খুঁজুন
, ,

চাঁদাবাজির মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি ফরিদপুরের সাবেক চেম্বার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি ফরিদপুরের সাবেক চেম্বার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক’ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফরিদপুর শহরের গোহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের প্রেক্ষিতে তিনি ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিবাদীকে ৩০ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।

তার অভিযোগ, বিচারাধীন ওই বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা নং-৫৬ হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, মামলার এজাহারে যে দিন, সময় ও ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তিনি ফরিদপুরে ছিলেন না। বরং ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সহজেই যাচাই করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার নথিতেও উল্লেখ রয়েছে যে, একই জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ৬৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে। সেই একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করায় তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্য, “কোতোয়ালি থানা কোনো তদন্ত বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের আগেই আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা নেওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
তিনি বিচারাধীন বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমের কাছে তার বক্তব্য ও সংরক্ষিত তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী মো. মজিবুর রহমান তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিদ্দিকুর রহমান তার বাসায় গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ১ কোটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পূর্বে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা থাকলেও অভিযোগকারী নতুন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।”

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।