খুঁজুন
, ,

ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

জ্বালানি তেলের বাজার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পদ্মাপাড়ের কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও বাজারে পরিবহন—কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার আবশ্যক হওয়ায় উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উৎপাদনের প্রতিটি খাতে ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত শস্যের বাজারদর না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক ও মাঝারি চাষিরা।

​ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় চাষাবাদকৃত মোট রোপা আমন ও অন্যান্য ফসলি জমির একটি বড় অংশে সেচ ব্যবস্থার জন্য ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন ও পাওয়ার পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। পদ্মার চরাঞ্চল এবং সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদর উপজেলার মতো বিস্তীর্ণ কৃষি বেল্টে বৈদ্যুতিক সেচের সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় ডিজেলই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। ফলে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষকদের পকেটে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হওয়ায় প্রতি বিঘায় শুধুমাত্র জ্বালানি বাবদ কৃষকের বাড়তি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৬০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

​ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক মান্নান মাতুব্বর বলেন, “আমি এ বছর ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান এবং পাট চাষ করেছি। আগের খরচের হিসাব অনুযায়ী সেচ পাম্প মালিকেরা এখন বিঘাপ্রতি সেচ মাশুল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ট্রলি ও হারভেস্টার মালিকরাও বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। ফসল ঘরে তোলার আগেই আমাদের বাজেট লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ও প্রসেসিংয়ে গড়ে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হলেও ডিজেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় বর্তমানে তা ৯৫০ থেকে ১,০৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ নতুন বা পুরনো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯৫০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে ৮৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে। তবে, সেচ নয় অধিকাংশ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল রোপা আমন ধান। তবে, আউশধান ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যেগুলো সেচের উপর নির্ভরশীল। জেলায় বোরোধান আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

​নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মো. শামীম হোসেন জানান, “বীজ, সার, শ্রমিক ও ডিজেলের যে চড়া দাম, তাতে ১ মণ ধান উৎপাদনে ১,০০০ টাকার বেশি লেগে যাচ্ছে। অথচ হাটে নিয়ে সেই দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মূলত কোনো মতে টিকে থাকার জন্য চাষাবাদ করছি, লাভের মুখ দেখা এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

ফরিদপুর জেলা শুধু ধান নয়, বরং পেঁয়াজ, পাট, সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা জানান, জমি চষা এবং চারা রোপণের সেচ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ঘণ্টাপ্রতি চাষের ভাড়া বহুগুণ বেড়েছে। ফলে রোপা আমন বা বোরো মৌসুমের পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদনেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বইতে হবে তাদের।

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা বা আমন মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সেচ তুলনামূলক কম লাগে। কিন্তু আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ১০০% কৃত্রিম ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়, যার বড় একটি অংশই চলে ডিজেলচালিত পাম্পে। দুই-তিন মাস পরেই বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত শুরু হবে। আমন মৌসুমেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে সম্পূর্ণ সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে খরচ কোথায় গিয়ে ঠেকবে—তা ভেবে আতঙ্কে রয়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের পার্লাইনিং, পার্চিং ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি। একই সাথে সরকার যদি কৃষক পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে ধানের ন্যায্য ও বাড়তি সমর্থক মূল্য নির্ধারণ করে, তবে তারা এই সংকট ও লোকসান থেকে রেহাই পাবেন।”

সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

ফরিদপুরের সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী সদরপুর সরকারি কলেজ, সদরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব লিফলেট বিতরণ করা হয়।

​লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা রাজীব মোল্লা, সোহাগ মোল্লা, সোহান বয়াতি, তরিকুল ইসলাম ও আহসান হাবিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

​ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদ জানান, দলীয় নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক নানা অসংগতির বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ফরিদপুর কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‍্যালিটি বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল তহমিনা মমতাজের সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, সহকারী কমিশনার দেব কুমার পাল ও সহকারী পোস্টমাস্টার রিপন বিশ্বাসসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​র‍্যালি শেষে বক্তারা আধুনিক ও সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্কের নানা সম্ভাবনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ডাকসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ফরিদপুরে শেষ মুহূর্তে ইলিশের তীব্র সংকট, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শেষ মুহূর্তে ইলিশের তীব্র সংকট, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা

Oplus_131072

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার শেষ সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দেখা দিয়েছে তীব্র ইলিশ সংকট। বাজারে ইলিশের আশায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও মাছ না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

​বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগের মুহূর্তে ইলিশ কেনার জন্য বাজারে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে অধিকাংশ মাছের দোকানেই পর্যাপ্ত ইলিশের জোগান নেই।

​শেষ মুহূর্তে বাজারে আসা ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও তাদের পছন্দমতো ইলিশ পাননি। দু-একটি দোকানে অল্প কিছু ইলিশ থাকলেও তার দাম ছিল মাত্রাতিরিক্ত। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দাম ও ঘাটতির কারণে অনেকে মাছ না কিনে ফিরতে বাধ্য হন।

​তবে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দু-একজন ক্রেতা ইলিশ কিনতে পেরে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী কাজী রায়হান বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আগে পরিবারের জন্য একটা ইলিশ কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাজারে এসে দেখি মাছ নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকটি দোকান ঘোরার পর শেষ পর্যন্ত একটা মাছ পেয়েছি।”

​একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ইলিশ কিনতে এসে প্রথম দিকে কোনো মাছ পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘুরে শেষ পর্যন্ত পেয়েছি, তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম।”

​মাছ না পেয়ে ফিরে যাওয়া একাধিক ক্রেতা জানান, রাত ১২টার পর থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ কেনাবেচা বন্ধ থাকবে, তাই শেষবারের মতো মাছ কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ আরও কমে যায়, যা হতাশাজনক।

​বাজারের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের শেষ সময়ে হঠাৎ ইলিশের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই তুলনায় আড়ত থেকে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। যে সামান্য পরিমাণ ইলিশ এসেছে, তা আসা মাত্রই চড়া দামে বিক্রি হয়ে গেছে।

​উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।