খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২

বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

বৃহত্তর ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে ৪’শ বছরের পুরনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির নাম ইতিহাসের এক অন্যতম নিদর্শন। ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮কিলোমিটার দূরত্বে বর্তমান সদরপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি। এককালে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর-বরিশালসহ ২২টি পরগনার বা জোত মহলের অধিপতি ছিলেন। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি তখনকার দিনে বাইশরশির বাড়িটির প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে কয়েকটি বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামন্ডপ ও দ্বিতলা বিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালান কোঠা দিয়ে ঢেলে সাঁজিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, ১৭’শ শতাব্দির গোড়াপত্তনে এককালের লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি প্রথার গোড়া পত্তন শুরু করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে পর্যন্ত জমিদার পরিবারটি অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হন ও ২২টি জমিদারি পরগনা ক্রয় করে বিশাল জমিদার হিসেবে ভারতবর্ষে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান দুইটি রাষ্ট্র হওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল জমিদারি প্রথা থাকার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতা বসে জমিদারি দেখাশুনা করত। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার সুকুমার রায় বাহাদুর ছাড়া সবাই কলকাতা চলে যায়। ৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সুকুমার বাবু ওই রাজ প্রসাদে আত্মহত্যা করেন। এরপর বাড়িটির আর কোন অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে গন্য হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় ৩০একর জমির ওপর জমিদার বাড়িটির অবস্থান হলেও চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ৫টি শান বাঁধানো পুকুর, বিশাল বাগানবাড়ি ও ছোটবড় চৌদ্দটি কারুকার্য খচিত দালান-কোঠা জমিদারদের কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্য খচিত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাড়িটির সামনের অংশে বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।

বাইশরশি জমিদার বাবুরা যেভাবে আলোচিত হয়ে আছেন। কথিত আছে, উদ্ধর চন্দ্র সাহা লবনের ব্যবসা করতেন। লবন বিক্রয় করার জন্য যাবার সময় নদী ভাঙ্গনে কবলিত কোন এক পড়বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হতে বেশ কিছু গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করেন। এভাবে অর্থ প্রাপ্তির পর তিনি বাইশরশিতে বিশাল জোদ্দারী ক্রয় এবং জমিদারী প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে বাবু রঘুরাম সাহার পুত্র উদ্ধর চন্দ্র সাহা ১৮২৪ইং সালে সম্ভবত লর্ড ক্লাইভের সময় বাইশরশি জমিদার উদ্ধর চন্দ্র সাহা বরিশালের কালিয়ায় জোদ্দারী ক্রয় করেন।

উদ্ধর চন্দ্র সাহার পুত্র হরে কৃষ্ণ সাহা জমিদারীর হাল ধরেন এবং তিনি বরিশালের বাউফলের জমিদারী ক্রয় করেণ এবং প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। হরে কৃষ্ণ সাহার তিন পুত্রের মধ্যে রাম জয় সাহা জমিদারীর ভার গ্রহণ করেন। এ সময়ে বাবুরা ইংরেজদের কাছ থেকে সাহা উপাধির পরিবর্তে রায় চৌধুরী উপাধী লাভ করেন। রাম জয় রায়ের দুই পুত্র বৈকুন্ঠ রায় ও নীল কন্ঠ রায় জমিদারী ভাগাভাগি করেন এবং বৈকুণ্ঠ রায়ের অংশকে বড় হিস্যা ও নীল কণ্ঠ রায়ের অংশকে ছোট হিস্যা বলা হতো। বৈকুণ্ঠ রায়ের কোন সন্তান না থাকায় তিনি মহিম চন্দ্র রায়কে পৌষ্য পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। মহিম চন্দ্র রায় প্রতাপ শালী ছিলেন। তারও কোন সন্তান না থাকায় তিনি কলকাতা হতে মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীকে পৌষ্য পুত্র হিসেবে সংগ্রহ করেন। উল্লেখ মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুর উপাধি লাভ করেন। মহেন্দ্র নারায়ন রায় বাহাদুর সাধু প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি তার পৌষ্য মাতার মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুরের স্ত্রী শিব সুন্দরী চৌধুরানী নামে ১৯১৪ সালে ‘‘বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমী’’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সমেয় মহেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০/২২ বছর।

