খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের সাত বছরের কারাদণ্ড 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের সাত বছরের কারাদণ্ড 

ফরিদপুরের মধুখালীতে ছয় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মো. হাকিম বিশ্বাস (৫৮) নামের এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এই জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের  বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ)  শামীমা পারভীন এ রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামী আদালতে হাজির ছিলেন।রায় প্রদানের পর তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। হাকিম বিশ্বাস ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার শিশুটির প্রতিবেশী।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ আগস্ট দুপুরে নিজের অসুস্থ শশুড় শাশুড়ীর কাছে নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে রেখে ব্যাক্তিগত কাজে মধুখালি বাজারে যান শিশুটির মা। পরে বিকেল চারটার দিকে বাড়িতে এসে জানতে পারেন প্রতিবেশী হাকিম তার শিশুমেয়েকে যৌন হেনস্থা করেছে।

এঘটনায় পরদিন ৩ আগস্ট শিশুটির মা বাদী হয়ে হাকিমকে একমাত্র আসামী করে মধুখালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন মধুখালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ কুমার দাস।

তিনি ২০১৯ সালের পহেলা মে এ ঘটনাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

সালথায় সড়ক পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
সালথায় সড়ক পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জান্নাতী আক্তার (৮) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামের একটি পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জান্নাতী আক্তার বড় বাংরাইল গ্রামের ইলিয়াস মুন্সীর মেয়ে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয় জান্নাতী। পরে বড় বাংরাইল গ্রামের আবুল বাশারের বাড়ির সামনে পাকা সড়ক পার হওয়ার সময় ফুলবাড়িয়া থেকে মোন্তারমোড়ের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত জান্নাতীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, স্কুলে যাওয়ার পথে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই সড়কটিতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার দে বলেন, “নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এস এম ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ভীমপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি একই উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের পূবিলা গ্রামের মঈনুদ্দিনের ছেলে। তিনি দুই বারের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এস এম ফারুক হোসেনের নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

আপনার প্রতিদিনের ক্লান্তি কেবল কাজের চাপ নয়, বরং এর পেছনে থাকতে পারে গভীর কোনো কারণ। বিশ্ববিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ অনেক সময় জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।

নিচে আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির ১২টি প্রধান কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরা হলো:

১. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় শরীর তার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। কেবল কয়েক ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট নয়, ঘুমের মান ভালো হওয়া জরুরি। ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।

২. পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি যাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে আয়রন, ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), নিয়াসিন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব। সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

৩. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মনকে নিস্তেজ করে দেয়। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস থেকে ‘এক্সহশন ডিসঅর্ডার’ বা অবসাদজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৪. অপ্রকাশিত শারীরিক সমস্যা: যদি কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ডিপ্রেশন ক্লান্তির বড় কারণ হতে পারে।

৫. ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস: শরীরের শক্তি বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করিয়ে আপনাকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে।

৬. অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে চাঙা ভাব দিলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্টো ফল দেয়। বেশি ক্যাফেইন ঘুমের সাইকেল নষ্ট করে দেয়, যা পরের দিন আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত করে তোলে।

৭. পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: শরীরের প্রতিটি জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য পানি অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অবসাদ দেখা দেয়।

৮. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা: শরীরের বাড়তি ওজন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯. মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাব: যারা নিয়মিত অ্যালকোহল বা মাদকাসক্ত, তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং অবসাদ বাসা বাঁধে।

১০. শিফট ডিউটি ও অনিয়মিত রুটিন: কাজের প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত শিফট পরিবর্তন করতে হয়, তাদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ব্যাহত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তির অন্যতম কারণ।

১১. অলস জীবনযাপন: সারাদিন বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১২. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রক্তচাপের ওষুধ, স্টেরয়েড বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টের মতো কিছু ওষুধের প্রভাবেও শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকতে পারে।

পরিত্রাণের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লান্তি দূর করতে প্রথমে আপনার ঘুমের পরিবেশ উন্নত করুন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। তবে যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও ক্লান্তি না কমে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না; তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন