খুঁজুন
, ,

পরপর দুই বছর কেন বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বন্ধ করলো অন্তর্বর্তী সরকার?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
পরপর দুই বছর কেন বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বন্ধ করলো অন্তর্বর্তী সরকার?

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে যায় বিজয় উদযাপন প্রস্তুতি। প্রায় প্রতিবছরই ১৬ই ডিসেম্বর দেশটির বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সেই উদযাপনেরই একটি অংশ হিসেবে থাকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করে।

তবে এক বছর পর এ বছরও এই অন্তর্বর্তী সরকার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে।

গত ১৯ শে নভেম্বর দেশটির স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “বিজয় দিবসে অস্থিরতার আশঙ্কা নেই। আগে যেমন ছিল এবারও কর্মসূচি থাকবে। বরং আগের চেয়ে কর্মসূচি বেশি হবে। তবে এবারও প্যারেড কর্মসূচি হবে না।”

কেবল রাজধানী নয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়েও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হচ্ছে না বলে জানানো হয়।

তবে বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করে এবং এটি ঐতিহাসিক রেওয়াজ বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, কুচকাওয়াজ হলে রেওয়াজ অনুযায়ী সামরিক বাহিনীগুলোকে বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সালাম দিতে হবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’, এটিকে কুচকাওয়াজ না হওয়ার পেছনে একটি কারণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

এ বিষয়ে কথা বলতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিজয় দিবসে সরকারের উদ্যোগ কী?

এ বছরও কুচকাওয়াজ হবে না- নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই তথ্য জানানোর পর গত পাঁচই ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, কুচকাওয়াজ বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। প্রস্তুতির সময় না পাওয়ায় কুচকাওয়াজ হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

মি. আলম সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর অগাস্টের পাঁচ তারিখের পর থেকে বাংলাদেশের মিলিটারি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুরো বাংলাদেশে নিয়োজিত আছে।

“৬০-৭০ হাজার আর্মি ট্রুপস তারা ডিউটি করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে সাহায্য করার জন্য। সেজন্য একটা কুচকাওয়াজ করার জন্য যে প্রস্তুতি থাকে সেটা তো অনেক ক্ষেত্রেই এই সময়ে আমরা পাচ্ছি না সেজন্য ” বলেন মি. আলম।

তিনি মন্তব্য করেন, কুচকাওয়াজ নিয়ে যারা পরিস্থিতি ঘোলা করতে চাচ্ছেন, তারা সেনাবাহিনী ১৬ মাস বাইরে ডিউটি করছেন এমন বিষয় আমলে নিচ্ছেন না।

তাদের ক্যান্টনমেন্টে থাকার কথা ছিল, কিন্তু তারা টহল দিচ্ছেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, বলেন তিনি।

এদিকে, ১০ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ এবার সর্বাধিক পতাকা উড়িয়ে প্যারাসুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদ্‌যাপনে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করবেন। এটিই হবে বিশ্বের বুকে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়বে।

একইসাথে বিজয় দিবসের দিন সকাল এগারটা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য শহরেও তিন বাহিনী ফ্লাই-পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে।

সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, আনসার বাহিনী ও বিএনসিসি’র বাদক দল বাদ্য পরিবেশন করবে।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজয় মেলার পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জাদুঘর উন্মুক্ত রাখাসহ নানা আয়োজন করবে অন্তর্বর্তী সরকার। কনসার্ট, জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ নানা অনুষ্ঠানও আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে।

একইসাথে প্রতিবছরের মতো এবারেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

চব্বিশে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ কুচকাওয়াজ বাতিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে।

“এটা আসলে একটি প্রতীকী আত্মসমর্পণ। পাকিস্তান যে দেশটিকে ১৯৭১ সালে হারিয়েছিল, সেই পাকিস্তানের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা শক্তি এখন বাংলাদেশে ক্ষমতায়। তারা কীভাবে সেই পরাজয়ের দিনটি উদযাপন করবে?” ফেসবুক পোস্টে বলেছে আওয়ামী লীগ।

কুচকাওয়াজে কী থাকে?