নীল কণ্ঠ রায় বাহাদুরের পুত্র রাজেন্দ্র বাবু ও দেবেন্দ্রবাবু। রাজেন্দ্র বাবুর কোন সন্তান ছিলনা। তিনি রমেশ বাবুকে পৌষ্য গ্রহণ করেন। দেবেন্দ্র বাবুর ছেলে দক্ষিণা রঞ্জন বাবু।

দক্ষিণা রঞ্জন বাবু রাগী ও উগ্র প্রকৃতির লোক ছিলেন। দক্ষিণা বাবুর কোন সন্তান না থাকায় তিনি দিলীপ বাবুকে পৌষ্য সন্তান হিসাবে গ্রহণ করেন। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে দুই হিস্যার মধ্যে হিংসা-বিবাদের কারণ ঘটায় উভয় হিস্যা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়েন এবং তা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে তখন ফরিদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের হস্তক্ষেপে বিবাদের মিমাংশা ঘটে। অতঃপর দক্ষিনা বাবু তার পিতৃব্য বা জেঠার নামে ফরিদপুরের অম্বিকা চরণ মজুমদার বাবুর সহায়তায় ‘‘রাজেন্দ্র কলেজ’’ স্থাপন করেন।

এছাড়া বর্তমান ফরিদপুরের পুরাতন সরকারী হাসপাতালের একটা অংশ এখনও বাবুদের নামে বর্তমান আছে। মহেন্দ্র বাবু নগর কান্দায় নীজের নামে (মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমী) নামের একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

জমিদারদের প্রধান আয়ের উৎস্য ছিল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। খাজনা বা কর আদায় করার জন্য নায়েব নিযুক্ত করা হতো। অবাধ্য প্রজাকে শায়েস্তা করার জন্য লাঠিয়াল বাহীনি ব্যবহার করা হতো। এ জন্য নিজস্ব বড় লাঠিয়াল বাহিনী সুরক্ষিত ভাবে রাখা হতো। অপরাধ অনুসারে এই প্রজাদেরকে অত্যাচার করা হতো। অত্যাচারের ফলে কারও মৃত্যু হলে মৃত দেহ বাড়ীর পিছনে সু-গভীর অন্ধকুপে নিক্ষেপ করা হতো।

আরও লোক মুখে শোনা যায়, মুসলমান বা হিন্দুরা বাবুদের বাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে যাতায়াত নিষেধ ছিল। বাবুদের চারটি পুকুরের মধ্যে নাট মন্দিরের সামনের পুকুরটি পানীয় জলের জন্য নির্ধারিত ছিল। ঐ পুকুরে কেহ পা ভেজাতে পরতো না। বেচু নামে এক মুসলমান প্রজা অজ্ঞাতবশতঃ ঐ পুকুরে পা ধোয়ার অপরাধে তাকে বেদম প্রহার ও দাড়ী উৎপাটন করা হয়। ফলে তা নিয়ে মামলা হলে বাবুদের এক পাই জরিমানা হয়। মানিক দহের বড় মিয়া আব্দুল বাবুদের বশ্যতা স্বীকার না করার জন্য বাবুরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বড় মিয়া আব্দুল উপায়ন্তর না দেখে শিবসুন্দরী চৌধুরানীকে মা ডাকেন। পরে শিব সুন্দরী চৌধুরানীর হস্তক্ষেপে বড় মিয়া আব্দুলকে মামলা হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। মিয়াদের পরিবারের লোকজন সেই সময় থেকে বর্তমান বাইশরশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম করতেন।

বাইশরশি শিবসুন্দরী একাডেমীর বর্তমান খেলার মাঠ বাবুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বাগানবাড়ী ছিল এবং তারা ঐ বাগান বাড়ীতে যেমন খুশি তেমন ভাবে বিভিন্ন রকমের আনন্দ ফূর্তি করতো। জমিদার বাড়ীটি ৩০একরের উর্ধ্বে ছিল।

১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা লোপ ও প্রজাস্বত্তর আইন প্রনয়ন হবার পর সুকুমারবাবু অর্থহীন এবং বিত্তহীন হয়ে পড়লে তিনি জমিদারী হারিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় লোকশান ও বাড়ীর দাসী কর্তৃক সঞ্চিত স্বর্ণ খন্ডাদী চুরি হওয়ায় ও দাসীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দাসী গর্ভবতী হলে ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে সুকুমারবাবু নিজে বন্দুকের গুলীতে আত্মহত্যা করেন।

