খুঁজুন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩

মাথার পেছনের অংশে ব্যথা হয় কেন, এটি কীসের ইঙ্গিত?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
মাথার পেছনের অংশে ব্যথা হয় কেন, এটি কীসের ইঙ্গিত?

মাথাব্যথা আমাদের জীবনের এক অতি সাধারণ সমস্যা। তবে ব্যথার স্থান এবং ধরন অনেক সময় গুরুতর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে মাথার পেছনের অংশে ব্যথা হলে আমরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি। এই ব্যথা কেন হয় এবং এটি কীসের সংকেত হতে পারে, তা নিয়ে আজকের আলোচনা।

ব্যথার নেপথ্যে সাধারণ কিছু কারণ

মাথার পেছনের অংশে ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হলো টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা। প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক মাথাব্যথাই এই ধরনের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মাথার পেছনের অংশে এক ধরনের চাপ বা আঁটসাঁট অনুভূতি হয়, যা অনেক সময় ঘাড় এবং চোখের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদ এর অন্যতম প্রধান কারণ।

এছাড়া মাইগ্রেনও মাথার পেছনের ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। যদিও মাইগ্রেন সাধারণত মাথার একপাশে হয়, তবে অনেক সময় এটি পুরো মাথায় বা পেছনের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ‘অক্সিপিটাল মাইগ্রেন’ এর ক্ষেত্রে মাথার খুলির নিচ থেকে শুরু করে তালু পর্যন্ত জ্বালাপোড়া বা বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি হতে পারে।

জীবনযাত্রার প্রভাব ও সংকেত

আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও মাথার পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে:

বসার ভঙ্গি: দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসে কাজ করলে কাঁধ এবং ঘাড়ের পেশিতে টান পড়ে। এর ফলে পেশিতে ছোট ছোট গিঁটের মতো সৃষ্টি হয় যা মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পাঠায়।

পানিশূন্যতা: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় এটি আরও বেশি দেখা দেয়।

শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের পর রক্তনালী প্রসারিত হওয়ার কারণে মাথায় স্পন্দন বা দপদপানির মতো ব্যথা হতে পারে।

গুরুতর কিছু ইঙ্গিত

মাথার পেছনের ব্যথা সব সময় সাধারণ নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া বা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে হঠাৎ করে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া ঘাড়ের হাড়ের সমস্যা বা স্পাইনাল আর্থ্রাইটিস থেকেও সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের টিউমার বা রক্তচাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তনও পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে।

ঘরোয়া প্রতিকার ও সমাধান

ব্যথা কমাতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা যেতে পারে:

তাপ বা ঠান্ডা থেরাপি: পেশির টান কমাতে গরম সেঁক এবং প্রদাহ কমাতে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক বেশ কার্যকর।

লাইফস্টাইল পরিবর্তন: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, প্রচুর পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণ মাইগ্রেন ও টেনশন হেডেক কমাতে সাহায্য করে।

ম্যাসাজ: ঘাড় ও কাঁধের পেশি শিথিল করতে হালকা ম্যাসাজ বেশ ফলদায়ক হতে পারে।

ওষুধ: সাধারণ ব্যথায় আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন জাতীয় ওটিসি ঔষধ সেবন করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হওয়া ভালো।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

মাথাব্যথা যদি নিচের লক্ষণগুলোর সাথে দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে:

– যদি এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হয়।

– মাথাব্যথার সাথে যদি উচ্চ জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

– শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি ঘোলা হয়ে গেলে।

– মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ব্যথা শুরু হলে।

মাথার পেছনের ব্যথা অবহেলা না করে এর কারণ বুঝে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সুস্থ থাকা সম্ভব। সচেতনতাই হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

বিস্ফোরক মামলায় সালথা যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাবু আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বিস্ফোরক মামলায় সালথা যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাবু আটক

