খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

খিল ভদ্র,
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২১ অপরাহ্ণ
পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা কমছে না। সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পথশিশুদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে।

আর মাদকাসক্ত পথশিশুরা চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি বলে বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পথশিশুদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এই অবস্থায় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পথশিশুরা।

তাদের বিষয়ে নানা সুপারিশ তুলে ধরা হবে। কিন্তু সেই সুপারিশ ও প্রস্তাব বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পথশিশুর সংখ্যা। রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০ লাখ পথশিশুর জন্য মাত্র দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।

একটি কমলাপুরে, আরেকটি কারওয়ান বাজারে। কেন্দ্র দুটিতে রয়েছে ১৫২ শিশুর থাকার ব্যবস্থা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ পরিচালিত ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ, ফেইজ-২’ প্রকল্পের ২০২৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি পথশিশু রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে এসব শিশুকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দারিদ্র্যের চক্রে স্থায়ী করে রাখা হয়েছে।

মা-বাবার অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও সামাজিক নিগ্রহসহ নানা বিরূপ পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গবেষণায় বলা হয়, দেশে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত। ১৪ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সের আগেই মাদক সেবন করে। তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় পথশিশুদের মধ্যে ৩১.৭ শতাংশ গাঁজা সেবন করে। ড্যান্ডি মাদকে আসক্ত ১৫.২ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া রাজধানীতেই ড্যান্ডিতে আসক্ত পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২’ প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের পথশিশুর ৪৮.৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২.৭ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮.৩ শতাংশের বসবাস। সবচেয়ে কম পথশিশু সিলেট বিভাগে, ৪ শতাংশ। পথশিশুর ৮২ শতাংশ ছেলে ও ১৮ শতাংশ মেয়ে। আর অর্ধেকের বেশি পথশিশুর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। প্রতি তিন পথশিশুর মধ্যে প্রায় একটি (৩৩ শতাংশের বেশি) জীবনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। প্রায় অর্ধেক শিশু পাটের ব্যাগ, শক্ত কাগজ, প্লাস্টিকের টুকরা বা পাতলা কম্বল নিয়ে মাটিতে ঘুমায়।

বিবিএসের তথ্য বলছে, প্রতি ১০ পথশিশুর মধ্যে ৯টি বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এর মধ্যে ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকের সহায়তাকারী ১৮.৪ শতাংশ। ময়লা কুড়িয়ে (টোকাই) জীবন যাপন করছে ২০.৯ শতাংশ। তা ছাড়া যৌনকর্মী হিসেবে যুক্ত হচ্ছে মেয়ে পথশিশুরা। ঝাড়ু দেওয়া ও পরিচ্ছন্নতা কাজে যুক্ত ০.৫ শতাংশ পথশিশু। আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন খাত ও নির্মাণকাজে যুক্ত ১৬ শতাংশ পথশিশু। চায়ের দোকান, কারখানা ও ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৪.৮ শতাংশ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ফুটপাতে, রেলস্টেশন, বাস কাউন্টার, টার্মিনাল, ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজের নিচে, এমনকি সড়ক বিভাজকের ওপর পথশিশুরা অবস্থান করে। কারওয়ান বাজার, কমলাপুর, পল্টন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সদরঘাট এলাকায় এদের তৎপরতা বেশি। এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের কারণে নানা অপরাধেও জড়াচ্ছে তারা। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া পথশিশুর সংখ্যা ৪৪ শতাংশ। ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ পথশিশু। আবার এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে পথশিশুরা। ঢাকার বাইরেও ছোট-বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সড়কে পথশিশুদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ এভাবেই গড়াগড়ি খাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কের (স্ক্যান) সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, পথশিশুদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। যেসব সংস্থা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশে তার সংখ্যাও অনেক কম। পথশিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে পুনর্বাসনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি মাদক বিক্রিতেও তারা ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার একটি বড় অংশ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত। ভিক্ষাবৃত্তি ও মাদকাসক্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হবে। এ জন্য ১০ বছরের নিচের পথশিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের নন-ফরমাল এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে।

পথশিশুদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুরা যেন পথে না আসে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে পথে থাকা শিশুদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রথমে পথশিশুদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। সংখ্যা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের সুরক্ষায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়ালে পথশিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, পথশিশুদের পারিবারিক শৃঙ্খলা, শাসন ও আদর না থাকায় তারা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবনের পাশাপাশি কন্যাশিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় তাদের পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা