খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ঘন্টাব্যাপী উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে ওই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন নেতৃত্ব দেয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই তিনটি গ্রামের লোকদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকদের বিরোধ চলে আসছিল। এই পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তি মনসুরাবাদ গ্রামে এলে তাকে মারধর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন জোটবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনসুরাবাদ বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায়। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।সংঘর্ষের সময় মনসুরাবাদ বাজারের চার-পাঁচটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর ইউএনও, আগুনে পুড়ল ৩ ড্রেজার

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর ইউএনও, আগুনে পুড়ল ৩ ড্রেজার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ৩টি ড্রেজার বিনষ্ট এবং বালুমহাল আইনে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর মধ্য এলাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের অংশ থেকে ২টি ও সালেপুর পশ্চিমের হাজার বিঘা এলাকা থেকে ১টি ড্রেজার জব্দ করা হয়। পরে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজারই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​তবে অভিযানকালে ড্রেজার পরিচালনকারীদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে অবৈধভাবে মাটি ভরাটের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫ ধারায় আসলাম মোল্লা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, জনস্বার্থে ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত শেখ আদেল উদ্দিনের হাতে এ অনুদান তুলে দেওয়া হয়। স্পেন প্রবাসী ও স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামাণিকের আর্থিক সহযোগিতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিলারচর গ্রামের শেখ আদেল উদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১টি ছাপড়া ঘর ভস্মীভূত এবং রান্নাঘরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে মারা যায় গোয়ালঘরে থাকা ৭টি ছাগল। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

​সংবাদ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার অংশ হিসেবে ফরিদপুর-৪ আসনের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্দেশনায় নগদ আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​অনুদান প্রদানকালে চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান মোল্লা, সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস (ভিপি বাদশা), উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোজাফফর হোসেন মোল্লা, চরভদ্রাসন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরমান আলী শিকদার এবং ঢাকা উত্তর কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সহযোগিতা প্রসঙ্গে স্পেন প্রবাসী ইউনুছ আলী প্রামাণিক জানান, দুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।