খুঁজুন
, ,

“ঘুম”

মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
“ঘুম”

ঘুম—সে কি কেবল জৈবিক নিঃশেষে এক নিথরতা? নাকি সময়ের অদৃশ্য ভারে গঠিত কোনো আধ্যাত্মিক বিন্দু, যার প্রতিটি নক্ষত্রজালেই ঘুমিয়ে থাকে একটি বিলুপ্ত আলো?
আমি জানি না। বরং জানি—ঘুম আসলে অনস্তিত্বের সীমানায় একটি নরম ছায়া, যাকে ধরা যায় না, ছুঁয়ে ফেলা যায় না, কেবল অনুভবে তার উপস্থিতির কম্পন মাত্র।

ঘুম কখনো আত্মার প্রান্তে অপেক্ষমাণ এক ছায়াপথ, আবার কখনো মস্তিষ্কের গহ্বর-জুড়ে এক বিপরীত সংবেদন। সে এসে চোখের পাতায় ফেলে নিরাকার শব্দের ধুলো। তখন সময়ও থেমে যায়—এক অনিয়মিত তালে, যেখানে ঘুম নিজেই নিজের সংজ্ঞা অস্বীকার করে।

ঘুম ঘুম নয়—সে এক অন্তর্বর্তী হ্রস্ব বিস্মৃতি।
সে ‘আমি’ থেকে ‘তুমি’ হয়ে যাওয়া, আবার ‘তুমি’ থেকে ‘কেউ নয়’ হয়ে পড়ার অনিবার্য অন্তর্বিপর্যয়।
সে নিদ্রা নয়, সে নিস্পন্দিত অনুপ্রাণ—এক পরাবাস্তব ঘূর্ণিপাকে অস্তিত্বের জরায়ুতে জমে ওঠা নিরুত্তর অবচেতনতা।

ঘুমের ভেতর আমি হারিয়ে ফেলি আমার ‘আমি’-কে। সেখানে আমার নাম থাকে না, মুখ থাকে না, থাকে কেবল রন্ধ্রে রন্ধ্রে রচিত অপার স্বপ্নাবিষ্টতা।
স্বপ্ন? না, স্বপ্নও নয়।
এ যেন এক বহুতল নিঃসরণ, যেখানে প্রতিটি স্তরেই চৈতন্য নিজেকে উল্টো করে তোলে, নিজের ভাষাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।

একটা প্রশ্ন—ঘুম কি নিঃশেষে বিস্মৃতি?
না, সে এক পলক-দীর্ঘ মুক্তিপত্র।
যেখানে জন্ম নেয় নীরব চিৎকার, শব্দহীন গল্প, আর অজানা কোনো পুরাকথার অসমাপ্ত অনুরণন।

ঘুম মানে কেবলই চোখ বুজে থাকা নয়।
ঘুম মানে শরীর থেকে মন ছিঁড়ে ফেলা।
ঘুম মানে একটি চলমান ট্রেন, যার গন্তব্য নেই—অথচ গন্তব্যহীনতাই তার একমাত্র পরিচয়।

ঘুম কি কখনো জেগে থাকে?
হ্যাঁ—ঘুম জেগে থাকে, অনেক সময়।
যখন আমাদের চোখ বুজে, কিন্তু চিন্তা ফুঁপিয়ে কাঁদে।
যখন আমরা সুতীব্র ক্লান্তি নিয়ে বিছানায় পড়ি, কিন্তু অবচেতন চেতনায় ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া কোনো অনুক্ত আর্তনাদ।
তখন ঘুম আমাদের শরীরে আসে, মগজে নয়।
তখন ঘুম হয় এক নিষ্ফল অনুগ্রহ।

ঘুমের গভীরে আমি দেখি নিজেকে,
এক ফাঁকা আয়নায়, যেখানে মুখ নেই, ভাষা নেই—
শুধু অসীম সাদা কুয়াশার মধ্যে ডুবে থাকা এক বিকারগ্রস্ত সত্তা।
তুমি যদি সেখানে আমাকে চিনতে চাও—চিনতে পারবে না,
কারণ ঘুমের মাঝখানে মানুষ আর মানুষ থাকে না—থাকে কেবল অভিজ্ঞতার ছায়া, অনুভবের দংশন,
আর অনন্ত বিষণ্ন একাকীত্ব।

ঘুম হয়তো শেষ নয়, শুরুও নয়।
সে কেবলই একটি অন্তরীক্ষ—যেখানে নিজের ভেতরের আলো আর অন্ধকার একে অপরকে গ্রাস করে।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী এবং তার মা ও ভাই। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোট গ্রামের ওই শিক্ষকের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ভূক্তভোগী তরুণী জানান, পাশের গ্রামের তাজুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার পরিবার অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি তাজুলের বাড়িতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তরুণীসহ তার মা ও ভাইকে মারধর করে জখম করা হয়।

​এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন ওই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা উগ্র মেজাজে হুমকি-ধমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​তবে তাজুলের চাচা রহমতউল্লাহ বলেন, “আমরা ছেলের জন্য মেয়ে দেখছি। এই তরুণীর পক্ষ থেকে আগে কখনোই বিয়ের কথা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে এভাবে বিয়ের দাবি করলে সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

​হামলার শিকার ওই তরুণীর পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

পৃথক অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও তালিকাভুক্ত অপরাধী সাইফুল ইসলাম ওরফে টাকী রিপনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার।

​প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ২৬ মিনিটে এসআরবি-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প এবং এসআরবি-৪, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর পল্লবী থানাধীন একটি আবাসিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার একটি ডাকাতি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারী ওরফে টাকী রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর এলাকার মৃত আঃ হক বেপারীর ছেলে।

​পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টায় ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দলটি।

​পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১টি অস্ত্র মামলা, ২টি দস্যুতা মামলা, ১টি চুরি মামলা, ১টি এসিড অপরাধ দমন আইন মামলা এবং ১টি বিস্ফোরক আইনসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন,
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ব্যাটালিয়নের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও জারি থাকবে।

ফরিদপুরে একদিনে ৫৯ জন হামে আক্রান্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে ৫৯ জন হামে আক্রান্ত

ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৯ জনের দেহে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০২ জনে। আর এ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​উপজেলাওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জন হাম রোগী রয়েছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক দিনে জেলার দুই হাসপাতালে নতুন করে ৫৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৪ জন।

​বর্তমানে দুই হাসপাতালের ওয়ার্ডে নতুন ও পুরোনো মিলে মোট ১১০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৯ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন ভর্তি রয়েছেন।

​এ ছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা ৪৩ জন এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১৬ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।