খুঁজুন
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

কর্মক্ষেত্রে বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু ছোট অফিস বা প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশে অনেক সময় অফিস সময়ের পরেও অতিরিক্ত কাজ করার অনুরোধ আসে। পদোন্নতি বা প্রিয়পাত্র হওয়ার দৌড়ে আমরা অনেকেই তখন ‘না’ বলতে দ্বিধা বোধ করি। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সঠিক উপায়ে সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।

কীভাবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অতিরিক্ত সময়ের কাজকে বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেবেন, তার কিছু কৌশল এখানে আলোচনা করা হলো:

১. ‘না’ বলা অপরাধ নয়

মনে রাখবেন, হুট করে অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ পেলে তা ফিরিয়ে দেওয়া মানে আপনি একজন অপেশাদার কর্মী নন। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানসিক অবসাদ বা ‘বার্নআউট’ রোধ করতে সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনি যদি আপনার নির্ধারিত কাজের সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন না করেন, তবে তা আপনার কর্মসংস্থানের অধিকারের মধ্যেই পড়ে।

২. অজুহাত নয়, সরাসরি বলুন

অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ নাকচ করার সময় দীর্ঘ বা অবান্তর অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তুচ্ছ কারণ দেখালে তা আপনার বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। তার বদলে স্পষ্টভাবে বলুন যে আপনার আগে থেকে ঠিক করা কিছু ব্যক্তিগত ব্যস্ততা রয়েছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

৩. আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় থাকুন

উত্তর দেওয়ার সময় দ্বিধা করবেন না। আপনি যদি ইতস্তত করেন, তবে বস মনে করতে পারেন যে আপনাকে বুঝিয়ে রাজি করানো সম্ভব। তাই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন। যদি বস বারবার অনুরোধ করতে থাকেন, তবুও নিজের আগের অবস্থানে অনড় থাকা জরুরি, অন্যথায় ভবিষ্যতে তিনি আপনাকে বারবার এই অনুরোধ করার সুযোগ পাবেন।

৪. বিকল্প সমাধান দিন

আপনি সরাসরি কাজ করতে না পারলেও সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। যেমন: ‘আজ আমি অতিরিক্ত সময় দিতে পারছি না, তবে আগামীকাল সকালেই এই কাজটি সবার আগে শেষ করে দেব’ অথবা ‘এই প্রজেক্ট সম্পর্কে অন্য কোনো সহকর্মী ভালো জানেন কি না তা দেখতে পারেন’। এতে প্রমাণিত হয় যে আপনি অফিসের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু আপনার নিজস্ব সময়েরও গুরুত্ব আছে।

৫. দ্রুত উত্তর দিন

বস যখন আপনাকে ফোন বা মেসেজ করবেন, যত দ্রুত সম্ভব আপনার অপারগতা জানিয়ে দিন। আপনি সময় নিলে তিনি হয়তো অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়ার সুযোগ হারাবেন। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তিনি যদি আপনাকে ফোন করেন তবে ফোন ধরুন, অথবা সম্ভব না হলে দ্রুত মেসেজ বা ইমেইল পাঠিয়ে দিন।

৬. নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন

যদি বাড়তি সময় কাজ করা আপনার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে আপনার কর্মসংস্থান চুক্তি পুনরায় যাচাই করুন। আপনার চুক্তিতে বিশ্রামের সময় বা নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে কী উল্লেখ আছে তা জেনে রাখা ভালো। নিয়মিতভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করা হলে বিষয়টি নিয়ে বসের সাথে সরাসরি আলোচনা করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

অফিসের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কাজ করা দোষের কিছু নয়। তবে তা যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। আত্মবিশ্বাসের সাথে একটি বিনয়ী ‘না’ আপনার কর্মজীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করে তুলতে পারে।

ক্যারিয়ার অ্যাডিক্ট অবলম্বনে

ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী আমবাগান ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বেকারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন। জাকির একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। সে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে মাস্টার্স করছেন।

কুঞ্জনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখের প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমির প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘাজুড়ে রয়েছে আমবাগান। বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৯০টি আমগাছ। চলতি মৌসুমে পুরো বাগানের আম কিনে নিয়েছেন জাকির হোসেন। এরপর সরাসরি বাগান থেকেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের টাটকা আম।

