খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-৪ আসনে মিজানুর রহমান মোল্লার গণসংযোগ তুঙ্গে, ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-৪ আসনে মিজানুর রহমান মোল্লার গণসংযোগ তুঙ্গে, ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (রিক্সা প্রতীক) মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বর্তমানে প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগে শীর্ষে অবস্থান করছেন। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা আজিমনগর ইউনিয়নের পুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি তিনি। প্রতিনিয়ত তাঁর প্রত্যেকটি গণসংযোগে মানুষের ঢল নামছে। কিশোর থেকে বৃদ্ধ প্রতিটি বয়সের নারী-পুরুষের কাছে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত হয়েছেন তিনি।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ এলাকাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। সামাজিক নানা কর্মকান্ডেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি। এছাড়াও নানাবিধ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। স্থানীয়দের মতে, মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা শুধু রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন সমাজসেবক ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ।

এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিটি সভায় তিনি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক কথাই বারবার উচ্চারণ করেন — “আমি এই মাটির সন্তান, আপনাদের অতি আপনজন। আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের ঘরের মানুষকে সমর্থন দিবেন। আমি আপনাদের ঘরের মানুষ। যে কোনো বিপদে-আপদে জানাবেন, আমি আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, ‘আমার নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক আগামী পাঁচ বছরের জন্য ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমি বিজয়ী হলেও আপনাদের পাশে আছি, না হলেও আপনাদের পাশে আছি। নির্বাচনে কে বিজয়ী হবে তা আল্লাহই জানেন। আল্লাহ যতদিন হায়াত রেখেছেন আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের ভালোবেসে যেতে চাই এবং আপনাদের ভামোবাসা নিয়ে আপনাদের খেদমত করে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ‘আলেমগণ কখনও জনগণের হক মারবে না। কারণ তারা জানে অন্যের হক মারলে জাহান্নামে যেতে হবে। এজন্য একমাত্র আলেমদের কাছেই দেশ ও দেশের জনগণ, দেশের সম্পদ নিরাপদ। জনগণের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার শক্তি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এই এলাকার উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সর্বাত্মক ভূমিকা রাখব। স্থানীয়রা তার এই মানবিক কর্মকান্ডে উচ্ছ্বাসিত।

এলাকাবাসীর মতে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষ তাকে “নিবেদিত প্রাণ নেতা” বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা জানান, তিনি রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করে থাকেন। এমনকি কারো যদি মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারে, লেখা পড়ার খরচ না থাকে সেখানেও মিজানুর রহমান মোল্লাকে পাওয়া যায়। তার কাছে যেয়ে কেউ কখনও খালি হাতে ফিরেনি। তিনি যদি আমাদের এমপি হন তাহলে আমাদের দুঃখ অনেকটাই দুর হবে। বিগত দিনে অনেক এমপি আমাদের মাঝে ছিলেন। আমাদের দুঃখের দিনে কাউকে পাশে পাইনি। যাকে আমরা দুঃখের দিনে পাশে পাবো আগামী নির্বাচনে তাকেই আমরা ভোট দিবো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর এই জনসম্পৃক্ততা, জনগণের সাথে সেবামূলক মনোভাব আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মুহুর্তেই মিশে যেতে পারেন এবং মানুষও তাকে আপন ভাবে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে এই গুণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। তার সভা- সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা তার জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ।

মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা এখন ফরিদপুর -৪ সংসদীয় আসনের রাজনীতিতে আশা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”