খুঁজুন
, ,

প্যারোল কী এবং কেন দেওয়া হয়? কোন অপরাধে, কতদিন ও কী শর্তে জামিন পান বন্দিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
প্যারোল কী এবং কেন দেওয়া হয়? কোন অপরাধে, কতদিন ও কী শর্তে জামিন পান বন্দিরা

কারাগারে দণ্ড ভোগ করা মানেই সব সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে জেলে থাকা নয়। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কোনো বন্দিকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই সুযোগকেই বলা হয় প্যারোল।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মানবিক ও সামাজিক বিবেচনায় প্যারোলের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্যারোল কী

প্যারোল হলো কারাদণ্ড ভোগরত কোনো বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া। এই সময়ে বন্দি পুরোপুরি মুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন না। তাকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হয়। প্যারোল মূলত শাস্তি কমানো নয়, বরং শাস্তি ভোগের মধ্যেই সীমিত সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ।

কেন প্যারোল দেওয়া হয়

প্যারোল দেওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর অসুস্থতা, নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু, পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা বিশেষ সামাজিক কারণ। অনেক ক্ষেত্রে বন্দির আচরণ ভালো হলে এবং সে সংশোধনের পথে আছে বলে মনে হলে প্যারোল বিবেচনায় আনা হয়।

কারা প্যারোল পেতে পারেন

সব বন্দিই প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নন। সাধারণত যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয় সেগুলো হলো-

– বন্দির অপরাধের ধরন

– কারাদণ্ডের মেয়াদ ও ইতোমধ্যে কতদিন দণ্ড ভোগ করেছেন

– কারাগারে তার আচরণ ও শৃঙ্খলা

– সমাজে ফিরে গিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না

গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের ক্ষেত্রে প্যারোল দেওয়া অনেক সময় কঠোরভাবে সীমিত থাকে।

প্যারোল পাওয়ার প্রক্রিয়া

প্যারোল পাওয়ার জন্য সাধারণত বন্দি বা তার পরিবারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদনটি যাচাই করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সব দিক বিবেচনা করে যদি আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।

প্যারোলের শর্ত

– প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দিকে কিছু শর্ত মানতে হয়। যেমন-

– নির্দিষ্ট ঠিকানায় অবস্থান করা

– নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার কারাগারে ফিরে যাওয়া

– আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটানো

শর্ত ভঙ্গ করলে প্যারোল বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্যারোল পাওয়ার সুযোগও কমে যায়।

প্যারোল আর জামিন কি এক

প্যারোল ও জামিন এক বিষয় নয়। জামিন সাধারণত মামলার বিচার চলাকালীন সময়ের জন্য দেওয়া হয়। আর প্যারোল দেওয়া হয় দণ্ড ঘোষণার পর, যখন বন্দি ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করছেন।

প্যারোল হলো কারাবন্দিদের জন্য একটি মানবিক আইনি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে এটি কোনো অধিকার নয়, বরং কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। আইন, শর্ত ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই প্যারোল দেওয়া হয়।

সঠিক নিয়ম মেনে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে প্যারোল ব্যবস্থা সমাজ ও বন্দি উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”