বাগানটিতে হারিভাঙা, হিমসাগর, রুপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, মল্লিকা, রাজভোগ, গোবিন্দভোগ, আশ্বিনা-সহ প্রায় ১৩ জাতের আম রয়েছে। অনলাইনে প্রতি কেজি আম ৬০ টাকা এবং বাগানে সরাসরি এসে কিনলে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম।

জাকির জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগানে আসছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে তারপর কিনে নিচ্ছেন।

স্থানীয় চাকরিজীবী রতন শেখ বলেন, “বাজারে অনেক সময় কতদিন আগে পাড়া আম বিক্রি হয় তা জানা যায় না। কিন্তু এখানে সরাসরি গাছ থেকে পাড়া টাটকা আম পাওয়া যায়। দামও বাজারের তুলনায় কম। তাই আমরা পরিবার নিয়ে এসে আম কিনছি।”

জাকির হোসেন বলেন, “পড়াশোনা করেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিনা। তখন চিন্তা করলাম মৌসুমি ফলের ব্যবসা করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই আমবাগানের আম কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজের আয় যেমন হচ্ছে, তেমনি আমার সঙ্গে আরও ৫ থেকে ৭ জন যুবক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকিরের উদ্যোগে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা আম সহজে কিনতে পারছেন। ফলে বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় আম বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কৃষি ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং অন্য যুবকদেরও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আম চাষ ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণরা কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করায় একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করায় ভোক্তারা টাটকা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন। কৃষিতে শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে Patient Point Ltd.।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় উপস্থিতদের।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল (এমবিবিএস, পিজিটি, এমপিএইচ-রোগতত্ত্ব)। তিনি রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন Patient Point Ltd.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম (বাবু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. বাচ্চু শেখ। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির হেলথ কার্ড সেক্টরের প্রধান মো. আনিসুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের বহু মানুষ এখনও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যের অভাবে প্রতারকচক্র ও দালালদের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। Patient Point Ltd. মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্য, সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, Patient Point Ltd. সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জটিল রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সদস্য হওয়ার পর তারা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তারা Patient Point Ltd.-এর রোগীবান্ধব কার্যক্রম ও আন্তরিক সেবার প্রশংসা করেন।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী সকল রোগীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আপনার সিভি খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়োগকর্তারা যে ৮ বিষয় লক্ষ্য করেন?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
আপনার সিভি খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়োগকর্তারা যে ৮ বিষয় লক্ষ্য করেন?

বর্তমান সময়ের চাকরির বাজার আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক। আপনার হাতে হয়তো দারুণ একটি ডিগ্রি আছে অথবা এক দশকের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবুও অনেক সময় মনে হয় যেন আপনি শূন্যে চিৎকার করছেন; কোথাও কোনো সাড়া মিলছে না। আমরা সাধারণত সিভি তৈরি করার সময় কি-ওয়ার্ড বা এআই অ্যালগরিদমের দিকে বেশি নজর দিই, কিন্তু যখন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ আপনার ফাইলটি ওপেন করেন, তখন আসলে কী ঘটে?

সম্প্রতি একজন সাবেক রিক্রুটারের একটি ভাইরাল পোস্ট থেকে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, একজন নিয়োগকর্তা আপনার সিভি খোলার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে আপনি পরবর্তী ধাপের জন্য যোগ্য কি না। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই আপনার সিভির কিছু নির্দিষ্ট দিক তাদের নজর কাড়ে, যা হয়তো আপনি নিজেও কখনো খেয়াল করেননি। আপনার স্বপ্নের চাকরিতে ডাক পেতে হলে সিভির সেই ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

১. পদমর্যাদার তাৎক্ষণিক স্পষ্টতা

নিয়োগকর্তাদের হাতে গোয়েন্দাগিরি করার মতো সময় নেই। আপনার সিভি খোলার সাথে সাথেই যেন বোঝা যায় আপনি ঠিক কোন লেভেলের (জুনিয়র, মিড-লেভেল নাকি সিনিয়র) পদের জন্য যোগ্য। আপনার কাজের শিরোনাম এবং দায়িত্বগুলো যেন প্রথম লাইন থেকেই আপনার ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। যদি আপনি মিড-লেভেল পদের জন্য আবেদন করেন কিন্তু আপনার বর্ণনা ইন্টার্নদের মতো হয়, তবে আপনার সিভিটি শুরুতেই বাদ পড়ে যেতে পারে।

