খুঁজুন
, ,

ক্যান্সারে আক্রান্ত নাজমুলকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় বাবা-মা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
ক্যান্সারে আক্রান্ত নাজমুলকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় বাবা-মা

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;

দিনমুজুরের ছেলে নাজমুল মৃধা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালিন সময় মেধাবী ছাত্র ছিল। তখন প্রতিবেশী শিক্ষার্থীরা তার কাছে এসে প্রাইভেট পড়তো। নাজমুলের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন দিনমুজুর বাবার পরিবারে হাঁসি ফুটাবেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে গত আট বছর আগে গাব গাছ থেকে পড়ে নাজমুলের দুটি পা ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়। পরে ভাঙা পায়ে ঘা (ক্ষত) দেখা দেয়। অনেক চিকিৎসার পরেও তার পায়ের ঘা আর ভাল হয়নি। একপর্যায় তার পায়ের ঘা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নেয়। বর্তমানে নাজমুলের বয়স ১৯ বছর। ইতিমধ্যে তার দুটি পায়ের ৬০ শতাংশ পঁচে গেছে। আর এতে তার সেই স্বপ্ন এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত নাজমুল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের দিনমুজুর মো. লাল মৃধার ছেলে। তার পরিবারের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নাজমুল সেজো।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি টিনের ছাপড়া ঘরের অন্ধকার শয়ন কক্ষে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে নাজমুল। সাংবাদিকদের দেখে বিছানা থেকে ওঠে বসেন তিনি। এরপর নাজমুল ছলছল চোখে বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে আমার দিনমুজুর বাবার সংসারে হাঁসি ফুটাবো। কিন্তু হাঁসি ফোটানো থাক দূরের কথা, চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমার পরিবার কাঁদতে কাঁদতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিমাসে আমার ৩২ ব্যাগ বি-পজিটিভ রক্ত লাগে।

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় রক্তও পাওয়া যায়। রক্ত দিতে গেলে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগে। সেই টাকাটাও এখন আমাদের নেই। তাছাড়া প্রতিদিন ওষুধ খাওয়া লাগে। বর্তমানে টাকার অভাবে ওষুধও খেতে পারছি না। ঠিকমতো ওষুধ না খাওয়াতে আমার খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। কিডনি-লিভার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমি বাঁচতে চাই। আমি সরকারি সহযোগিতা চাই।

নাজমুলের দিনমুজুর বাবা লাল মৃধা বলেন, আমার ছেলেটা অনেক মেধাবী ছিল। আমাদের পাড়ার পোলাপানকে প্রাইভেট পড়াতো। ছেলেটার অনেক স্বপ্ন ছিল। তবে স্বপ্ন পূরণের আগেই গাব পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে দুটি পা ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর আমার টুকটাক সম্পত্তি যা ছিল, তা বিক্রি করে ওর চিকিৎসায় ব্যয় করেছি। কিন্তু ভাল করতে পারিনি। ঘরে শুয়ে থাকতে থাকতে একপর্যায় কান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, আমি দিন আয় করে দিন খাই। টাকার অভাবে আমার সংসারই চলে না। এর ভেতরে ছেলের চিকিৎসায় সব শেষে হয়ে গেছে। বর্তমানে অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না। ছেলেকে বাঁচাতে আমি আর আমার স্ত্রী মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চাচ্ছি। তবে মানুষের দেওয়া অল্প সাহায্যে তার উন্নত চিকিৎসা থাক দূরের কথা ওষুধও কিনতে পারছি না। এমন অবস্থায় ছেলেকে বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদেরও সাহায্য চাই।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত নামজুলের পরিবার যদি সহযোগিতার জন্য আবেদন করে তাহলে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে। তাছাড়া সরকারিভাবে তার উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত নামজুলের পার্সনাল বিকাশ ০১৩১৯১০৫৯৭৯ এই নম্বরে সকলকে সাহায্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”