খুঁজুন
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

ফরিদপুরের পদ্মায় ধরা পড়ল ৭ কেজি ওজনের বিরল শাপলা পাতা মাছ

আসলাম বেপারী, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০৪ পিএম
ফরিদপুরের পদ্মায় ধরা পড়ল ৭ কেজি ওজনের বিরল শাপলা পাতা মাছ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হাজিগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ৭ কেজি ওজনের একটি বিরল শাপলা পাতা মাছ। স্থানীয়ভাবে শাপলাপাতা মাছ, পানপাতা মাছ ও হাউস মাছ নামে পরিচিত এ মাছটি বিদেশে রেফিন ফিস বা স্টিং ফিস হিসেবে পরিচিত।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে জেলে সলেমানের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে জেলেরা মাছটি বিক্রির জন্য চরভদ্রাসনের সদর বাজারে নিয়ে এলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। বাজারে আগে কখনো এত বড় শাপলা পাতা মাছ দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

মাছ ব্যবসায়ী মো. সুমন প্রামাণিক বলেন, মাছটির ওজন ছিল ৭ কেজি। বাজারে আনার পর দরদাম শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পদ্মায় নানা জাতের মাছ মিললেও এমন আকারের শাপলা পাতা মাছ এই অঞ্চলে অত্যন্ত বিরল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, পদ্মা নদীতে ধরা পড়া এ মাছটি মূলত বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, যা স্থানীয়ভাবে হাউস মাছ নামে পরিচিত। বাজারে এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। সাধারণত নদী বা নদীমূলক জলাশয়ে এ মাছ ধরা পড়ে।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সকলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে: মাওলানা সোহরাব হুসাইন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৯ পিএম
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সকলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে: মাওলানা সোহরাব হুসাইন

ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা সোহরাব হুসাইন বলেছেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সকলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে ভিন্ন দল থাকবে, ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন ধর্ম থাকবে—সবার অংশগ্রহণেই সমাজ ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব।”

রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের বাড়ি-ঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে নিজেরাই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে অযোগ্য করে তুলেছে। এটি কোনো রাজনীতি নয়, এটি বর্বরতা।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল মুরাদ, উপজেলা নায়েবে আমির আজিজুর রহমান মজনু, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী সিদ্দিকী, গট্টি ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মো. তুফাজ্জেল হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান, বল্লভদী ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মিকাইল হুসাইন, রামকান্তপুর ইউনিয়ন সভাপতি মো. ফারুক হুসাইন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি–সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।;সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারের তিনটি স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয় এবং অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মধুখালীতে দোয়া মাহফিল

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪১ পিএম
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মধুখালীতে দোয়া মাহফিল

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মেগচামী মৃধা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মেগচামী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম মৃধার সভাপতিত্বে ও মধুখালী উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা রাজিবুল হাসানের সঞ্চলনায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দীন আহম্মেদ সতেজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক আব্দুল মান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য সাইফুল শিকদার, মেগচামী ইউনিয়ন যুবদলের আহব্বায়ক আজম মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহব্বায়ক আইউব শেখ, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহব্বায়ক আয়নাল শেখ, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মৃধা, ইউনিয়ন প্রজন্ম দলের সেক্রেটারি কায়োম শেখ, বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী, যুবদল নেতা মহসিন শেখ প্রমূখ।

এসময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা ও আপোষহীন নেত্রী। তিনি দেশের মানুষকে আগলে রেখেছেন। এখন তিনি অসুস্থ। আমরা বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।

এছাড়াও উপস্থিত সবাইকে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করার আহবান জানান তিনি। পরে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘর। এর মধ্যে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছয়টি তাঁত। প্রতিটি তাঁতে দুজন করে বসে একসঙ্গে কাজ করছেন ১২ জন। রেশম সুতা, বাইনা সুতা ও জরির বুননে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি।

এভাবেই মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট্ট টিনের ঘরে মাসে ২২ থেকে ২৫টি জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেগুলো বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই কারখানার অবস্থান ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামে।

অজপাড়াগাঁয় বসেই বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া জামদানি বুনছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ‘অনেকে বলেন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তৈরি জামদানি শাড়ির মান ভালো। এ মিথ আমি ভেঙে দিয়েছি। সঠিক উপকরণের সঠিক ব্যবহার করলে এবং কাজের প্রতি মমত্ববোধ ও একাগ্রতা থাকলে দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই ভালো মানের জামদানি শাড়ি প্রস্তুত করা সম্ভব।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির মান ভালো হওয়ার কারণে ক্রেতারা বাড়িতে এসে কিনে নেন। আবার বিভিন্ন পার্বণ উপলক্ষে আগে থেকেও তাঁকে শাড়ির ফরমাশ দিয়ে রাখেন অনেকে। আবার অনেক সময় রূপগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতেও পাঠান তাঁর শাড়ি।

প্রথমে শিখেছেন, এখন শেখাচ্ছেন

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল। বাবা থেকে ছেলে, ওস্তাদ থেকে শাগরেদ—শ্রুতি ইতিহাস আর হাতে–কলমে শেখার মধ্য দিয়ে পরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে চলেছে এই বয়নশিল্প।

অভাবের সংসারে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি মোস্তাফিজুর রহমানের। এ কারণে শৈশব থেকেই জীবিকার সন্ধানে নিয়োজিত করেন নিজেকে। ১৬ বছর বয়সে ২০০৭ সালে তিনি চলে যান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জামদানিপল্লিতে। সেখানেই তিনি জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শেখেন। এরপর রূপগঞ্জেই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। সেখানে কাটিয়ে দেন ১৪ বছর।

