খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

শেষ চিঠি

রোমিও অনুব্রত
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ১০:২৭ এএম
শেষ চিঠি

নিরুদ্দেশের কবিতা লেখা সহজ কাজ নয়। এসেনিনকে তাই করতে হয়। এমন নয় যে কবিতা লেখার ঠিকানা তার নেই। বরং একটা নয়…কয়েকটা আছে। এই যেমন ধরা যাক সোফিয়ার কথা। গত তিন মাস হল তার থেকে ১৬ বছরের বড় সোফিয়ার সাথে তার খুব গভীরতা হয়েছে। দুজনেই দুজনের কুয়োর ভিতর যখন তখন একজন আরেকজনকে নামিয়ে নিচ্ছে। কাল রাতেও প্রেম গলিয়ে অনেক আনন্দ করেছে তারা। এসেনিন শক্ত করে সোফিয়াকে নিজের সাথে চেপে ধরে বলেছে, “তোমার ভিতরে মাথা গুঁজে দম বন্ধ হয়ে মরে যেতে ইচ্ছে করে। কিংবা ধরো, কাঁটা না বেছে একটা লাল গোলাপ পুঁতে দিলাম”! এসব কথার মানে বোঝে না সোফিয়া। এসেনিন নিজেও হয়ত বোঝে না। কিন্তু এইসব কথা খুব শীতে আগুনের আঁচের মতোই ভালো লাগে সোফিয়ার কাছে।

এখন দুপুর বারোটা। সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘরটা কেমন ঘোলাটে হয়ে আছে। জানালার পাশের সোফাটায় বসে আছে সোফিয়া। ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছুড়ে দিচ্ছে এসেনিনের দিকে। তার দিকে ভেসে আসতে থাকা একেকটা ধোঁয়ার বৃত্তের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে এসেনিন। সে বৃত্তের ওপাশে দেখতে পাচ্ছে দুপুরবেলা হঠাৎ লক আউট হওয়া কোনো কারখানা আর সেখান থেকে বের হয়ে আসতে থাকা শ্রমিকদের ঢল। ড্রেন দিয়ে ভেসে যাচ্ছে পোড়া মবিলের কালো স্রোত। একটা মরা বেড়ালের বাচ্চা সেখানে ডুবছে-ভাসছে, ডুবছে-ভাসছে.. একটা ছেলে শ্রমিকদের উল্টো দিকে ড্রেনের পাশ দিয়ে হাটছে। একটা মোড় ঘুরতেই থামতে হলো। একটা লাশ! ভেজা জামা। উপুড় হয়ে পড়ে আছে। হাতদুটো পিছমোড়া করে দড়ি দিয়ে বাঁধা। একপাশে মাথা কাত হয়ে আছে। চোখ দুটো একটু আগে উপরে ফেলা হয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে উপড়ানো চোখদুটো খুঁজছে তার দৃষ্টি। নেই! কিন্তু কোথায়.. আর শ্রমিকেরা ওদিকেই-বা চলে যাচ্ছে কেন! তাদের তো এই লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল করার কথা.. কই… একটা মানুষও তো…

বিহ্বল চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকা এসেনিনকে জিজ্ঞেস করল সোফিয়া, কী ভাবছো এত বলো তো?

-ভাবছি কারখানার ড্রেন দিয়ে যে আলকাতরা ভেসে যায়, তা নিয়ে একটা ছবি আঁকব। একটা মেয়ের মুখ। ধরো সিসিফির মুখ।

-নামটা এখন না বললে কী হতো না!

-সিসিফি তোমার থেকেও বেশি নখরামো জানত। আমি ঘুমের ভিতরে এখনও ওর আঁচড়ের গন্ধ পাই..

-স্টপ ইট!!

-ওকে। আমার না খিদে পেয়েছে!

-দেখো তুমি দশটা মেয়ের সাথে শুতে পারো। কিন্তু আমাকেই বেশি ভালোবাসতে হবে! বাসতেই হবে..

