খুঁজুন
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ণ
তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করাই হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ। যা আদায় করা অত্যাবশ্যক। কেননা মসজিদ মহান আল্লাহ তা’য়ালার ঘর। সুতরাং এর প্রতি হক আদায়ে যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলেই দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে মসজিদে বসা আবশ্যক।

এ সম্পর্কে আবু ক্বাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৪৪, ইফাবা হা. ৪৩১)।১
এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন না বসে, যতক্ষণ দুই রাক‘আত ছালাত না পড়বে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ১১৬৩)।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায়কে এতটাই গুরুপ্ত দেয়া হয়েছে যে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূল (ছা.) লোকদের মাঝে বসেছিলেন। আমি গিয়ে বসে গেলাম। রাসূল (ছা.) আমাকে বললেন, বসার আগে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম, আপনাকে এবং জনগণকে বসে থাকতে দেখলাম তাই। তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৮৮, ইফাবা, হা. ১৫২৫)।

এমনকি জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবুও তাকে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে। বর্ণিত হয়েছে, জাবের (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) জুম‘আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। রাসূল (ছা.) তখন তাকে বললেন, তুমি কি ছালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি দাঁড়াও দুই রাক‘আত ছালাত আদায় কর (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৯৩০, ৯৩১, ইফাবা, হা. ৮৮৩, ৮৮৪)।২

যে সকল সময়ে ছালাত আদায় নিষিদ্ধ। সে সকল সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবে তাকেও ছালাত আদায় না করে বসা যাবে না। কেননা ্আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭১৪, রিয়াযুছ ছালেহীন, হাদীস : ১১৪৪)।৩

তবে ফজরের ওয়াক্তে ফজরের ছালাত আদায়ে মসজিদে প্রবেশের পর ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত আদায় ব্যতিত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা যায় না মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. প্রকাশিত ‘ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান’ প্রবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে হাফসা (রা.) বলেন, যখন সুবহে সাদিক হয়ে যেত, তখন রাসূল(ছা.) শুধু ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত সংক্ষেপে পড়তেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩)।

আরো বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, সুবহে সাদিক হওয়ার পর দুই রাক‘আত সুন্নত ছাড়া কোন ছালাত নেই (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।৪

উল্লেখ্য যে, মসজিদে প্রবেশ করে ফরয কিংবা সুন্নাত অথবা ওয়াক্তের ছালাতের পূর্বের সুন্নাত আদায় করলে মসজিদের হক্ব আদায় হয়ে যাবে বিধায় তাকে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে না মর্মে উল্লেখিত হয়েছে আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ রচিত ‘রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায়।
মাগরিবের আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে কি মর্মে প্রশ্নের জবাবে মাসিক আত-তাহরীক, আগস্ট ২০১৫ খ্রি. সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্বে বুখারী হাদীস : ৪৪৪ এর উদৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দু‘রাকআত ছালাত আদায় করার মত সময় থাকে তবে তা আদায় করে বসবে। তবে সময় না থাকলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। অতঃপর মাগরিবের পূর্বের দু‘রাকআত নফল ছালাত আদয় করবে (সহীহ বুখারি, হাদীস : ১১৮৩, ইফাবা, হা. ১১১২)।৫

সাম্প্রতিক সময়ে কোন কোন মসজিদে মাগরিরের আযানের পর ইমাম কর্র্তৃক ছোট ছোট হাদীস বর্ণনা করতে দেখা যায়। যা নিয়মিত করা যাবেনা মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে মাসিক আত-তাহরীক এর অক্টোরব ২০২২ খ্রি. এর প্রশ্নোত্তর পর্বে। উল্লেখিত হয়েছে রাসূল (ছা.) মাগরিরের আযানের পর ও ফরয ছালাতের পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে উৎসাহ দিতেন। রাসূল (ছা.) একদিন তিনবার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু‘রাকআত ছালাত আদায় কর। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে (মুত্তাফাক্ক আলাইহ মিশকাত, হাদীস : ১১৬৫)। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (ছা.) এর যুগে মাগরিবের ছালাতের পূর্বে সূর্য ডোবার পর দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতাম। তাঁকে বলা হল তিনি কি সেই দুই রাক‘আত পড়তেন? আনাস (রা.) বলেন, তিনি আমাদেরকে দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতে দেখতেন, তিনি আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না (মুসলিম, হাদীস : ৩০৩)।৬