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগের বিজয় দিবসগুলোতে দেখা গেছে, শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতারাসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামতো সাভারে স্মৃতিসৌধে।

এছাড়া রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর যেটি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড, সেখানে সেনা, নৌ ও বিমান এই তিন বাহিনীর এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতো। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকতেন। তিন বাহিনীর প্রধানও সেখানে উপস্থিত থাকতেন।

২০২৩ সালের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিন বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সালাম গ্রহণ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এছাড়া বিমান বাহিনী ফ্লাই পাস্ট এবং অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে করে। আকাশ থেকে নেমে আসেন প্যারা ট্রুপাররা।

বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে সাঁজোয়া যানগুলো এই কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবায়দা নাসরীন মনে করেন, বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ অর্থ হলো একটা রণকৌশল, শৃঙ্খলা এবং এমন একটা উদ্যমের জায়গা যা বহুবছর ধরে এটি বিজয় এবং স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

“সরকারকে খোলাসা করতে হবে কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ হলো। গতবছর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছে, এবার কোনো কারণই দেখায়নি। কিন্তু কুচকাওয়াজ আর অন্যান্য অনুষ্ঠান কোনোভাবেই রিপ্লেসের জায়গা না,” বলেন মিজ নাসরীন।

 

কেন কুচকাওয়াজ হয়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, প্রজাতন্ত্র দিবস বা একটি দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠানের রেওয়াজ রয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে লেখেন মহিউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, ভারত, পাকিস্তান, চীন, উত্তর কোরিয়াসহ এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সামরিক সক্ষমতার প্রকাশে এই ধরনের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

মি. আহমদ বলেন, “যেসব দেশে কুচকাওয়াজ হয়, প্রায় প্রতিটি দেশই তাদের সামরিক সক্ষমতার নিদর্শন ডিসপ্লে করে। যেমন- ভারত তাদের মিসাইল ডিসপ্লে করে।”

“আমাদের এখানে রাষ্ট্রবাদের প্রকাশটা দেখি মিলিটারি বাহিনীর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে। রাষ্ট্রবাদীরা মনে করে সামরিক সরঞ্জাম, মারণাস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এটা দিয়েই বুঝি স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়,” বলেন মি. আহমদ।

মি. আহমদ মনে করছেন, এ বছর কুচকাওয়াজ না হওয়ার দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি আর্থিক এবং অপরটি রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান।

রেওয়াজ অনুযায়ী, বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে তিন বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে বিব্রত বোধ করে বলে মনে করেন মি. আহমদ।

“কুচকাওয়াজে সালাম নেন রাষ্ট্রপতি। এখন তো সমস্যা হয়ে গেলো যে, এই রাষ্ট্রপতিকে তো অফিসিয়ালি ডিসপ্লে করা যাচ্ছে না। কেননা এটা বিব্রতকর এই সরকারের জন্য এবং অন্য আরো অনেকের জন্য,” বলেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

কেন বিব্রতকর এমন প্রশ্নে মি. আহমদ বলেন, “কারণ তিনি আমাদের পতিত ফ্যাসিস্ট শাসকদের অবশেষে হিসেবে থেকে গেছেন এই রাষ্ট্রপতি। কুচকাওয়াজের সাথে সাথে তো তাকেও ডিসপ্লে করতে হয় যেহেতু তিনি সালাম নেন। তো সেটা খুব বিব্রতকর।”

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য দেশটি প্রস্তুত- এমন বিষয়ও বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের প্রতীকী রূপ।

মিজ নাসরীন অবশ্য মনে করেন, এ বছর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখার পেছনে সরকারের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

“কোনো কারণ প্রদর্শন না করে কুচকাওয়াজ বন্ধ হওয়া ইঙ্গিত করে যে অনেক কিছুই বন্ধ হবে। মেলা বা অন্যান্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কোনোভাবেই কুচকাওয়াজের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিকভাবে চর্চিত বিষয়কে খারিজ বা প্রতিস্থাপন করে না,” বলেন মিজ নাসরীন।

কুচকাওয়াজ বন্ধের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের “বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে” বলেও উল্লেখ করেন মিজ নাসরীন।

তিনি বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাপ থাকতে পারে সরকারের ওপরে, কিংবা সরকার কোনো না কোনো গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য এটা করতে পারে তারা।”

কুচকাওয়াজ হচ্ছে এমন একটি প্রতীকী শক্তি যেটার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ, গৌরব, দেশপ্রেমকে আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি মনে করেন। “মুক্তিযুদ্ধকে মানুষ যাতে পুনরায় স্মরণ করতে না পারে সেজন্য বাধা দেওয়া, হুমকি তৈরি করাও” উদ্দেশ্য হতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক মিজ নাসরীন।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে পদ্মার গর্জনে মুখর মদনখালী স্লুইসগেট, নিরাপত্তাহীনতায় শঙ্কিত দর্শনার্থীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মার গর্জনে মুখর মদনখালী স্লুইসগেট, নিরাপত্তাহীনতায় শঙ্কিত দর্শনার্থীরা

ফরিদপুর শহরের কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্ব। পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎসমুখে অবস্থিত মদনখালী স্লুইস গেট। একসময় এটি ছিল মূলত পানি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে ফরিদপুরবাসীর অন্যতম জনপ্রিয় অবকাশ ও বিনোদন কেন্দ্রে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার উত্তাল ঢেউ, স্লুইস গেট খুলে দেওয়ার সময় প্রবল বেগে কুমার নদে পানি প্রবেশের গর্জন, নদীর শীতল বাতাস আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিদিনই টেনে আনে শত শত দর্শনার্থী। আর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয়দের ভাষায়, ফরিদপুরে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিনোদনের জায়গা খুবই সীমিত। সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করছে মদনখালী স্লুইস গেট এলাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন এখানে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ বসে গল্পে মেতে উঠেছেন। শিশুদের হাসি, তরুণদের আড্ডা আর নদীর পানির গর্জন মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবাহের দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। গেট খুলে দিলে পদ্মা নদীর পানি প্রবল স্রোতে কুমার নদে প্রবেশ করে। পানির সেই গর্জন আর সাদা ফেনার দৃশ্য মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। নদীতে ছোট ছোট নৌকার চলাচল এবং ভাসমান ভেলার দৃশ্য যেন গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে।

এই দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অস্থায়ী ব্যবসা। ঝালমুড়ি, বাদাম, চটপটি, আইসক্রিম, ভুট্টা, কোমল পানীয়সহ নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে প্রতিদিন। ভাসমান নৌকাতেও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকাও এখন এই পর্যটকসমাগমের ওপর নির্ভরশীল।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি চোখে পড়ে নানা অব্যবস্থাপনাও। এত মানুষের সমাগম হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। নেই কোনো স্থায়ী বেঞ্চ। দর্শনার্থীদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুরো এলাকায় নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন। ফলে বাদামের খোসা, ঝালমুড়ির প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল ও বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র ফেলে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি নদীর পানিও দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো নিরাপত্তার অভাব। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় পানিতে ডুবে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরপরও এখানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়নি। এমনকি স্লুইস গেটের দুই পাশের অনেক নিরাপত্তা রেলিং ভেঙে থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। অসাবধানতাবশত যে কেউ নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

ফরিদপুর শহরের সরকারি চাকরিজীবী আক্কাস মিয়া বলেন, “পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য জায়গাটি খুবই সুন্দর। নদীর বাতাস আর পরিবেশ মনকে প্রশান্ত করে। তবে এখানে বসার ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

ভাসমান ঝালমুড়ি বিক্রেতা মাজেদ মোল্লা বলেন, “প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। ছুটির দিনে তো দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। এই জায়গার কারণে আমাদের মতো অনেকের সংসার চলছে।”

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এনায়েত হোসেন বলেন, “ফরিদপুরে এমন খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব কম। সন্তানদের নিয়ে এখানে আসতে ভালো লাগে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।”