-বাসি তো! সাত দিন হলো একটা লাইনও লিখতে পারিনি। সব যে তোমার ভিতর গলিয়ে দিয়েছি।

-আমারও খুব খিদে লেগেছে। জানো, খালি পেটে সেক্স করলে বেশি এনজয় করা যায়।

-ও। কী খাবে?

-তোমায় খাবো। আসো, আসো বলছি!

-আমি আর কতদূর আসতে পারি বলো!

সোফিয়া দুই হাত প্রসারিত করে বলল, এই যে.. এতদূর

এসেনিন উঠে বিছানায় সোফিয়ার পাশে এসে বসলো। সোফিয়া তার কাঁধের দিকে মাথা ঝুকিয়ে অনুনয়ের সুরে বলল, কই..

এসেনিনের ঠোঁটের কাছে সোফিয়ার ঠোঁট। অন্তত সাত-আটজন পুরুষের পিপাসা মিটিয়েছে তার ঠোঁট। তাও নিজের তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। ঠোঁট এগিয়ে দেওয়ার সময় চোখের ভাষা সেইরকমই আদিম। কোনো রমণীর প্রথম দিকের কামনার মতো।

একটা ব্যাপার সোফিয়ার সাথে মেলে না এসেনিনের। কামনার খেলায় সোফিয়া একেবারেই সময় নেয় না। কিন্তু এসেনিনের ভালো লাগতো যদি চুমু খাওয়ার সময়গুলোতে শুধু ওর মুখের দিকেই সারাজীবন তাকিয়ে থাকা যেত।

চুমু খাওয়ার ফাঁকে জানালার দিকে চোখ পড়ে যায় এসেনিনের। একটা ছোট্ট রবিন এসে বসেছে। জানালার কাচের ওপাশে। কী সুন্দর রঙ! মা খুব পাখি পছন্দ করে। কতটা পছন্দ করে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। প্রতিদিন মায়ের বারান্দায় বিকেল ৫টায় পাখিরা খাবার খেতে আসে। একদম ঘড়ির কাঁটা দেখে। দেখার মতো একটা দৃশ্য। সেই ছোটবেলা থেকে এমনভাবেই চলে আসছে। পাখিরা এসে খাবার না পেয়ে ফিরে যাবে এইজন্য মা কোনোদিন বাইরে কোথাও যায়নি। মা একা থাকে। গম কিনতে গেলেও তো সেই আট ক্রোশ পথ হেঁটে শহরে পৌঁছাতে হয়। কাকে পাঠায়! কী অদ্ভুত.. তারপরও কিছু থেমে থাকে না।

-ওহ তুমি না! শুধু অন্যমনস্ক হয়ে যাও, এটা খোলো। দেখি আমি..

কণ্ঠস্বরে বিরক্তির সুর থাকলেও সোফিয়া এখন ভীষণ আসক্ত। এসেনিনও জানলা থেকে মন টেনে নিলো। নাহ, এই মেয়েটাকে নিয়ে পারা যায় না। উফ.. অবশ্য সোফিয়ার শরীরের বাসি এই গন্ধটা সত্যিই মাদকতায় ভরা। এমনকি থেলাসেমিয়া রোগীও উঠে বসতে বাধ্য। এসেনিন এবার মন বসাতে পারলো। সেও ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে, আঃ.. মুহূর্তের আচ্ছন্নতা এসেনিনকে একবার মহাশূন্যে আর একবার পাতালে নিয়ে যাচ্ছে। সোফিয়াও সম্পূর্ণ বিকারগ্রস্ত। কিন্তু এইসব লুণ্ঠনের মাঝখানেও এসেনিনের চোখ বারবার মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। সে হঠাৎ সোফিয়ার মাথা ঠেলে সরিয়ে ঝপ করে শুয়ে পড়লো। বললো, প্লিজ থামো.. আই কান্ট টেক দিস নাউ..

সোফিয়া অবাক হলো না। এসেনিন সবসময় খামখেয়ালি করে। কিন্তু তাই বলে এরকম একটা মুহূর্তে! সোফিয়া খুব বিরক্ত হলো।

-কী হয়েছে আমায় একবার বলবে!! (সোফিয়া একটু জোরেই কথাটা বলতে বাধ্য হলো)

-কিছু না। তুমি যেতে পারো!