একসময় মন চায় নিজ এলাকায় ফিরতে। ২০২১ সালে তিনি ফিরে আসেন ফরিদপুরের পানাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে। সেখানেই একটি তাঁত বসিয়ে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। আগ্রহী অন্যদেরও বুননের কাজ শেখাতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁত ও কারিগরের সংখ্যা। এখন তাঁর মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করছেন তিনিসহ ১২ জন। ইতিমধ্যে স্ত্রী নিলা বেগম তাঁতের কাজ শিখে নিয়েছেন। তিনিও সংসারের কাজের ফাঁকে স্বামীর সঙ্গে জামদানি বোনায় হাত লাগান।

নিজের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই মোস্তাফিজুরের। শাড়ি বিপণনের জন্য তিনি একটি নামও দিয়েছেন—‘মুসলিম জামদানি ঘর’। যদিও বাড়ির কোথাও এ নামে কোনো সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়নি। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শাড়ি উৎপাদনে এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। একটা শাড়িতে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ রেশমি সুতা থাকে। রেশমি সুতা কেনা হয় রাজশাহী থেকে। একটি শাড়িতে সুতা বাবদ ব্যয় হয় অন্তত দুই হাজার টাকা। সুতা কেনা থেকে শুরু করে কারিগরদের বেতন দেওয়ার পরও প্রতি মাসে তাঁর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন
মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন

আছে সংকটও

ফরিদপুর সদর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা লাগোয়া পানাইল গ্রাম। এলাকায় বেকারের সংখ্যা কম নয়। তারপরও মোস্তাফিজুরের কারখানায় জনবলসংকট লেগেই থাকে। কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর জানান, অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, মানুষ পরিশ্রম করতে চায় কম, কাজের প্রতি ততটা মনোযোগী হতে পারেন না। ধরে রাখতে পারেন না ধৈর্য। এ কারণে শিখতে আসা ব্যক্তিদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও কম নয়। এরপরও গ্রামে গ্রামে ঘুরে লোক সংগ্রহ করেন তিনি। মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সারা বছরই জনবলের সংকট থাকে। তারপরও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করেন আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন (২৯)। আগে তিনি রূপগঞ্জে কাজ করতেন। পরে এলাকায় এসে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় যখন এ কাজ শুরু হলো এবং দেখলাম সুযোগ-সুবিধা একই, এ জন্য আমি মোস্তাফিজুর ভাইয়ের কারখানায় এসে যোগ দিয়েছি। ঘরের ভাত খেয়ে কাজ করতে পারছি। এতে আমার লাভই হচ্ছে।’

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামের তরুণ মো. হামীমের (১৮) জামদানি বুননের হাতেখড়ি মোস্তাফিজুরের কাছেই। দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজুর ভাই আমাকে ধইরা নিয়া আইসা তাতের কাজ শেখান। প্রথম প্রথম কষ্ট হতো, মনও বসত না। কাজ শেখার পর যখন টাকা পাওয়া শুরু করলাম, তখন উৎসাহ বাইড়া গেল। এখন কাজে না এলে ভালো লাগে না।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন টগরবন্দ ইউনিয়নের লাগোয়া নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. জিহাদ (১৯)।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ভাঙ্গা বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ জানান, দেশের যেসব জেলায় তাঁতির সংখ্যা বেশি, যেমন নরসিংদী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়াতে সমিতির মাধ্যমে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলে কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। তাই এ এলাকার তাঁতিদের তাঁরা প্রশিক্ষণ দিতে পারেন না। মোস্তাফিজুরকে একটা সমিতি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল
জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল

‘জামদানিতে ফাঁকফোকর নেই’

মোস্তাফিজুরের কারখানায় তৈরি জামদানি শাড়ি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমীনের। তিনি ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই বছরের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা ইউএনও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই উপপরিচালক বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ থেকেও বেশ কয়েকটি জামদানি শাড়ি কিনেছি। সেগুলোর থেকে মোস্তাফিজুরের শাড়ির গুণগত মান অনেক ভালো।’ তিনি বলেন, জামদানি শাড়িতে অনেক মারপ্যাঁচ আছে, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে এক ইঞ্চি শাড়ি ছোট হলেও বিক্রেতার লাভ। তবে মোস্তাফিজুরের শাড়ির দৈর্ঘ্য যেমন বড়, প্রস্থও তেমন বড়। এককথায় বলা যায়, মোস্তাফিজুরের হাতের কাজ অসাধারণ এবং কোনো ফাঁকফোকর নেই।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর ‘রাজন জামদানি হাউস’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি বিক্রি করে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর আলম বলেন, ‘মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি অরিজিনাল জামদানি। ওর কাজ অসাধারণ। এ কাজে ওর দক্ষতা শতভাগ।’

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে
৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে

মোস্তাফিজুরের শাড়ির ক্রেতা আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের বাসিন্দা দীপ্তি কুণ্ডুও। তিনি বলেন, ‘আমাদের গর্বের বিষয়, আলফাডাঙ্গাতেই উন্নত মানের শাড়ি প্রস্তুত করছেন মোস্তাফিজুর। যে মানের শাড়িতে মোস্তাফিজুর যে টাকা নেন, এ মানের একটি শাড়ি অন্য কোনো দোকানে গিয়ে কিনতে হলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়। তাই মোস্তাফিজুরের শাড়িই আমাদের ভরসা।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিজের যোগ্যতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। নিজের পুঁজিতে যতটুকু করে যাওয়া সম্ভব, তাই তিনি করে যাচ্ছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, মোস্তাফিজুর এলাকার গর্ব। তাঁর তৈরি জামদানি শাড়ি সবার প্রিয় ও পছন্দের। তাঁর প্রত্যাশা, মোস্তাফিজকে ঘিরে এ এলাকায় জামদানি শাড়ি তৈরির একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।