খুঁজুন
, ,

ঝড়-বজ্রপাতের আগে যে ৫ কাজ করতে ভুলবেন না?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঝড়-বজ্রপাতের আগে যে ৫ কাজ করতে ভুলবেন না?

আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর গুরুগম্ভীর গর্জন শুরু হলেই আমরা সাধারণত জানলা-কপাট বন্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আপনার ড্রয়িংরুম বা রান্নাঘরে থাকা দামী ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রগুলোর সুরক্ষার কথা কি ভেবেছেন?

পরিসংখ্যান বলছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ বজ্রপাত হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই বেশ ভয়াবহ রূপ নেয়। ২০২৪ সালে সেখানে ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বজ্রপাত সরাসরি আপনার বাড়িতে না পড়লেও, কাছাকাছি কোথাও পড়লে বিদ্যুতের একটি বিশাল তরঙ্গ তৈরি হতে পারে, যা মুহূর্তেই আপনার প্রিয় যন্ত্রটিকে অকেজো করে দিতে সক্ষম। তাই জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি আপনার শখের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলো বাঁচাতে ঝড়ের আগেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

ঝড়-বৃষ্টির দিনে ঘর ও ইলেকট্রনিক্স সুরক্ষিত রাখার ৫টি জরুরি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. টেলিভিশন এবং গেমিং সিস্টেম

বাড়ির বিনোদনের প্রধান উৎস হলো টেলিভিশন এবং গেমিং কনসোল। বজ্রপাতের ফলে তৈরি হওয়া পাওয়ার সার্জ কেবল এই যন্ত্রগুলো নষ্টই করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ওয়ারেন্টিও বাতিল করে দিতে পারে। তাই মেঘের ডাক শুরু হলেই টেলিভিশন এবং প্লে-স্টেশন বা এক্সবক্সের মতো ডিভাইসগুলো আনপ্লাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি এগুলো কোনো পাওয়ার স্ট্রিপে যুক্ত থাকে, তবে সেই স্ট্রিপটিও ওয়াল সকেট থেকে খুলে রাখুন।

২. ডেস্কটপ কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্র

আপনার অফিসের কাজ বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের ডেস্কটপ কম্পিউটারটি বজ্রপাতের সময় বড় ঝুঁকিতে থাকে। বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে এমন কোনো যন্ত্র স্পর্শ না করার পরামর্শ দেয় সিডিসি। ঝড়ের সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করা নিরাপদ, যদি সেটি চার্জে লাগানো না থাকে। তবে ডেস্কটপের ক্ষেত্রে পিসি টাওয়ার, মনিটর, মডেম, রাউটার এবং প্রিন্টার—সবই আনপ্লাগ করা উচিত। মনে রাখবেন, সরাসরি বজ্রপাত না হলেও ইনডাইরেক্ট স্ট্রাইকের ফলে কম্পিউটারের মাদারবোর্ড বা প্রসেসরের মতো সূক্ষ্ম ও দামী যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে।

৩. রান্নাঘরের ছোট ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম

রান্নাঘরে থাকা টোস্টার, ব্লেন্ডার, কফি মেকার বা এয়ার ফ্রায়ারের মতো ছোট সরঞ্জামগুলোর কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। এই ছোট যন্ত্রগুলোতেও বর্তমানে জটিল ইলেকট্রিক সার্কিট থাকে যা পাওয়ার সার্জ সহ্য করতে পারে না। বড় ফ্রিজ বা স্টোভ সাধারণত প্লাগ করা রাখা গেলেও, ছোট সরঞ্জামগুলো ঝড়ের সময় খুলে রাখাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, টোস্টার বা কফি মেকারের মতো যন্ত্রগুলো ব্যবহারের পর এমনিতেও আনপ্লাগ করে রাখা উচিত যাতে আগুনের ঝুঁকি কমানো যায়।

৪. স্মার্ট হোম ডিভাইস

আধুনিক জীবনে আমরা অনেক বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি। স্মার্ট স্পিকার (যেমন- আমাজন অ্যালেক্সা), স্মার্ট প্লাগ বা স্ট্রিমিং ডিভাইসগুলো আমাদের জীবনকে সহজ করলেও বজ্রপাতের সময় এগুলো বেশ নাজুক থাকে। বিশেষ করে যেসব ডিভাইস ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট সিস্টেমের সাথে যুক্ত, সেগুলো কেবল লাইনের মাধ্যমে আসা বিদ্যুতের ঝাপটায় দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথেই এই স্মার্ট হাবগুলো বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন।

