খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-৪ আসনে মিজানুর রহমান মোল্লার গণসংযোগ তুঙ্গে, ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৯ এএম
ফরিদপুর-৪ আসনে মিজানুর রহমান মোল্লার গণসংযোগ তুঙ্গে, ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (রিক্সা প্রতীক) মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বর্তমানে প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগে শীর্ষে অবস্থান করছেন। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা আজিমনগর ইউনিয়নের পুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি তিনি। প্রতিনিয়ত তাঁর প্রত্যেকটি গণসংযোগে মানুষের ঢল নামছে। কিশোর থেকে বৃদ্ধ প্রতিটি বয়সের নারী-পুরুষের কাছে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত হয়েছেন তিনি।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ এলাকাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। সামাজিক নানা কর্মকান্ডেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি। এছাড়াও নানাবিধ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। স্থানীয়দের মতে, মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা শুধু রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন সমাজসেবক ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ।

এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিটি সভায় তিনি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক কথাই বারবার উচ্চারণ করেন — “আমি এই মাটির সন্তান, আপনাদের অতি আপনজন। আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের ঘরের মানুষকে সমর্থন দিবেন। আমি আপনাদের ঘরের মানুষ। যে কোনো বিপদে-আপদে জানাবেন, আমি আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, ‘আমার নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক আগামী পাঁচ বছরের জন্য ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমি বিজয়ী হলেও আপনাদের পাশে আছি, না হলেও আপনাদের পাশে আছি। নির্বাচনে কে বিজয়ী হবে তা আল্লাহই জানেন। আল্লাহ যতদিন হায়াত রেখেছেন আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের ভালোবেসে যেতে চাই এবং আপনাদের ভামোবাসা নিয়ে আপনাদের খেদমত করে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ‘আলেমগণ কখনও জনগণের হক মারবে না। কারণ তারা জানে অন্যের হক মারলে জাহান্নামে যেতে হবে। এজন্য একমাত্র আলেমদের কাছেই দেশ ও দেশের জনগণ, দেশের সম্পদ নিরাপদ। জনগণের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার শক্তি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এই এলাকার উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সর্বাত্মক ভূমিকা রাখব। স্থানীয়রা তার এই মানবিক কর্মকান্ডে উচ্ছ্বাসিত।

এলাকাবাসীর মতে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষ তাকে “নিবেদিত প্রাণ নেতা” বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা জানান, তিনি রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করে থাকেন। এমনকি কারো যদি মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারে, লেখা পড়ার খরচ না থাকে সেখানেও মিজানুর রহমান মোল্লাকে পাওয়া যায়। তার কাছে যেয়ে কেউ কখনও খালি হাতে ফিরেনি। তিনি যদি আমাদের এমপি হন তাহলে আমাদের দুঃখ অনেকটাই দুর হবে। বিগত দিনে অনেক এমপি আমাদের মাঝে ছিলেন। আমাদের দুঃখের দিনে কাউকে পাশে পাইনি। যাকে আমরা দুঃখের দিনে পাশে পাবো আগামী নির্বাচনে তাকেই আমরা ভোট দিবো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর এই জনসম্পৃক্ততা, জনগণের সাথে সেবামূলক মনোভাব আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মুহুর্তেই মিশে যেতে পারেন এবং মানুষও তাকে আপন ভাবে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে এই গুণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। তার সভা- সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা তার জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ।

মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা এখন ফরিদপুর -৪ সংসদীয় আসনের রাজনীতিতে আশা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।