যবসার জন্য শুধু সাধারণ পোস্ট করাই যথেষ্ট নাও হতে পারে। কোনো নতুন পেজের পরিচিতি বাড়াতে বা নির্দিষ্ট কনটেন্টের প্রাথমিক রিচ ও এনগেজমেন্ট বাড়াতে অনেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টুল ব্যবহার করেন।

এ ধরনের টুলের মধ্যে SMM panel-ও একটি পরিচিত ব্যবস্থা। সাধারণভাবে একটি SMM panel থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা আলাদা সার্ভিস পাওয়া যায়। এতে একটি জায়গা থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সার্ভিস দেখা এবং বেছে নেওয়া সহজ হতে পারে।

তবে SMM panel-কে মূল মার্কেটিং কৌশলের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ভালো কনটেন্ট, বাস্তব অডিয়েন্স, সঠিক টার্গেটিং এবং ভালো কাস্টমার সার্ভিস সবসময়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। SMM panel প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোনো সার্ভিস নেওয়ার আগে মূল্য, সার্ভিসের ধরন, ডেলিভারি সময় এবং সাপোর্টের বিষয়গুলো যাচাই করা ভালো। বাংলাদেশে এ ধরনের সার্ভিস সম্পর্কে জানতে চাইলে” https://smmxz.com/”দেখে বিভিন্ন অপশন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

৯. নিয়মিত ফলাফল দেখুন এবং পরিকল্পনা পরিবর্তন করুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কৌশল ভালো কাজ করছে তা বুঝতে নিয়মিত ফলাফল দেখা দরকার।

কোন পোস্টে বেশি মানুষ রিঅ্যাক্ট করছেন, কোন ভিডিও বেশি দেখা হচ্ছে এবং কোন ধরনের কনটেন্ট থেকে বেশি ইনবক্স আসছে—এসব বিষয় লক্ষ্য করুন।

যদি দেখেন নির্দিষ্ট ধরনের ভিডিও থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে একই ধরনের আরও ভিডিও তৈরি করতে পারেন। আবার কোনো কনটেন্টে নিয়মিত কম সাড়া পেলে সেটির বিষয়, ছবি, ক্যাপশন বা পোস্ট করার সময় পরিবর্তন করে দেখতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে একটি পরিকল্পনা সবসময় একইভাবে কাজ করবে না। অডিয়েন্সের আচরণ এবং ফলাফল অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে হয়।

শেষ কথা:

অনলাইন ব্যবসায় বিক্রি বাড়ানোর জন্য শুধু বেশি পণ্য পোস্ট করাই যথেষ্ট নয়। সঠিক অডিয়েন্স নির্বাচন, ভালো ছবি ও ভিডিও, দরকারি কনটেন্ট, দ্রুত রিপ্লাই, সত্যিকারের রিভিউ এবং পরিকল্পিত প্রচারণা—সবকিছু মিলিয়েই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টুল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এগুলোকে সবসময় মূল কনটেন্ট ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সহায়ক অংশ হিসেবে রাখা ভালো। নিয়মিত ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে অডিয়েন্সের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করলে ধীরে ধীরে পেজের পরিচিতি এবং বিক্রি দুটোই বাড়ানো সম্ভব।

ফরিদপুরে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২ জন

ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুর জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৬৪৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং জেলায় এখন পর্যন্ত ৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, মধুখালীতে ৪ জন এবং সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হননি।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা আবশ্যক। এর জন্য নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে দপ্তরটি।

ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক আনিচুর রহমানসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে আসা একটি পরিবহন বাসের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে টেকেরহাটগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এতে দুই বাসের অন্তত ১৩ যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক আনিচুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​একই সময়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের উল্টো পথে ঢুকে পড়ে একটি অটোরিকশা। অটোরিকশাটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের চালক ও সহকারীসহ ৩ জন আহত হন।