উল্লেখ্য যে, সুকুমার বাবু ১৯৩৪-১৯৪৬ পর্যন্ত সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কলিকাতা চলে যান এবং অমরেশ বাবু দিনাজপুর চলে যান। এভাবেই বাইশরশি জমিদারদের জমিদারীর পতন ঘটে। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর অধিকাংশ জমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের দখলে রয়েছে। অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলা পড়ে আছে। সরকারি ভাবে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নাই।

সদরপুর এর বাইশরশি জমিদারের অধীনে থাকা আরেকটি জমিদারী শাসনামল অঞ্চল সম্পর্কে আরও জানা যায়, এ অঞ্চলের দু শতাধিক বছর পূর্বের সাক্ষী বর্তমান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নির্দশন জমিদার মহেন্দ্ররায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাঁছারী বাড়ি। বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস হিসাবে পরিচিতি।

জনশ্রুতি হচ্ছে, ১৮’শ শতকের কথা। ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণারঞ্জন রায় বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ শাসনামলে বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। মেঘনার অববাহিকা বর্তমান ভোলা ও বাউফলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া নামক স্থানে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী ছিল। চন্দ্রদ্বীপ তেঁতুলিয়া নদীতে গয়না পারি দিয়ে বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসে।

ব্রিটিশদের থেকে অত্র এলাকায় জমি ক্রয় করে রায় চৌধারিত্ব উপাদি লাভ করে। দক্ষিণারঞ্জন রায়ের দুই ছেলে মহেন্দ্র রায় বড়ো হিস্যাই, রাজেন্দ্র রায় ছোট হিস্যাই হিসাবে সে এলাকায় স্বীকৃতি পায়। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য এলাকা বাউফলে জমিদারীত্ব আরম্ভ করে। জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় সদরপুরের বাইশরশি থেকে বিভিন্ন পেশার লোক নিয়ে যেত এবং বসতির জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। প্রজাদের মাধ্যমে অত্র এলাকায় কাঁছারী থেকে প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ করে। প্রতিবছর প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ এবং দুর্গাপূজাসহ হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর বাইশরশি থেকে গয়নাযোগে এলাকায় আগমন করতেন। থাকতে মাস ব্যাপী খাস কামরায়ে। খাস কামরায় স্থাপত্য গড়ে তোলে।

স্থাপত্য দুটি বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারী এ স্টেটের পুরাতন দালানে অবস্থিত। উপজেলা সদর প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশে ২২ একর জমির উপর মহেন্দ্র রাজেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি। স্থাপত্য দুটি দেড় ইঞ্চি পাকা ইটের তৈরি প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল। চিনেমাটি প্লেষ্টার দিয়ে ছাদ তৈরি লোহার আড়া। ভিতরে ৪টি কক্ষ। সামনে জোড়া বাধা ৬ টি গম্মুজ। এটি হচ্ছে দক্ষিণ ভিটে। দক্ষিণ ভিটে দালান সামনে বসার জায়গা রয়েছে বসার সাথে দুটি হাতির স্থাপনা। পশ্চিম পাশে রয়েছে অনুরূপ আরেকটি দালান। তিন কক্ষবিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচু স্থাপত্য দালানটি উপরে রয়েছে টিনের ছাউনি। আড়া গুলো হচ্ছে বড় গাছের চিড়াই গাছ।

জমিদারের স্থাপত্য দুটি সামনে রয়েছে টিনের ৮চালা বিশিষ্ট উচু নাটঘর। নাট ঘরে বসে যাত্রা-পালাসহ নাটকহতো। কাঁছারি বাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে জমিদার বাড়ীতে হতো নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মাস ব্যাপী যাত্রা অনুষ্ঠান হয়েছিল। দেওয়া হতো মহিষ ও পাঠা বলী। মাসব্যাপী যাত্রার রিহার্সেল দেওয়া হতো। দু ঘরের সামনে বসে জমিদার তার পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন।

ওই সময় যাত্রা পালার মধ্যে ছিল অকালের দেশ, বাঙ্গালী রক্ততিলক, সমাজের বই, কাঞ্চন মালা, বাঙ্গালী বিচারক, সোহরাফ রুস্তম,দর্পহারী, এজিদ ও জয়নাল উদ্ধার, বঙ্গেরবর্গী প্রভৃতি। অনুষ্ঠিত যাত্রাপালায় এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রাপালা দলের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে যারা অংশ গ্রহণ করতে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, মাখম সাহা, মনোরঞ্জন শীল, রাজস্বর রায়, অনন্ত ঘোষ, মেঘনাথ ঘোষ, চিত্র রঞ্জন সাহা, বিনোদ বিহারী সাহা। কাঁছারী বাড়ি নিরাপত্তার্থে চার পাশে রয়েছে উচু দেয়াল। প্রাচীর রয়েছে প্রাচীর পূর্বপাশে বতর্মান প্রবেশপথ ইটের তোরণ, উত্তর পাশে রির্জাভ ঘাটে গেট পশ্চিম পাশে ঘেট রয়েছে। ইটের র্নিমান প্রাচীর ১০ ইঞ্চি প্রসস্ত উচু হচ্ছে ৯ ফুট। স্থাপত্য দুটি সংলগ্ন রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ীর উত্তর পাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। রিজার্ভ পুকুরের দক্ষিণ পাশে বাধাই করা ঘাট। রিজার্ভ পুকুরের পানি কেউ ব্যবহার করতে না। ভুলক্রমে কেউ পানি পান করতে গেলেও পা পুকুরে পানিকে ভিজাতে না। এ পুকুরে পানি রিজার্ভ রাখার জন্য ছিল আলাদা পাহারাদার। পশ্চিম পাশে বড়ো একটি পুকুর। যা ছিল সবার জন্য উম্মুক্ত। আরো জনশ্রুতি হচ্ছে, জমিদারের কঠোর শাসন থাকলে তাদের জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে।

১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফলকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং ১৮৭৪ খ্রিঃ পুলিশ ষ্টেশন স্থাপন করে থানা হিসেবে বাউফলে কার্যক্রম শুরু করা হয়। পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তান শাসন আমল। মধ্য স্বত্বলোপ পায়। সরকার সমস্ত জমিদারিত্ব একোয়ার করে নেয়। জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় দেশ ছেড়ে চলে যায়। সরকার ১নং খতিয়ানভুক্ত করে বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দু’শ বছরের পুরানো এই জমিদারী স্থাপনার ঐতিহ্য কে সংরক্ষণ করা গেলে ফরিদপুরের সদরপুরের বাইশরশি জমিদার বাড়িকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতো।

সংরক্ষণ না থাকায় আজ ভগ্নদশায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়ায় তার সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে হতে পারে দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র। সরকারি ভাবে সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতল ভবনের ছাদ নিরাপত্তাদ্বয় কাঠের আড়া গুলো কেটে নেওয়ার ফলে কয়েকটি রুমের ছাদ ধসে পড়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়াও বাড়িটির অন্যান্য কক্ষে লোহার দরজা,জানালা,গ্রীল ও চুরি হয়ে যাচ্ছে। বেশীরভাগ চুরির ঘটনা রাতে হচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

এবিষয়ে সদরপুরের সন্তান তৌকির আহম্মেদ বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের এই ইতিহাসের অংশ টুকুকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার তাই আমরা সদরপুর বাসী এই জমিদার বাড়ি টি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এই জমিদার বাড়ি টি সংস্কার করলে জমিদার বাড়িটি হতে পারে অত্র সদরপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। রক্ষা পেত ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি ও একটি ইতিহাস।

ফরিদপুরে ১০০ টাকায় মিলছে তিন পিস তরমুজ, ক্রেতাদের মুখে হাসি

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০০ টাকায় মিলছে তিন পিস তরমুজ, ক্রেতাদের মুখে হাসি

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে বর্তমানে মাত্র ১০০ টাকায় তিন পিস তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তুলনামূলক ছোট আকৃতির এসব তরমুজ কম দামে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বাজারের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দোকানে একই তরমুজের দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের ‌হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ‌সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায় বিক্রেতারা ছোট আকৃতির তরমুজ তিনটি ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তরমুজ কেটে জনসমক্ষে প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

বিক্রেতারা জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে কম দামে তরমুজ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারেন।