মহান আল্লাহ‘তায়ালা আমাদের সঠিকটি জানার ও তা মানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সহায়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ :
স্বালাতে মুবাশ্শির (ছা.), আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী, পৃষ্ঠা : ১১১
জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর ছালাত, ড. মুযাফফর বিন মুহসিন, পৃষ্ঠা : ১১৫, ১১৬।
রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত, আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, পৃষ্ঠা : ২৩৯, ২৪০।
ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান, জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.্
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, আগস্ট ২০১৫ খ্রি.
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, অক্টোবর ২০২২ খ্রি.

বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলার একমাত্র নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, দখলবাজি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা।

শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার মাদ্রাসা মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা মফিজুল কাদের খান মিল্টন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বর্তমানে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি মোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও সাকিবুর রহমানকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং একটি নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

এছাড়া শেখর গ্রামের একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা দায়েরেরও অভিযোগ তোলা হয়। ওই মামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশসহ কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ ও অবৈধ নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয় চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। মেলার আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাগডাঙ্গা গ্রামের ফাহমিদা ইসলাম নামে এক নারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং তার বসতভিটার গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীর জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নে একটি ‘নব্য বিএনপি চক্র’ প্রভাব বিস্তার করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বিএনপি নেতারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফরিদপুরে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুহি ও তার মা, উৎকণ্ঠায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুহি ও তার মা, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ফরিদপুর শহরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ও তার মা গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর নাম ফাতেমাতুজ জহুরা ওরফে জুহি। সে ফরিদপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা এলিজা শারমিন (৪৮)। তারা ফরিদপুর শহরের লাক্সারী হাসান টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।

নিখোঁজ শিশুর বাবা জামাল উদ্দিন ওরফে কানু শুক্রবার (৮ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে মেয়ে ও স্ত্রীর সন্ধান চেয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে জুহি তার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর থেকে আর বাসায় ফেরেনি। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার (৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কানু জানান, সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাসা, পরিচিত স্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি। তিনি বলেন, “জুহির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। এর আগেও প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বার তিনি এভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরে ফিরে এসেছেন। তাই প্রথমদিকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভেবেছিলাম। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও তারা ফিরে না আসায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। আজ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, কেউ জুহি ও তার মায়ের সন্ধান দিতে পারলে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মা ও মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তাদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সালথায় সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১০

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে চলমান দাঙ্গা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার (০৯ মে) বিকেলে আটক ব্যক্তিদের ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী, বালিয়া গট্টি, মেম্বার গট্টি, কসবা গট্টি, দোহার গট্টি ও মীরের গট্টি এলাকায় কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার (০৮ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় সালথা থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের নুরু খানের ছেলে আজিজুল খান (২২), মৃত শেখ সাহিদের ছেলে আব্দুল হক (৫৫), মৃত জলিল মাতুব্বরের ছেলে রহমান মাতুব্বর ওরফে রব্বান মাতুব্বর (৩০), বালিয়া গট্টি এলাকার পাচু শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ (২৫), লাবলু মোল্যার ছেলে জাহিদ মোল্যা (৪০), দোহার গট্টি এলাকার আরশেদ মাতুব্বরের ছেলে লাবলু মাতুব্বর (৩৫), লুৎফর মিয়ার ছেলে টুকু মিয়া (৪০), কাঠিয়ার গট্টি এলাকার সোহরাব শরীফের ছেলে ইশারত শরীফ (৩৩), বাদশা মাতুব্বরের ছেলে সুমন মাতুব্বর (২২) এবং মীরের গট্টি এলাকার সামচু শেখের ছেলে সোহেল শেখ (২৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর ও বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুজনই এলাকায় প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাদের সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সহিংসতায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার (০৯ মে) বিকেলে আটক ১০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।