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অন্তরা ইসলাম, যে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে, সে বলে, “নদীর পানি আর নৌকা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে আবার আসতে চাই।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “ফরিদপুরে তেমন কোনো বিনোদনের জায়গা নেই। তাই সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ত মানুষ ছুটির দিনে এখানে এসে কিছুটা স্বস্তি খোঁজেন। কিন্তু প্রতিবছরই এখানে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। গত বছরও তিনজন তরুণ সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাই দ্রুত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ভাঙা রেলিং সংস্কার এবং স্লুইস গেটের ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পানিতে নামা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “দর্শনার্থীদের জন্য স্থায়ী বেঞ্চ নির্মাণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং বর্ষা মৌসুমে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে মানুষ আরও নিরাপদে এখানে সময় কাটাতে পারবেন। এতে ছিনতাই, ইভটিজিং কিংবা অন্য অপরাধও কমবে।”

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে কোনো স্থান জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেখানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের সচেতনতা—সবকিছুই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নজর দিবেন এমনটাই আশা রাখছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মদনখালী স্লুইস গেট এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরের মানুষের কাছে মদনখালী স্লুইস গেট এখন শুধু একটি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তি খোঁজার একটি প্রিয় ঠিকানা। তবে এই সৌন্দর্যকে টেকসই করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তা নিশ্চিত করা গেলে মদনখালী স্লুইস গেট শুধু ফরিদপুর নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় নদীকেন্দ্রিক বিনোদনস্থল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত রোগী ৪ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত রোগী ৪ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুর জেলায় হাম (মিজলস) সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০৬ জনে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে ২১ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বোয়ালমারীতে, যেখানে নতুন আক্রান্ত ২৮ জন। এছাড়া আলফাডাঙ্গায় ২৫ জন, সালথায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৯৯ জন রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও ১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রবাসীর সহায়তা, পেলেন চাল-ডালসহ নগদ অর্থ

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রবাসীর সহায়তা, পেলেন চাল-ডালসহ নগদ অর্থ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়েছে চারটি দোকান। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ও একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলো। এমন খবরে তাঁদের হাতে সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার তুলে দিয়েছেন ফরহাদ ওহাব আকন নামে এক কাজাখস্তান প্রবাসী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সিরামদি বাজারে ওই প্রবাসীর পক্ষ থেকে এই সহায়তা তুলে দেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেকের মাঝে নগদ অর্থের পাশাপাশি এক বস্তা চাল, ডাল, আলু, তেল সহ শুকনো খাবার তুলে দেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত ৪ টার দিকে বৈদুতিক শটসার্কিটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে বাজারটিতে। খবর পেয়ে সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় দোকানগুলো। এ সময় দুটি মুদি দোকান, একটি ফার্মেসী ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান ঘরসহ মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান।

পরে খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে নিজ এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সহায়তা তুলে দেন। সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানি নজরুল ইসলাম বলেন- এই দোকান চালিয়ই আমার সংসার চলে৷ কিন্তু এক রাতে আমার সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের কথা জানতে পেরে কাজাখস্তানের ফরহাদ আকন আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাকে ভাল রাখে।

সহায়তা প্রদানকারী প্রবীণ ব্যক্তি মো. শামসুল হক বলেন- ‘এটা মানবিক কাজ, সমাজের বিত্তশালী প্রতিটি মানুষের উচিৎ অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের এলাকারই সন্তান সুদূর কাজাখস্তান দেশে অবস্থান করে এই পরিবারগুলোর মাঝে কিছু সহায়তা পাঠিয়েছেন। ছেলেটি ছোট সময় থেকেই অসহায় মানুষের মাঝে ছুটে আসছেন। সকলে দোয়া করবেন সে যেন ভবিষ্যতে এভাবে সেবা করে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফরহাদ ওহাব আকন ওই ইউনিয়ের আকনের ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব আকনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর কাজাখস্তানে অবস্থান করছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ-কাজাখস্তান কমিনিউটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কাজ করে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন।