খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরবাসীকে ফুল দিয়ে বরণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৭ এএম
ফরিদপুরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরবাসীকে ফুল দিয়ে বরণ

ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হলে তার বিরোধীতা করে আন্দোলনে নামে মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার বাসিন্দারা। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ফরিদপুরের মানুষের সাথে উতপ্ত বাক্য বিনিময় এই অঞ্চলে বেশ কয়েকদিন আলোচনায় ছিল।

মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার মানুষ ফরিদপুর বিভাগে থাকতে রাজি না হওয়ায় এই জেলায় আসা না আসা নিয়েও নানা কথা চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার (২৫ অক্টোবর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলা হিসেবে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের ভ্যেনু ছিল ফরিদপুর।

ফলে পরীক্ষার্থীয় অংশ নিতে ফরিদপুরে আসতে হয়েছে মাদারীপুর ও শরিয়তপুরবাসীদেরও। তাদের যেন ফরিদপুরে থাকা খাওয়ার কোন সমস্যা না হয় তার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন ফরিদপুরের ছাত্রনেতা খায়রুল ইসলাম রোমান।

খায়রুল ইসলাম রোমান বলেন, পোস্ট দেওয়ার পর ওই দুটি জেলার ৪০ জন পরীক্ষার্থী তার সাথে যোগাযোগ করেন। তারা একদিন আগে গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর চলে আসেন। তাদের হাতে লাল গোলাপ তুলে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই ৪০ জনের আবাসন ও খাওয়ার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করা হয়।

বেলা ১১টার দিকে এ নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে কেন্দ্রের সামনে “আমরা ফরিদপুরবাসী”র পক্ষ থেকে দূর দূরান্ত থেকে আগত অন্তত দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীদের হাতে খাবার পানি, জুস, ফুল দেওয়া হয়।
পরীক্ষা শুরুর আগে তাদের মোবাইল ও ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয় এবং পরীক্ষার পর তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন করে তরুণদের উদ্যেগে গঠিত ফরিদপুরের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর সমন্বয়ক ছিলেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী খায়রুল ইসলাম রোমান।

শরীয়তপুরের পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিভাবে সকালে রওনা দিয়ে পরীক্ষা দিতে আসবো। আবার একদিন আগে এসে কোন হোটেলে থাকবো। কিন্তু হঠাৎ ফেসবুকে এমন আন্তরিক পোস্ট দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ফরিদপুর শহর অনেক সুন্দর। একসময় আমরা একই জেলার মানুষ ছিলাম।

মাদারীপুর থেকে আসা পরীক্ষার্থী জহির উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দেখে ভেবেছিলাম কি না কি হয় সত্যি নাকি মিথ্যা বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আসার পর ফরিদপুরের মানুষের আন্তরিকতা দেখে অবাক হলাম। দূর থেকে এসেও এক বারের জন্যও মনে হয়নি ভিন্ন কোন জায়গায় এসেছি। ফরিদপুরে পরীক্ষা দিতে এসে আন্তরিকতার যে ছোঁয়া পেয়ে গেলাম তার তুলনা নেই।

“আমরা ফরিদপুরবাসী”র ব্যানারে ছিলেন, আবরার ফাহাদ, কাজী রিয়াজ, মাহমুদুল হাসান, নিলয় চৌধুরী, পারভেজ হাসান, বাহারুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, অমি চৌধুরী, ইয়াসীন মন্ডল, রবিউল ইসলাম, রাহুল ভান্ডারী প্রমুখ।

আবরার ফাহাদ বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ফরিদপুর সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা আমাদের আচরণের মধ্যে দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যে ভাবে তারা আমাদের চিত্রিত করার চেষ্টা করছে সেটি সঠিক নয়। আমরা সকলেই বৃহত্তর ফরিদপুরের অধীবাসী। আমরা একই সংস্কৃতির মানুষ।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।