৫. এয়ার কন্ডিশনার ইউনিটস

তীব্র গরমে ঝড়ের স্বস্তি এলেও আপনার এসি ইউনিটের জন্য এটি বিপদ ডেকে আনতে পারে। বজ্রপাতের সময় সেন্ট্রাল এসি থার্মোস্ট্যাট থেকে বন্ধ রাখা জরুরি। পাওয়ার সার্জের কারণে এসির কম্প্রেসর নষ্ট হয়ে গেলে সেটি মেরামত করা নতুন এসি কেনার মতোই ব্যয়বহুল হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুতের আকস্মিক ভোল্টেজ বৃদ্ধিতে এসির কন্ট্রোল প্যানেল বা প্লাগ গলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উইন্ডো এসির ক্ষেত্রে সেটি আনপ্লাগ করা কঠিন হলে অন্তত সুইচ বন্ধ করে রাখা নিশ্চিত করুন।

ঝড় থেমে যাওয়ার পর সাথে সাথেই সব যন্ত্র প্লাগ ইন করবেন না। আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সামান্য একটু সতর্কতা আপনার দামী ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামগুলোকে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্ল্যাশগিয়ার

ফরিদপুরে লুট হওয়া পুলিশের ২৭ রাউন্ড কার্তুজ-গ্রেনেড উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লুট হওয়া পুলিশের ২৭ রাউন্ড কার্তুজ-গ্রেনেড উদ্ধার

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে পুলিশের লুট হওয়া ২৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি টিয়ার গ্যাস শেল ও ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০।

​বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কানাইপুর এলাকার আখ সেন্টার মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কানাইপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ওই ভবনে তল্লাশি চালিয়ে তাজা কার্তুজ ও দেশীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা ও পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ।

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের আলিপুর এলাকার সোহাগ ভিলায় এ সাহিত্য আসরের আয়োজন করা হয়।

​গাঙচিল সাহিত্য আসরের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ারাদ হোসেন রিয়াদ (বন্ধু রিয়াদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা। সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মোল্লার আমন্ত্রণে আয়োজিত এই আসরে জেলার প্রায় ৪১ জন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী অংশ নেন।

​দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান পরিবেশন এবং সাহিত্য বিষয়ক নানা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মো. বাহারুল ইসলাম (বাহার), মো. ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান ফরিদ, শাহনাজ পারভিন, ডা. হাফিজুর রহমান হাফিজ, সালমা ইসলাম, পলাশ নন্দী, যুগল কুমার দাস মিলন, আফরোজ জাহান পপি, আবিদা সুলতানা, ডা. হাসিনা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুদ্দীন শেখ, সুস্মিতা দাস, ঋষিতা দাস, সুমা সাহা, সিথী সাহা, রেজা হক, মিরাজ-ই-কবির খোকন, ইফরাজ হোসেন সায়ান, ইকারাদ হোসেন, মো. আক্তার হোসেন রিয়াদ, মো. শাহজাহান সরদার, আবু জাফর, মো. আব্দুছ ছামাদ, অজয় দাস তালুকদার, পারভীন, বাবল সরকার, সজল সিকদার বিদ্যুৎ, ফরিদ আহমেদ, শালমান শরিফ, দেবাশীষ মৌলি ও রোকিয়া হকসহ স্থানীয় গুণীজনেরা।

​আয়োজকরা জানান, নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করাই ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’-এর মূল লক্ষ্য।

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ছয়টি পরিবহনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের বদরপুর-সালথা রাস্তার মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

​‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্ব মূলক প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত এ অভিযানে ৬টি পরিবহনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি যানবাহনগুলো থেকে ১১টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জিহাদ হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন ফরিদপুর জেলার আনসার সদস্যরা।

​পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষায় ও ক্ষতিকর শব্দদূষণ নিরসনে এ ধরনের অভিযান জেলা জুড়ে অব্যাহত থাকবে।