২. অহেতুক সংখ্যার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

সিভিতে সংখ্যা বা ম্যাট্রিক্স যোগ করা ভালো, কিন্তু তা যেন অর্থহীন না হয়। ‘১৫% দক্ষতা বৃদ্ধি করেছি’—এমন ভাসা ভাসা তথ্যের চেয়ে সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখান যা কেবল আপনিই অর্জন করেছেন। আপনি ঠিক কীভাবে অর্থ সাশ্রয় করেছেন বা সময় বাঁচিয়েছেন, তার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করুন। প্রেক্ষাপটহীন সংখ্যা কেবল শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩. সম্ভাবনার চেয়ে প্রমাণের গুরুত্ব বেশি

বাজার যখন কঠিন, তখন কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। আপনি ভবিষ্যতে কী করতে পারবেন, তার চেয়ে অতীতে কী করেছেন তার প্রমাণ দিন। কোনো কাজের ক্ষেত্রে ‘আমি হয়তো এটি পারব’ বলার চেয়ে ‘আমি অতীতে এটি সফলভাবে করেছি’—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা উদাহরণ নিয়োগকর্তাকে অনেক বেশি আশ্বস্ত করে।

৪. পুরোনো অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে লিখুন

সিভি কোনো আত্মজীবনী নয়। নিয়োগকর্তারা জানতে চান বর্তমানে আপনার অবস্থান কী, ১০ বছর আগে আপনি কী ছিলেন তা নয়। আপনার সাম্প্রতিক দুই বা তিনটি পদের কাজের বিবরণ বিস্তারিত লিখুন। ১০ বছর আগের কোনো এন্ট্রি-লেভেল চাকরির জন্য কেবল পদবী এবং কোম্পানির নাম দিলেই যথেষ্ট। সিভিটি এমনভাবে সাজান যেন বর্তমান থেকে অতীতের দিকে যাওয়ার সময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা ক্রমশ ছোট হয়ে আসে।

৫. কাজের বর্ণনায় সামঞ্জস্য বজায় রাখুন: আপনার পদের নাম, কাজের ধরন এবং আপনার দাবিকৃত প্রভাবের মধ্যে মিল থাকতে হবে। একে বলা হয় সিভির ‘স্মেল টেস্ট’। যদি আপনার পদবী হয় ‘ডিরেক্টর’ কিন্তু কাজের বিবরণে কেবল সাধারণ ডাটা এন্ট্রির কথা থাকে, তবে নিয়োগকর্তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সবকিছুর মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে আপনার পেশাদারিত্বের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

৬. ‘তাতে কী?’

প্রশ্নের উত্তর দিন একই পদের জন্য হয়তো আরও ৫০ জন আবেদন করেছেন যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আপনার মতোই। নিয়োগকর্তা কেন অন্য সবার বদলে আপনাকেই বেছে নেবেন? আপনার সেই বিশেষ ‘সুপারপাওয়ার’ বা অনন্য দক্ষতাটি সিভিতে হাইলাইট করুন যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। নিজের অনন্য বৈশিষ্ট্য বা অর্জনগুলো এমনভাবে তুলে ধরুন যা দেখে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারেন আপনিই এই পদের জন্য সেরা।

৭. পড়ার সময় বাধা বা ‘ফ্রিকশন’ দূর করুন

পড়ার সময় নিয়োগকর্তাকে যদি কোনো বাক্য বুঝতে থেমে যেতে হয় বা কোনো অস্পষ্টতা খুঁজে পান, তবে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। একে বলা হয় ‘ফ্রিকশন’ বা পড়ার গতিতে বাধা। অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ, কর্মজীবনের ব্যাখ্যাহীন দীর্ঘ বিরতি বা জটিল টেকনিক্যাল শব্দ আপনার সিভিতে এই বাধা তৈরি করে। সিভিটি এমন সহজবোধ্য ও মসৃণ করুন যেন একবার চোখ বোলালেই আপনার যোগ্যতা বোঝা যায়।

৮. এআই-এর কৃত্রিম ভাষা বর্জন করুন

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা সিভিতে নিয়োগকর্তাদের ইনবক্স ভর্তি থাকে, যা অনেক সময় যান্ত্রিক ও প্রাণহীন মনে হয়। তাই নিজের অর্জনগুলো বর্ণনা করার সময় যান্ত্রিক ভাষার বদলে নিজের স্বাভাবিক ভাষা ব্যবহার করুন। একজন রক্ত-মাংসের মানুষের মতো করে নিজের সফলতার গল্প বলুন, যা নিয়োগকর্তার সাথে আপনার একটি মানবিক সংযোগ তৈরি করবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া