খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

গাড়িতে তেল নেওয়ার পরিমাণ বেঁধে দিল বিপিসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
গাড়িতে তেল নেওয়ার পরিমাণ বেঁধে দিল বিপিসি

মধ‍্যপ্রাচ‍্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। তাই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (০৬ মার্চ) বিপিসির এক নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলারেরা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

জনগণের আতঙ্ক কমানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে। নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারা দেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন/ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুত) গড়ে উঠবে।

রসিদ দেখিয়ে তেল নিতে হবে

ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে এবং প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

বিপিসি আরও বলেছে, ডিলারেরা বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ গ্রহণ করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ‍্য ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল গ্রহণ করবে।

ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ‍্য পর্যালোচনা করে সরবরাহ করা হবে এবং কোনো অবস্থায় বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করেছে বিপিসি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ ছুটির দিনেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

যেমন পরিবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হতে দেখা যায়। কে কার আগে যাবেন, এ নিয়ে কেউ কেউ হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়েছেন উবারচালক নাজমুল হাসান। তিনি শাহবাগ মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচ থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান। প্রায় ৫০ মিনিট পর তেল নিতে পেরেছেন। এ সময়ে দুই থেকে তিনটি ভাড়া পেতেন বলে জানান এই চালক। বলেন, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। অন্যদের মানুষদের অল্প হলেও চলে, কিন্তু এই তেল ছাড়া তাঁদের চলবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। তবে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তেল কিনছেন।

সূত্র : প্রথম আলো

সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা রব্বান মাতুব্বরের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে হামলা চালায়। তাদের দাবি, বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুলের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু স্থানীয় লোকজন নয়, পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও লোকজন এনে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। এতে অন্তত কয়েকটি বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অনেক পরিবার রাতেই নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেল মহড়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এ সময় গোয়ালপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “হামলার সময় পুরো গ্রামজুড়ে টর্চলাইটের আলো দেখা যায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংগঠিতভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। বহিরাগত লোকজনও এতে অংশ নেয়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম ও সামাদ মাতুব্বরের নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি নেতা রব্বান মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার সময় আমি গ্রামের বাইরে ছিলাম। পরে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হাসিব লিঠু, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কাওসার মাতুব্বর, যুবদল নেতা রব্বান মাতুব্বর, বিএনপি নেতা আদেল মাতুব্বর, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত চরশালেহপুর এলাকার ছোরমান খাঁর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক রিপন হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. রফিকুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক গাজী সোহেল এবং কনস্টেবল উজ্জল হোসেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরশালেহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির খাঁর বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ পোশাকে এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বাজার এলাকা থেকে কবির খাঁকে আটক করা হলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কবির খাঁকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, আহত চার পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরেকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি লুঙ্গি ও ট্রাউজার পরে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন এবং কবির খাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে চান। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার (ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রফিকুজ্জামান বলেন, কবির খাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার লোকজন হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি চরাঞ্চলে প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ধরতে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পোশাকে গেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন।

এদিকে, সম্প্রতি কবির খাঁর বিরুদ্ধে চরাঞ্চলের শতাধিক মানুষের ভুট্টাখেত ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ‘শর্টগানের গুলির মতো’ আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং কাঁচের টুকরো ভেতরে থাকা শিক্ষকদের ওপর ছিটকে পড়ে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের চাঁনমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইক্রোবাসটিতে রাজেন্দ্র কলেজের একাধিক শিক্ষক শহর ক্যাম্পাস থেকে বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, চাঁনমারি ঈদগাঁ মোড় অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে কাঁচে গুলির মতো একটি চিহ্ন দেখা যায়, যা দেখে তারা ধারণা করছেন এটি কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি হতে পারে।

মাইক্রোবাসে থাকা এক শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাঁচ ভেঙে ভেতরে পড়ে। আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

আরেকজন শিক্ষক জানান, “আমরা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত নাকি আকস্মিক—তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে রাজেন্দ্র কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।”

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে শর্টগানের গুলির মতো মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”