খুঁজুন
, ,

হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদরে ফরিদপুর, ব্যাহত সড়ক ও নৌ চলাচল

মাহমুদুল হাসান আরিফ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদরে ফরিদপুর, ব্যাহত সড়ক ও নৌ চলাচল

ফরিদপুরে হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বেলা বাড়লেও কুয়াশার ঘনত্ব কমেনি, ফলে সড়ক, নৌপথ ও রেলপথে চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–দৌলদিয়া–খুলনা মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল রয়েছে অত্যন্ত ধীরগতির।

সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দৃশ্যমানতা নেমে আসে ২০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে। অনেক স্থানে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এতে করে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সদর, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সালথা, মধুখালী ও সদরপুর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে কুয়াশার প্রভাব ছিল বেশি। গ্রামাঞ্চলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু এলাকায় অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুলে পাঠাননি।

কুয়াশার কারণে নদীপথেও প্রভাব পড়ে। ফরিদপুরের পদ্মা ও মধুমতী নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে ছোট নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কুয়াশা কেটে যাওয়ার আগে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন মৌসুমে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক ঘটনা। ফরিদপুরে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসের গতি কম থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ভোর ও সকালে এমন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুয়াশার প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, শীতকালীন ফসল যেমন বোরো ধান, গম ও শাকসবজির জন্য হালকা কুয়াশা উপকারী হলেও দীর্ঘ সময় ঘন কুয়াশা থাকলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকরা কুয়াশা ও শীতজনিত কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাক ব্যবহার এবং সকালবেলা অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশা ফরিদপুরের জনজীবনে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।