-হোয়াট!! আর ইউ ক্রেজি!

-দূর হও। তোমাকে আর ভালো লাগছে না।

-এক্সিউজ মি! হোয়াট দা হেল আর ইউ ফাকিং এবাউট..

-গো আই সে। আই সে গো! (কথাটা চেঁচিয়ে বলে উঠল এসেনিন।)

কেঁপে উঠেছিল সোফিয়া। নিজেকে কোনোরকমে সামলে নিয়ে দ্রুত বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নেমে বাথরুমে ঢুকলো সে। এসেনিন চিৎ হয়ে শুয়ে রইলো। তার কাছে মনে হচ্ছে ঘরটা কেমন দুলছে। ইস ঘরটা কী তবে সত্যি ভেসে উঠলো আকাশে! কই.. জানালার দিকে তাকালো সে। নাহ, বাইরে ঝড়ো হাওয়া বইছে। সে নেমে এসে জানালার কাচ উঠিয়ে দিলো। কী অদ্ভুত ঠাণ্ডা বাতাস! সে আবারও জানালার পাশে তার প্রিয় জায়গায়টায় বসলো। ওপাশের দেয়ালে পিকাসোর বয় উইথ দা পাইপের প্রিন্টটা দুলছে। একটা সিগারেট ধরালো সে। দেয়ালে হেলান দিয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। ছেলেটার মুখ একেবারে আনসিরোর মতো। আনসিরোর মতো ভালো ছেলে পৃথিবীতে একবারই জন্ম নেয়। এসেনিনের হঠাৎ নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। আনসিরোর মতো বন্ধু পেয়েছিল। একবার দুই বন্ধুতে মিলে একটা নতুন জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছিল। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। পথ খুঁজে পাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই দুজনের। অথচ একটা জায়গায় পৌঁছানো খুব জরুরি। এক আত্মীয়কে কিছু টাকা দিয়ে আসতে হবে। সেখানে একজন খুব অসুস্থ। টাকা হাতে পেলে তারা দুধ পাউরুটি কিনবে, ওষুধ কিনবে। অথচ পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষে অনেক ঘুরে তারা সেখানে গেলো। গিয়ে দেখে সেই আত্মীয়দের অবস্থা খুব খারাপ। ঘরে পানি পর্যন্ত নেই। একজন ব্যথায় কাতরাচ্ছে। দুই বন্ধু মিলে তাদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। বাজার করে দিলো। সবকিছু শেষে তারা ফিরে এলো। ফিরে আসার পর দেখা গেলো যে টাকা তারা দেওয়ার কথা ভেবেছিল তার চারগুণ টাকা খরচ করে ফিরেছে তারা। কিন্তু এত টাকা তো তাদের কাছে থাকার কথা না। পরে বোঝা গেলো আনসিরো তার সঞ্চিত সব টাকা সেখানে খরচ করে এসেছে। অথচ তার সাথের বন্ধুটিও ব্যাপারটি বুঝতে পারেনি তখন। এই হলো আনসিরো। আহা আনসিরোর মুখটা কেমন বাতাসে দুলছে।

এই সময় সোফিয়া বাথরুম থেকে বের হয়ে এলো। বোঝাই যাচ্ছে এতক্ষণ সে কাঁদছিল। সে কোনোরকমে তার ব্যাগটা গুছিয়ে নিলো। ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও সে চোখ মুছছিল..

এসেনিনের মনে হলো সে একটা সিনেমা দেখছে। সোফিয়া চলে গেছে। তবু মনে হচ্ছে সে আছে। বিছানায় উপুড় হয়ে বুকে বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদছে।

এসেনিন হঠাৎ পাগলের মতো কাগজ কলম খুঁজতে থাকলো। সোফিয়া এনে রেখেছিল। কোথাও না কোথাও আছে। শেষে পাওয়া গেলো। পোশাকহীন অবস্থাতেই এসেনিন টেবিলে লিখতে বসে। সে তার মায়ের কাছে একটা চিঠি লিখতে চায়। এখনই…

