খুঁজুন
, ,

‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাইয়ের যোদ্ধারা শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামেননি। তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছিলেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়।”

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। তাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণতন্ত্রের প্রতি অটল অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করবে।”

তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামান শাহিন, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের মামলায় জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহিদ শেখ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জাহিদ শেখ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় জাহিদ শেখের। এর আগে পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাহিদ। বিয়ের কিছুদিন পর ভালো চাকরির প্রলোভনে ওই নারীকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয়। সেখানে কেরালা পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

​এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে জাহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

​আদালত মানব পাচার দমন আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

​অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে অতর্কিত হামলা চালানো ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সৈয়দ শামস্ তাবরেজ (৫৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।

​এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সৈয়দা মোশায়রা মাহবুবা।

​তিনি সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সৈয়দ শামস্ তাবরেজ ও তার স্ত্রী লোহার রড, বাঁশের লাঠি এবং কাঠের বাটাম দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এই ন্যাক্কারজনক হামলায় তারা শারীরিকভাবে মারাত্মক জখম হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

 

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলাটিতে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৯১ জনে। আর এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাসেবা শেষে দুই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৩৬ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। বাকি ১৪ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছেন।

​বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন ভর্তি আছেন।