খুঁজুন
, ,

ভাঙ্গায় পৃথক তিনটি স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৫০

আব্দুল মান্নান, ভাঙ্গা (ফরিদপুর):
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় পৃথক তিনটি স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৫০
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার, বাসস্ট্যান্ড দখল ও তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে পৃথক তিনটি স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় নারী পুরুষ সহ কমপক্ষে ৫০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও ৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করেছে। এ ঘটনায় পুকুরিয়া এলাকা থেকে ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাজার ও বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১০টি বাড়ি ভাংচুর, লুঠপাট  ও ৫টি বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ পক্ষের সুলতান মাতুব্বর ও মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর পক্ষের ইয়াকুব মাতুব্বর গ্রুপের মধ্যে পুখুরিয়া বাজার ও বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিগত ১৭ বছর ধরে প্রতিমাসে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা ও খাজনা আদায় করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় । রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে বিএনপির লোকজন তাদের দুই পক্ষের সাথে মিলিত হয়।
এঘটনা নিয়ে শনিবার রাতে ইয়াকুব মাতুব্বর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে নিয়ে অপর পক্ষে সুলতান মাতুব্বরের দলের জামাল মাতুব্বরের বাড়ি ভাংচুর চালায়। এঘটনার জের ধরে ঘোষণা দিয়ে রবিবার সকালে  দুই পক্ষের শত শত গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র  নিয়ে তিন ঘন্টাব্যাপী  চলা সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় ভাঙ্গা-সদরপুর সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১০টি বাড়ি ভাংচুর, লুঠপাট  ও ৫টি বাড়ি  অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুর জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এসময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একজন মহিলা সহ ৮ জনকে আটক করে।
অপর দিকে, রবিবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলা আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি গ্রামে আমপাড়া নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সুযাদী গ্রামের আলী মিয়া লোকজন ও দেলোয়ার মিয়ার গ্রুপের লোকজন বেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এলাকায় রণক্ষেত্র পরিনত হয়।  সংঘর্ষে চলাকালে দুই পক্ষের প্রায় ৩০ জন গ্রামবাসী আহত হয়। আহতদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে আলীমিয়ার দলের শাজাহান মিয়ার আম গাছে দেলোয়ার মিয়া দলের সোহাগের ছেলে তানভীর কয়েকটা আম পাড়ে। আমপাড়া নিয়ে গাছের মালিক শাহজাহান এসে তানভীরকে চড়থাপ্পড় মারে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে দেলোয়ারের লোকজন বেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী মিয়ার লোকজন উপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের লোকজন ২ ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষে ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারী সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০/১৫ জন গ্রামবাসী আহত হয় ।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, আজিমনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বর ও একই গ্রামের ফারুক ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিকেলে  বিরোধপূর্ণ জমির মাপঝোপ করার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠক করা হয়। সালিশের  উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।  উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল  নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতে আহতরা ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময় আবারো দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে।  সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০/১৫ জন লোক আহত হয়। আহতদেরকে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে । দুই পক্ষের ২টি মামলা দায়ের করেছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, গত দুদিন ধরে পুখুরিয়া, শুয়াদী ও আজিমনগর গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পুকুরিয়া এলাকা থেকে ৮জনকে আটক করেছি। এঘটনায় ভাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। দাঙ্গা হাঙ্গামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘এসো জ্ঞান অন্বেষণে, বের হও সেবা দানে’—স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ। সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহাদত হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী শায়লা শারমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ বলেন, নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ ও ক্যাডেট কলেজগুলো শৃঙ্খলার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ঝরে পড়ে। কলেজে ওঠার পর নিয়মশৃঙ্খলা মেনে না চলা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না; সফলতার জন্য নিয়মশৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দায়িত্ববোধের চর্চা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালিত হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নিম্নমাধ্যমিক এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। ২০১৫ সালে ডাবল শিফট চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শৃঙ্খলা, যা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে চলা, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনটা ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচের মতো। এখানে কখনো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে, আবার যেকোনো সময় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থেকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় অন্যান্য বক্তারাও নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার (৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবলু শেখকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকার শংকরপাশা বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে এসআরবি।

​এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এসআরবি-৬-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দার তারাকান্দি এলাকার ইদ্রিস আলী মোল্যার মেয়ে মাহফুজা আক্তারকে আসামিরা তাঁদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে মাহফুজা নিখোঁজ ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রধান আসামি বাবলু শেখের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

​এসআরবি আরও জানায়, পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে ওই দিন বিকেল থেকে রাতের কোনো একসময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

​এ ঘটনায় নিহত মাহফুজার বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-১০। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

​গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত ১০টি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে তালবীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের শফির ঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ৫০০টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

​ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা শামিম হোসেন এবং নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ফরিদপুরের ৩টি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার তালবীজ ও ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। বজ্রপাতের কারণে প্রতি বছর দেশে অনেক প্রাণহানি ঘটে। এই ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানান।

​আলোচনা সভা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক যক্ষ্মাব্যাধি (ভক্ষব্যাধি) হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে তালবীজ রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।