খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের মধুমতি নদীতে এক মৎস্যজীবীর বৈঠার আঘাতে নিখোঁজ অপর মৎস্যজীবী 

তৈয়বুর রহমান কিশোর, বোয়ালমারী:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতি নদীতে এক মৎস্যজীবীর বৈঠার আঘাতে নিখোঁজ অপর মৎস্যজীবী 

ফরিদপুরের মধুমতি নদীতে মাছ ধরার সময় শৌখিন খান (৩৮) নামে এক মৎস্যজীবী প্রতিপক্ষ মৎস্যজীবী জব্বার মোল্যার (৩৭) হাতে থাকা বৈঠার আঘাতে নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ মৎস্যজীবী শৌখিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে ঘটনাস্থল এলাকায় গিয়ে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা জেলার মহম্মদপুর সীমান্তে মধুমতি নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ মৎস্যজীবী শোখিন খান মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা চরপাড়া গ্রামের ছাত্তার খানের ছেলে। সকাল থেকেই নিখোঁজের স্বজনরা ও এলাকাবাসী মধুমতি নদীর বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ঘাটে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা চরপাড়া গ্রামের ছাত্তার খানের ছেলে মৎস্যজীবী শোখিন খান ও ফরিদপুর জেলার নওপাড়া গ্রামের আহমদ শেখের ছেলে হুমায়ূন শেখ নৌকায় চায়না জাল নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে মাছ ধরতে বের হয়। একই সময়ে পাশেই মাছ ধরতেছিল ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের ছলেমান মোল্লার ছেলে জব্বার মোল্লা (৩৮), রবিউল মোল্লা (৩০) ও একই গ্রামের নৌকা চালক ছলেমানের ছেলে সানি শেখ।
ওইদিন রাত পৌনে ৩টার দিকে বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্ডিবিলা মাঝিপাড়া ঘাট এলাকা দিয়ে মৎস্যজীবী শোখিন খান ও হুমায়ূন শেখ নৌকা নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় অপর মৎস্যজীবী জব্বার মোল্লা (৩৮) ও রবিউল মোল্লা (৩০) শৌখিনদের বলে, আমাদের জালের উপর আসলি কেন? ঘটনার সময় দুই মৎস্যজীবী পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জব্বার মোল্লা শৌখিনের মাথায় বৈঠা দিয়ে আঘাত করলে নদীর পানিতে ডুবে যায়।

খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করতে পারেনি। সকাল থেকেই নিখোঁজের স্বজনরা ও এলাকাবাসী মধুমতি নদীর বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ঘাটে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সৌখিনের সাথে থাকা অপর মৎস্যজীবী হুমায়ুন শেখ জানান, রবিউল ও জব্বারের পেতে রাখা কারেন্ট জালের উপর দিয়ে নৌকা চালানো হয়েছে দাবী করে জব্বার সৌখিনের মাথায় আঘাত করলে সে নদীর মধ্যে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে পাওয়া না গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মেলেনি।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি গনি আমিন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি রাতে মাছ মারার সময় এক মৎস্যজীবী অপর মৎস্যজীবীকে আঘাত করলে একজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ায় মাঝখানে অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এখনো ওই ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে।

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।