খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের করিডোরে প্রতিদিনের মতোই ধীর পায়ে হাঁটেন মো. জাকির হোসেন। কারও হাতে এক কাপ চা তুলে দেন, কারও জন্য দরজা খুলে দেন, আবার কখনো কোনো সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে দেন, চা খাওয়ান। সংবাদ শিরোনামে যাদের নাম উঠে আসে, তাদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটির নাম খুব কম মানুষই জানেন। অথচ এই প্রেসক্লাবের প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি কক্ষ যেন তার জীবনেরই অংশ।

মো. জাকির হোসেনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৯ মে, ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর মহল্লায়। বাবা শেখ আব্দুর রহমান ছিলেন একজন নাইটগার্ড। অল্প আয়ের সেই চাকরিতে সংসার চলত কষ্টে। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় হয়েছেন জাকির। ফরিদপুরের বাখুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্য তার বই-খাতা কেড়ে নেয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে জীবিকার পথে নামতে বাধ্য করে।

মাত্র দশ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তমিজউদ্দীন তাজের হাত ধরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই যে শুরু, তারপর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন দশক। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, প্রেসক্লাবের ভবন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি জাকিরের দায়িত্ববোধ।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য সাংবাদিকের উত্থান-পতন দেখেছেন। অনেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব নিতে দেখেছেন, আবার তাদের চিরবিদায়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। সভাপতি সৈয়দ ইমামুল আজম আব্দুর রব, শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন, জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, আব্দুল আলী শিকদার—আজ তারা আর নেই। সাধারণ সম্পাদক মন্টু দাস গোপী, ইউসুফ রেজা মন্টু, আ.জ.ম. আমীর আলী, আলী আশরাফ মো. শোয়াইব ও আরিফ ইসলামও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আরও কত সদস্য, কত পরিচিত মুখ—এক এক করে হারিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি।

এসব কথা বলতে বলতে জাকিরের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। তিনি বলেন, “এই প্রেসক্লাবটাই আমার জীবন। এখানে আমার যৌবন কেটেছে, হাসি-কান্না কেটেছে। প্রতিটি দেয়ালে আমার স্মৃতি লেগে আছে।”

জাকিরের ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরা। স্ত্রী লিপি বেগম একজন গৃহিণী। অল্প আয়ে সংসার সামলাতে গিয়ে প্রতিটি দিনই তাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে। ছেলে আজিম হোসেন ২০২৪ সালে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে জীবিকার তাগিদে হামিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছেন। মেয়ে মোসা. হাফছার বিয়ে হয়েছে কাপড় তৈরির মেশিনচালক আরিফের সঙ্গে। নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন জাকির।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর যেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের হাড় ক্ষয়ের মতো জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। প্রতিদিন ওষুধ কিনতেই খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এই সামান্য টাকাও অনেক সময় জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার আশায় মানুষের সহায়তায় ছয়-সাতবার ভারতে গিয়েছেন। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও আবার ফিরে এসেছে অসুস্থতা। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা এখন অধরাই রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো কারও দরজায় গিয়ে হাত পাতেননি। নিজের অভাবকে হাসিমুখে আড়াল করে প্রতিদিন যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন—জাকিরের মুখে অভিযোগের চেয়ে কৃতজ্ঞতার কথাই বেশি শোনা যায়।

২০২৬ সালের মে মাসে মায়ের মৃত্যুর পর যেন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব, ওষুধের খরচ, পুরোনো দেনা—সব মিলিয়ে জীবন যেন আরও ভারী হয়েছে। তবুও দায়িত্ব পালনে তার কোনো ক্লান্তি নেই। কেউ প্রেসক্লাবে এলে এখনও আগের মতোই আন্তরিক হাসিতে অভ্যর্থনা জানান তিনি।

জাকির হোসেন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি নন। তিনি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার মানুষও নন। কিন্তু সংবাদ তৈরির পেছনে যারা নিরলস শ্রম দিয়ে যান, তাদের একজন তিনি। সাংবাদিকদের ব্যস্ততার ভিড়ে হয়তো অনেকেই তাকে খেয়াল করেন না, কিন্তু প্রেসক্লাবের প্রতিটি দিন, প্রতিটি আয়োজন, প্রতিটি ব্যস্ত মুহূর্তে তার নীরব উপস্থিতি অপরিহার্য।

একটি প্রতিষ্ঠানে টানা প্রায় ৩৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা শুধু চাকরি নয়, এটি এক ধরনের ভালোবাসা, এক ধরনের আত্মনিবেদন। সেই ভালোবাসার মূল্য কি শুধু একটি সামান্য বেতন? একজন মানুষ, যিনি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছেন, অসুস্থতার সময়ে কি তার পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব নয়?

আজও জাকির হোসেনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন খুব সাধারণ—আরও একবার ভালো চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাঁচতে চান। তিনি বিলাসী জীবন চান না, বড় কোনো বাড়ি বা গাড়িও চান না। শুধু চান একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সুযোগ, যাতে প্রতিদিনের ওষুধের চিন্তা আর চিকিৎসার খরচের হিসাব তাকে তাড়া না করে।

হয়তো সমাজে এমন অনেক জাকির হোসেন আছেন, যারা নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান, অথচ নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে জানান না। তাদের গল্প খুব কমই আলোয় আসে। কিন্তু এমন মানুষেরাই আমাদের সমাজের নীরব ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, সততা আর আত্মসম্মান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পদবি বা সম্পদে নয়, বরং নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতায়।

জাকির হোসেন এখনও প্রতিদিন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দরজা খুলে দেন। হয়তো একদিন সেই দরজাই তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে। কিন্তু তার আগে, একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

ফরিদপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর ইউএনও, আগুনে পুড়ল ৩ ড্রেজার

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর ইউএনও, আগুনে পুড়ল ৩ ড্রেজার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ৩টি ড্রেজার বিনষ্ট এবং বালুমহাল আইনে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর মধ্য এলাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের অংশ থেকে ২টি ও সালেপুর পশ্চিমের হাজার বিঘা এলাকা থেকে ১টি ড্রেজার জব্দ করা হয়। পরে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজারই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​তবে অভিযানকালে ড্রেজার পরিচালনকারীদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে অবৈধভাবে মাটি ভরাটের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫ ধারায় আসলাম মোল্লা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, জনস্বার্থে ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত শেখ আদেল উদ্দিনের হাতে এ অনুদান তুলে দেওয়া হয়। স্পেন প্রবাসী ও স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামাণিকের আর্থিক সহযোগিতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিলারচর গ্রামের শেখ আদেল উদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১টি ছাপড়া ঘর ভস্মীভূত এবং রান্নাঘরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে মারা যায় গোয়ালঘরে থাকা ৭টি ছাগল। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

​সংবাদ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার অংশ হিসেবে ফরিদপুর-৪ আসনের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্দেশনায় নগদ আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​অনুদান প্রদানকালে চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান মোল্লা, সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস (ভিপি বাদশা), উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোজাফফর হোসেন মোল্লা, চরভদ্রাসন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরমান আলী শিকদার এবং ঢাকা উত্তর কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সহযোগিতা প্রসঙ্গে স্পেন প্রবাসী ইউনুছ আলী প্রামাণিক জানান, দুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।