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান বাবুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোল্যার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দায়ের করা একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “২০২৫ সালের একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলায় খায়রুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের মতে, এ উপজেলায় পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না, একইসঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ আবাদযোগ্য জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। বার্ষিক উৎপাদন ২ লাখ টনেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ফরিদপুরকে দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত পাটের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবেই অন্য জেলায় চলে যায়। যদি এ এলাকায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও কমে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথায় পাটকল স্থাপন হলে শুধু কৃষি খাত নয়, পরিবহন, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ পুরো অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, সালথায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক সহজলভ্য। তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাওয়ায় এখানে শিল্প স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটকল স্থাপিত হলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বেকার যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সালথার স্থানীয় যুবক ও সমাজকর্মী মো. মুরাদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক আছে। পাটকল হলে তারা কাজের সুযোগ পাবে, বিদেশে যাওয়ার চাপও কমবে।”

এদিকে সালথার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর পাট চাষ করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। যদি আমাদের এলাকায় পাটকল হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভালো দাম পাব এবং ক্ষতিও কম হবে।”

একই উপজেলার বেকার যুবক হান্নু মোল্যা জানান, “আমরা লেখাপড়া শেষ করেও কোনো স্থায়ী কাজ পাই না। যদি এখানে পাটকল হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হবে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।”

সালথা উপজেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, “সালথার উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর পাট এ এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসংখ্য যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এখানে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত পাটকল স্থাপনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সালথা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাটকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বাজারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “সালথা উপজেলায় বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি পাটকল স্থাপন করা হলে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথা পাট উৎপাদনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। অথচ এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত পাটকল স্থাপনের দাবি জানাই।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “সালথায় পাটকল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকের স্বার্থে একটি আধুনিক পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সালথা উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। এখানে পাটভিত্তিক শিল্প বা পাটকল স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় এবং সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাবো।”

ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশেষ করে সালথা উপজেলায় উচ্চমানের পাট উৎপাদিত হয়। তবে, এ উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। তাই এ উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হবে। এছাড়া পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাট খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করব।”

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।

পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম সাধারণত গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। আবহাওয়া ও জাতভেদে এই ফলের আগমন ও শেষ হওয়ার সময় কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমের মৌসুম শুরু হয় সাধারণত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে মে মাসে।

এরপর মে ও জুন মাসে বাজারে আমের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া গেলেও কিছু জাতের পাকা আম আগস্টের শুরু পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক পুষ্টি ডাটাবেজ ও স্বাস্থ্য গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালোরি শক্তি থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৫ থেকে ১৭ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৮ গ্রাম এবং ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম, প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ গ্রাম। পাশাপাশি ডায়েটারি ফাইবার থাকে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গ্রাম।

ভিটামিনের মধ্যে আমে ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন) থাকে ৫০০ থেকে ১০০০ আই ইউ , যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি৬ থাকে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম, ফোলেট বি৯ থাকে প্রায় ১৪ থেকে ২০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন ই এবং সামান্য ভিটামিন কে-ও এতে পাওয়া যায়।

এছাড়া, খনিজ উপাদানের ক্ষেত্রে আমে পটাশিয়াম থাকে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রাম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম প্রায় ১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস থাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম, আয়রন প্রায় ০.২ থেকে ০.৩ মিলিগ্রাম এবং অল্প পরিমাণে জিঙ্ক বিদ্যমান থাকে।

এছাড়া আমে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ) এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনল থাকায় এটি শরীরের কোষ সুরক্ষায় সাহায্য করে। তবে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন, আম পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

আম কতটুকু খাওয়া নিরাপদ ?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে গড়ে ১ থেকে ২টি মাঝারি আকারের আম বা প্রায় ২০০–৩০০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি জমে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ আমে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ) থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত— দিনে সর্বোচ্চ অর্ধেক থেকে ১টি ছোট আম খেতে পারেন তবে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে ভাগ করে খাওয়া উচিত। খালি পেটে আম না খাওয়াই ভালো এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত আম খেলে যে সমস্যা হতে পারে

পুষ্টিবিদদের মতে, বেশি আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, হজমে সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিক ,ত্বকে অ্যালার্জি বা ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন ও কীভাবে আম খাওয়া ভালো

একবারে বেশি না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া, খাবারের পর বা স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া, আমের সঙ্গে দই বা বাদাম খেলে শর্করার প্রভাব কিছুটা কমে। সর্বোপরি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত।

যারা বেশি সতর্ক থাকবেন

ডায়াবেটিস রোগী ছাড়াও শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের ওজন বেশি—তাদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আম পুষ্টিকর হলেও পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত— না হলে উপকারের বদলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।