খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি আতাউর রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি আতাউর রহমান

ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হয়েছেন মো. আতাউর রহমান। তিনি জেলার সালথা থানার ওসি।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচন করা হয়।

পরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল জলিল তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. আসিফ ইকবাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব, সাদিক আহমেদ সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সামগ্রিক কর্মতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে অনন্য অবদান রাখায় মো. আতাউর রহমানকে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচন করা হয়েছে।

তার এ সাফল্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? জেনে নিন কখন এটি বিপদ সংকেত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? জেনে নিন কখন এটি বিপদ সংকেত

আপনি হয়তো সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন এবং হঠাৎ অনুভব করলেন আপনি খুব বেশি হাঁপিয়ে উঠেছেন; শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কিছুক্ষণ থেমে জিরিয়ে নেওয়ার পর ভাবলেন, হয়তো ক্লান্ত ছিলেন বা শরীরের ফিটনেস কিছুটা কমে গেছে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই দৈনন্দিন কাজের সময় এই ধরণের শ্বাসকষ্ট বা অল্পতে হাঁপিয়ে ওঠাকে সাধারণ ক্লান্তি, কাজের চাপ, বয়স বেড়ে যাওয়া বা ওজন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ধরে নেন এবং এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাধারণ অবহেলাই হতে পারে মারাত্মক হৃদরোগের পূর্বাভাস ।

নীরবে কমে আসা সক্ষমতা

ভারতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাজেশ রজনীর মতে, শ্বাসকষ্টের সমস্যাটি খুব ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে, যা আমরা অনেক সময় টেরও পাই না। আগে হয়তো আপনি অনায়াসেই সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারতেন, কিন্তু এখন অবচেতনভাবেই লিফট খুঁজছেন। অথবা আগে যতটুকু পথ হাঁটলে আপনার কষ্ট হতো না, এখন তার চেয়ে কম পথ হাঁটলেই দম ফুরিয়ে আসছে। এই ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনগুলো আসলে আপনার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের মাধ্যমে দেওয়া বিপদ সংকেত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শ্বাসকষ্ট বা ‘ডিসপনিয়া’ আছে, তাদের হৃদরোগ বা ফুসফুসজনিত রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২ থেকে ৯ গুণ বেশি।

পেছনের কারণ

যখন হৃদরোগ শ্বাসকষ্টের পেছনে হৃদযন্ত্রের বেশ কিছু জটিল অবস্থা দায়ী থাকতে পারে:

ধমনীতে ব্লক: হৃদপিণ্ডের ধমনীতে চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পেয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

হার্ট ভালভের সমস্যা: হার্টের ভালভ ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে অবসাদ ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

হৃদস্পন্দনের অনিয়ম: অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

হৃদপেশির দুর্বলতা: হার্টের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে গেলে এটি শরীরকে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করতে পারে না, যা শ্বাসকষ্টের অন্যতম কারণ।

নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

হৃদরোগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের উপসর্গে ভিন্নতা থাকতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বুকে ব্যথার চেয়েও শ্বাসকষ্ট এবং বমি বমি ভাব হৃদরোগের প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই মৃদু উপসর্গের ক্ষেত্রেও অবহেলা করা ঠিক নয়।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

যদি নিয়মিত কাজের সময় আপনি ক্রমবর্ধমান শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাৎক্ষণিক জরুরি বিভাগে যেতে হবে:

হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া।

রাতে ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসা বা হাঁপিয়ে জেগে ওঠা।

শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

নখ বা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ডা. রজনীর মতে, উপসর্গগুলো শুরুতে শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলোকে বয়সের দোষ দিয়ে এড়িয়ে না গিয়ে সময়মতো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আপনার শ্বাসকষ্ট আসলে আপনার হৃদযন্ত্রের কথা বলার চেষ্টা হতে পারে—তাই এই সংকেতটি শুনতে শিখুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি উৎসবে নেতৃত্বে সাঈদুর-নান্না, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি উৎসবে নেতৃত্বে সাঈদুর-নান্না, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় তার গৌরবময় ১৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী ও উৎসব। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে উদযাপন পর্ষদ, উপদেষ্টা পর্ষদ এবং সমন্বয়ক পর্ষদ।

উৎসব সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমান এবং সদস্য সচিব হয়েছেন সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্না। ৫০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত এই পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শাব্বির হোসেন মনিকে।

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী জোবায়দুল হক টুলু, এস এম শামীম হাসান, সৈয়দ মান্নাফ হোসেন খসরু, মো. আমীর হোসেন সাগর, মাহফুজুর রহমান মবিন, মোস্তফা মাহমুদ আরেফি, মাহবুবুর রহমান সোহেল, অশোকেশ রায়, শোয়েবুল ইসলাম, মো. শেখ আব্দুল জলিল, দিদারুল মাহমুদ খান টিটু, শাহীন হক, উজ্জ্বল হোসেন, মুহাম্মদ শামীম হোসেন, সৈয়দ আলাওল হোসেন তনু এবং মো. আবু সাঈদ খান রানা।

উৎসবকে ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, প্রকাশনা, ক্রীড়া ও বিভিন্ন আয়োজন পরিচালনার জন্য ১৪টি উপ-পর্ষদও গঠন করা হয়েছে। এসব উপ-পর্ষদ উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে গঠিত সমন্বয়ক পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক নির্বাচিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। অন্যদিকে ১৯৫৪ সালের এসএসসি ব্যাচ থেকে শুরু করে ৩০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত উপদেষ্টা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা।

শনিবার (২০ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের ঈশান মেমোরিয়াল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১তম প্রস্তুতি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পর্ষদের নাম ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। সদস্য সচিব সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মান্নাফ হোসেন খসরুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৭৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য এক সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

আয়োজকরা আশা করছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশে অবস্থানরত হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই উৎসবে অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের অংশীদার হবেন। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম ও উৎসবের বিভিন্ন প্রস্তুতি জোরেশোরে এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর প্রান্তে অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখল করায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর নির্মিত এই সেতু নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেতুটি চালু হলে পৌর শহরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সেতুর উত্তর পাশে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন রয়েছে। স্থানীয়রা শুরু থেকেই ওই স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু এরই মধ্যে সেতুর উত্তর প্রান্তের ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বেড়া সড়কের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাঁক ঘুরে আসা কিংবা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সহজে দেখা যাচ্ছে না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলায় চালকরা সামনে কী আছে তা বুঝতে পারছেন না। বিশেষ করে রাতে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো সরকারি জায়গা দখল করেননি। সেতুর ওপর থেকে সরাসরি তাদের বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যাওয়ায় পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে টিনের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে।

তবে পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন,
“সেতুর একদিকে খাড়া ঢাল, অন্যদিকে তীব্র বাঁক। এর মধ্যে টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখা যায় না। ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন,
“এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি এই বেড়া মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। দ্রুত এটি অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সেতুর সৌন্দর্য ও জননিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত হয়।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা অপসারণ না করায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কেউ সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে কিংবা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ না করা হলে উদ্বোধনের আগেই স্বপ্নের এই সেতু দুর্ঘটনার ‘ব্ল্যাক স্পট’-এ পরিণত হতে পারে। তাই জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।