খুঁজুন
, ,

শ্রবণশক্তি হ্রাসের যে ৫ লক্ষণ অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্রবণশক্তি হ্রাসের যে ৫ লক্ষণ অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করে?

আমাদের অনেকেরই ধারণা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া মানেই হলো হঠাৎ করে কানে একদম না শোনা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অনেক সময় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শুরু হয় যা আমরা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় এড়িয়ে যাই। বয়সজনিত কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াটা ধীরে ধীরে ঘটে, যার ফলে অনেকে বিষয়টি বুঝতেই পারেন না যতক্ষণ না অন্যের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মুম্বাইয়ের ফোর্টিস হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ড. সঞ্জয় ভাটিয়া বলেন, ‘শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ দক্ষতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব’।

আপনার শ্রবণশক্তি ঠিক আছে কি না তা বুঝতে নিচের ৫টি লক্ষণের দিকে নজর দিন—

১. কথা ঝাপসা শোনানো, অস্পষ্ট নয়

শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ সবসময় শব্দ কম শোনা নয়। বরং আপনার মনে হতে পারে কথাগুলো অস্পষ্ট বা ঝাপসা হয়ে আসছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে মস্তিষ্ককে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। অনেকে শব্দ শুনতে পেলেও ঠিক কী বলা হচ্ছে তা আলাদা করতে সমস্যায় পড়েন।

২. ‘আবার একটু বলবেন কি?’– অভ্যাসে পরিণত হওয়া

মাঝে মাঝে কাউকে কথা পুনরায় বলতে বলা স্বাভাবিক, কিন্তু এটি যদি আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। ড. ভাটিয়ার মতে, সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের বারবার কথা বলতে বলা শ্রবণশক্তি হ্রাসের একটি স্পষ্ট সংকেত। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে তার কাছের মানুষরাই এই সমস্যাটি আগে লক্ষ্য করেন।

৩. টিভির ভলিউম ক্রমাগত বাড়ানো

বাড়িতে কি টিভির ভলিউম নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হয়? আপনি যে ভলিউমে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন, বাড়ির বাকিদের কাছে কি তা অতিরিক্ত মনে হচ্ছে?। সময়ের সাথে সাথে টিভির শব্দ বাড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা সরাসরি শ্রবণশক্তির অবনতির দিকে ইঙ্গিত করে।

৪. ফোনে কথা বলতে সমস্যা হওয়া

সরাসরি কথা বলার সময় আমরা সামনের মানুষের ঠোঁট নাড়ানো বা মুখের ভঙ্গি দেখে কথা অনেকটা বুঝে নেই। কিন্তু ফোনে এই সুযোগ থাকে না বলে মস্তিষ্ককে পুরোপুরি শব্দের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফোনের অপর প্রান্তের কথা বুঝতে কষ্ট হওয়া বা ভুল বোঝা শ্রবণশক্তি সমস্যার একটি বড় লক্ষণ।

৫. কানে অনবরত ভোঁ ভোঁ বা শিস দেওয়ার শব্দ

কানে সব সময় গুঞ্জন, শিস বা বাঁশির মতো শব্দ হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিনিটাস’ বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়, বরং শ্রবণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যার একটি লক্ষণ। এই সমস্যাটি অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

কেন অবহেলা করবেন না?

শ্রবণশক্তির সমস্যা কেবল কানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। ড. ভাটিয়া সতর্ক করে বলেন যে, কানে কম শোনার কারণে মানুষ ধীরে ধীরে সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়, যা থেকে একাকীত্ব, হতাশা এবং মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। তাই আপনার বা আপনার প্রিয়জনের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হলরুমে এ সভার আয়োজন করে ‘স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর’।

​কর্মসূচিতে কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং তুহিন বিন আলমগীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা গিয়াস।

​মূল প্রবন্ধে ডা. সাবরিনা গিয়াস বলেন, “উচ্চঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।” টিকার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানে উৎসাহিত করা জরুরি। আর্থিক কারণে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় দুটি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে তৃতীয় টিকাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজেন্দ্র কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ওবায়দুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর তারেক হোসাইন ও রাজবাড়ী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বড়। তাই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, এই ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হল সুপার, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাসুদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। মাসুদা বেগম ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে প্রায় ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।