খুঁজুন
, ,

সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষার মান অবনতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় ব্যয় করেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি পাশের বোয়ালমারি উপজেলার দাতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী পরিবেশ তৈরি করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রায়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। ফলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্য কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতেন না। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশে। স্থানীয়দের মতে, এক সময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঠিক কোনো হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বকেয়া বেতনসহ মোট ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ২২ হাজার ৮০২ টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন হিসেবে বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৯৮ টাকা বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া ২০২৪ সালে অডিট বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা একটি স্কুলের জন্য অস্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের প্রশ্ন, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিট খরচ কীভাবে এত বেশি হতে পারে।

একই বছরের আরেকটি ঘটনায় বিজ্ঞানাগারের জন্য বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো সরঞ্জাম কেনা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ২০২৪ সালে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায়ও বেতন উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেই বেতন তিন মাসের মধ্যে উত্তোলন না করায় তা ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও পরে স্কুলের তহবিল থেকে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০২১ সালে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক সভাপতির ব্যাংক স্বাক্ষর এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী। এছাড়া প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার সময় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এসে তিনি পুরো সপ্তাহের হাজিরা দেখিয়ে দেন। এতে করে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, এর আগে বিভিন্ন সময় শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বালি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিলেও প্রধান শিক্ষক তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত কারণে আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ করছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারীদের পক্ষে আবেদনকারী মো. মাহফুজ খান বলেন, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক। বিদ্যালয়ের অর্থ কোথায় গেল, কেন শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”