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

​ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের পর জানানো হবে।

হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

জীবনটা যেন এক পলকেই থমকে গিয়েছিল। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল শরীরের শক্তি, কেড়ে নিয়েছিল ডান পা-টি। তবে জীবনের কাছে হার মানেননি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসান বিশ্বাস (৪৫)। এক হাতের কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর এক পা কেটে বাদ দেওয়ার পরও ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি তিনি। হুইলচেয়ারে বসেই চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের আত্মসম্মান ও স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।

​১২ বছর আগের কথা। নসিমন চালিয়ে স্ত্রী, সন্তান আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল হাসানের সংসার। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেটে ফেলতে হয় একটি পা, অবশ হয়ে যায় শরীরের এক পাশ। স্বাভাবিক চলাফেরার পথ বন্ধ হয়ে চিরতরে ঠাঁই হয় হুইলচেয়ারে।

​প্রতিদিনের গোসল, খাওয়া থেকে শুরু করে বিছানায় ওঠা-নামার মতো দৈনন্দিন কাজেও এখন পরিবারটির ভরসা হতে হয় হাসানকে। যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব একা কাঁধে সামলেছেন, তাঁকেই আজ অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।

​তবে অন্তরের অদম্য তেজ ও আত্মমর্যাদাবোধ তাঁকে দমাতে পারেনি। ভিক্ষা না করে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেই শুরু করেন ছোট্ট এক ব্যবসা। বোয়ালমারী পৌরসভার সোতাশী রহমানির আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে প্রতিদিন হুইলচেয়ারে বসে চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। চাকার ওপর ভর করেই মেলে ধরেন বেঁচে থাকার নতুন লড়াই।

​আবেগপ্লুত কণ্ঠে হাসান বিশ্বাস বলেন, “দুর্ঘটনার পর জীবনটা পুরো বদলে গেছে। এখন নিজের অনেক কাজও একা করতে পারি না, স্ত্রী-সন্তানের সাহায্য লাগে। কিন্তু আমি কারও বোঝা হতে চাই না। অল্প আয়ে যতটুকু পারি, দোকানটা চালিয়ে খাই। ভিক্ষা না করে নিজের পরিশ্রমে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।”

​বাবার এই আত্মমর্যাদার লড়াই দেখে বড় হওয়া হাসানের সন্তান জানান, “বাবা অনেক কষ্ট করেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই বাবাকে এমন দেখে আসছি। অনেক কাজে আমাদের সাহায্য করতে হলেও বাবা কখনো হাত পাততে চাননি। এই ছোট্ট দোকানটাই বাবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বড় চেষ্টা।”

​দোকানের অল্প বেচাকেনায় সংসার চালানো কঠিন হলেও প্রতিদিন দোকান খোলার মধ্যেই নতুন করে বাঁচার সাহস পান বোয়ালমারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা।

​নিজের ব্যবসার পুঁজি বাড়িয়ে দোকানটি একটু ভালোভাবে পরিচালনা করতে চান হাসান। তাই কোনো বড় দাবি নয়, বরং কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও সামান্য পুঁজির সহায়তার জন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।

​হুইলচেয়ারের ওপর সাজিয়ে রাখা কয়েকটি চানাচুর আর বিস্কুটের প্যাকেট যেন আজ হাসানের জীবনের এক বড় সত্য প্রকাশ করে—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছে ও আত্মসম্মানকে থমকে দিতে পারে না।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. রকিবুল হাসান বলেন, ​“হাসান বিশ্বাসের এই আত্মমর্যাদাবোধ ও অদম্য ইচ্ছা সত্যিই অনুকরণীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ এড়িয়ে নিজের পরিশ্রমে বেঁচে থাকার এই লড়াই সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত তাঁর খোঁজখবর নেব।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে সরকারি কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হলে তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর এই ছোট ব্যবসাটিকে আরও গতিশীল করতে কীভাবে সরকারি সহায়তা বা প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”