অন্যদিকে ক্রেতারাও কম দামে তরমুজ কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, মাত্র ১০০ টাকার মধ্যে তিনটি তরমুজ পাওয়া তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে তাদের আশঙ্কা, দু-এক দিনের মধ্যেই তরমুজের দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, তরমুজ একটি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। এতে প্রচুর ভিটামিন ও পানি থাকায় গরমের সময়ে এ ফলের চাহিদা থাকে বেশি। তাই কম দামে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বিকাশ কর্মকার (৪৭) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (০৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের সাতৈর রেলস্টেশনে রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জগামী ‘টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিকাশ কর্মকার উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের মৃত নিতাই কর্মকারের ছেলে। তিনি সাতৈর বাজারের একজন স্বর্ণকার ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন আসার আগে বিকাশ কর্মকার রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন সরে গেলেও তিনি হঠাৎ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী লক্ষ্মী রানী কর্মকার মারা যান। তাদের একমাত্র ছেলে বর্তমানে নানাবাড়িতে থাকেন। ঘটনার পর তার পকেট থেকে ভোটার আইডি কার্ড ও পরিবারের সদস্যদের ছবি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, একসময় তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও ঋণের চাপে পড়ে ব্যবসা ছেড়ে ঢাকায় চাকরি নেন। সম্প্রতি পৈত্রিক জমি বিক্রির জন্য বাড়িতে এসে স্বজনদের বাধার মুখে পড়েন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আবরাব নাদিম ইতু
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আজ সাত বছর পূর্ণ হলো—তুমি নেই, তবু সময় ঠিকই বয়ে যায় নিজের নিয়মে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে ভুলে যাওয়া হয়নি, বরং স্মৃতির পলি জমে তোমার অস্তিত্ব যেন আরও ভারী হয়ে বসেছে বুকের গভীরে।

কিছু মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নেয় অন্যের জন্য বাঁচতে—নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে। তুমি ছিলে ঠিক তেমনই একজন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

তোমার মায়ার বাঁধনে আমরা সবাই এমনভাবে জড়িয়ে ছিলাম, যেন সেই বন্ধন ছিন্ন হওয়ার নয় কোনোদিনই। আমাদের ছোট্ট পরিবারটাকে তুমি আগলে রেখেছিলে অসীম মমতায়, স্নেহে, আর নির্ভরতার এক নিরাপদ ছায়ায়। আজও মনে হয়, দূর কোথাও বসে তুমি চুপিচুপি আমাদের জন্য আশীর্বাদ করে যাচ্ছো।

নিজে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন না হয়েও শিক্ষার প্রতি তোমার যে অদম্য ভালোবাসা ছিল, তা ভাবলে আজও বিস্মিত হই। তুমি বুঝতে—শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত সম্পদ। তাই ছেলেমেয়ের ভেদাভেদ না করে সবার জন্য সমানভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে। তোমার সেই দৃঢ় সংকল্প ছিল পাহাড়সম অটল। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তোমার অবদান ছিল নিঃশব্দ অথচ অসীম।

নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও, প্রয়োজনের সময় কোথা থেকে যেন তুমি সব ব্যবস্থা করে ফেলতে। আজও ভাবি—কী করে পারতে তুমি? আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তোমার ত্যাগ, তোমার সংগ্রাম মিশে আছে অদৃশ্যভাবে।

নানাভাই চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতেন, কিন্তু সেই অভাব আমরা কখনো টের পাইনি। কারণ তুমি ছিলে—একাই ছিলে এই সংসারের কাণ্ডারি, অতন্দ্র প্রহরী। তোমার অসীম ধৈর্য, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে তুমি সব শূন্যতা পূর্ণ করে রেখেছিলে।

নানু, তুমি কি ভালো আছো?
এখন কি তুমি ওই দূর আকাশের কোনো নক্ষত্র হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকো?

আজ জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে—অনেক কিছুই হাতের নাগালে। তবুও মনে হয়, আমরা যেন ভেতর থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। মমতার সেই গভীর বন্ধন, সেই শক্ত মনের জোর—কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি আমরা। অল্প আঘাতেই ভেঙে পড়ি, দিশেহারা হয়ে যাই।

চলে যাওয়ার সময় তুমি কি তোমার সেই অসীম শক্তিটুকু আমাদের দিয়ে যাওনি?
যদি আর একবার তোমাকে কাছে পেতাম, খুব করে বলতাম—আমাদেরও একটু শক্ত করে দাও, তোমার মতো করে বাঁচতে শেখাও।

তোমাকে খুব মনে পড়ে, নানু।
যেখানেই থেকো—ভালো থেকো।
আর যদি সত্যিই নক্ষত্র হয়ে থাকো, তবে তোমার আলোটা যেন আমাদের পথ দেখাতে থাকে সারাজীবন।