প্রিয় মা,
আমি এত মাতাল হয়ে যাইনি যে তোমার সাথে দেখা না করেই মরে যাবো। দেখো একদিন সকাল বেলা তুমি জানালার কাছে বসেই দূর থেকে আমায় দেখতে পাবে। তোমার অনেক আনন্দ হবে মা! আমি কিন্তু তোমার জন্য কিছুই আনতে পারবো না। কারণ আমার মনে থাকবে না ।

মা, আমি স্বপ্নের ভিতরে বেঁচে আছি। বিশ্বাস কর। কেউ করে না। কেউ যেন আমায় একটা বেলচা ধরিয়ে দিয়ে কোনো বনের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। আমি মাটি খুঁড়ি। আমি চাই না। আমি খুঁড়ি। মাঝে মাঝে মনে হয় খুঁড়তে খুঁড়তে আমি একটা সুড়ঙ্গ দিয়ে পৃথিবীর অন্য পাশে চলে যাবো আর মহাশূন্যে গিয়ে পড়বো। আমি হারিয়ে গেছি মা! মা, আমি হারিয়ে গেছি !!

তোমায় বলা হয়নি, এখন আমি একটা হোটেলে থাকি। জানো, আমি মাঝে মাঝেই বাইরে থেকে ফিরে অন্যের ঘরে ঢুকে পড়ি। তুমি কি হাসছো মা? দেখি! আসলে আমি একা থাকি না। আমার সাথে সোফিয়াও থাকে। আমরা বিয়ে করেছি। কেন যে মানুষ বিয়ে করে! শুধুই বাচ্চার জন্য, শুধুই সঙ্গমের জন্য। মানুষের কী একটুও লজ্জাবোধ নেই! মা জানো, আমার এখন সবথেকে বেশি রাগ হয় দেয়ালের উপর। সব দেয়ালগুলি যদি শুইয়ে দেওয়া যেতো। আমার নিজেকে সাপের মতো মনে হয়। দেখো তো কী নিয়ে কথা বলছিলাম, কী সব বলছি! আচ্ছা তোমায় সোফিয়ার কথা বলি। সে এখন বিছানার উপর উপুড় হয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কোনো পোশাক নেই। এই দৃশ্যটা আমার কী যে ভালো লাগে। মা নগ্ন মেয়েদের কাছে পৃথিবীর ঋণ কবে শেষ হবে!

মা তুমি কি জানো ম্যাজিক মাশরুম কি? খুব নেশা হয় মা। তোমাকেও একদিন দেবো। তুমিও কি ডানা মেলে আকাশে উড়তে চাও না?

আমার কোনো কাজ নেই। কী করি বলো। হোটেলের পাশ দিয়ে একটা রেললাইন চলে গেছে। আমি রেললাইনের উপর শুয়ে থাকি। বিছানায় আমার ঘুম আসে না মা। সবাই ভাবে আমি উন্মাদ। আমি হাসি। তুমি বল তোমার ছেলের থেকে ভালো কবিতা এই পৃথিবীতে আর কেউ লিখতে পারে! কিন্তু কতদিন আমি লিখি না মা। আমার শরীরে সবাই লিখে যাচ্ছে। আমি পারি না। অন্যের কলমের আঘাতে আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত। আমার শরীরে রক্ত নেই মা। শুধু কালি। ক্ষত থেকে শুধু কালি ঝরে পড়ছে। আমি মারা যাচ্ছি মা। কী যে শান্তি। আবার কবে তোমায় লিখতে পারবো মা? আবার কবে…

ইতি
তোমার সবচেয়ে প্রিয় ছেলে

গল্পসুত্র : এসেনিন একজন রুশ কবি । ক্ষনজন্মা । আত্মহত্যা করেছিলেন । তার বিখ্যাত কবিতা Goodbye My Friend কলম না পেয়ে লিখেছিলেন নিজের রক্ত দিয়ে । মাকে খুব ভালবাসতেন । গল্পে যে চিঠিটা আছে তার প্রথম লাইন সত্যিই তিনি তার মাকে লিখেছিলেন।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”