খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

ক্ষমতার পালাবদলে দল বদল : সালথায় আ.লীগ ছাড়লেন দুই নেতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার পালাবদলে দল বদল : সালথায় আ.লীগ ছাড়লেন দুই নেতা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আ.লীগের দুই নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন— সালথা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলু মাতুব্বর এবং আওয়ামী লীগের সোনাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য জালাল মোল্লা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফজলু মাতুব্বর বলেন, “আওয়ামী লীগে আমার যে পদ ছিল, আজ থেকে তা থেকে পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকব না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অপরদিকে জালাল মোল্লা বলেন, “আমি মূলত মহল্লাভিত্তিক রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের কোনো পদে আমি আছি কিনা তা পরিষ্কারভাবে জানা ছিল না। তবে শুনেছি ইউনিয়ন কমিটিতে আমাকে সাধারণ সদস্য করা হয়েছে। আজ থেকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে আমি পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকব না। বিএনপির আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে, তাই আমি বিএনপির রাজনীতি করতে ইচ্ছুক।”

তিনি আরও জানান, এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা আজিজুল হক, বিএনপির সাবেক নেতা তারা মিয়া, যুবদল নেতা লিয়াকত হোসেন, শহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ছলেমান বিশ্বাস (৫৫) নামে এক কৃষকের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার ঘটনায় তারই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার মা-মেয়েকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি আমির আলী বিশ্বাসের স্ত্রী প্রেমা বেগম (৪২) ও মেয়ে শম্পা আক্তার (২২)।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে বড় ভাই ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন ছোট ভাই আমির আলী বিশ্বাস। এ ঘটনায় কব্জি হারানো ছলেমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৪৮) বাদী হয়ে আমিরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আমিরের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত- বাবার সম্পত্তি (জমিজমা) ভাগাভাগি নিয়ে নগরকান্দার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা গ্রামের মৃত তোতা বিশ্বাসের বড় ছেলে ছলেমান বিশ্বাসের সঙ্গে ছোট ছেলে আমির আলী বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির আলী ধারালো দা দিয়ে তার বড় ভাই ছলেমানের ওপর হামলা চালায়। এতে ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাবিবুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের আরিফুল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া মধুমতী নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমানের নির্দেশনায় পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আদালত পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে বুধবার (১৩ মে) তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।